চলতি পথে মন পড়ে রয়

রাজা মুকুট রায়ের রাজত্ব। বেশ প্রতাপশালী ছিলেন তিনি। প্রজাদের জলকষ্ট দূর করার জন্য খননকাজ শুরু করলেন। যত নিচ পর্যন্ত ঢোলের শব্দ শোনা যায়, ততই গভীর করা হয়েছিল এই দিঘি। বলছিলাম ঢোলসমুদ্র দিঘির কথা। গত ২০ নভেম্বর ঝিনাইদহের এই বিশাল দিঘি মুগ্ধ করল আমাদের। মৃদু বাতাস বইছে। আমরা চারজন মেয়ে দিঘির সামনে দাঁড়ানো। একটু আনমনা হয়ে গেলাম। চোখের সামনেই যেন খননকাজ চলছে। শুনতে পাচ্ছি ঢোলের শব্দ!


ঝিনাইদহের ঢোলসমুদ্র দিঘি
ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি ১৮ নভেম্বর। দুটি স্কুটি নিয়ে ঘুরছি চারজন মেয়ে। ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাগুরা হয়ে ঝিনাইদহ। এবার আমাদের গন্তব্য চুয়াডাঙ্গা। বুঝতে পারিনি, দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোং দেখেই সন্ধ্যা হয়ে যাবে। সে যাক গে, আমাদের পৌঁছাতে হবে মুজিবনগর। স্কুটি চালু করলাম। গতি ৬০ কিলোমিটার ঘণ্টায়। রাস্তা পুরোই অন্ধকার। শীতে কাঁপছি। কিন্তু শক্ত করে স্টিয়ারিং ধরা। শুনেছি, চুয়াডাঙ্গার রাস্তায় ডাকাত থাকে রাতে। পরিবেশও ছমছমে। কোনো আলোই নেই। হেডলাইটের আলোতেই দেখছিলাম সারি সারি গাছ। মোড়গুলোতে কিছু দোকানে লণ্ঠনের আলো টিমটিম করছে। রাস্তাগুলো কিন্তু খুবই সুন্দর। গুগল ম্যাপ দেখে এগোচ্ছি আমরা। নেভিগেশনের দায়িত্ব পিলিয়নদের (পেছনে বসা সহযাত্রী)। প্রায় দেড় ঘণ্টা ড্রাইভের পর মুজিবনগর কমপ্লেক্স ‘সূর্যোদয়’-এ এলাম। ঘুটঘুটে অন্ধকার। গেটে কেয়ারটেকার টর্চের আলো ফেলতেই সার্চলাইট মনে হলো। ভুতুড়ে সিনেমার মতো এগিয়ে এসে গেট খুলে দিলেন তিনি। পুরো ভবনটা অন্ধকারে মোড়া। সেখানে শুধু আমরা চারজন। রাস্তা থেকে শুরু করে এই সময় পর্যন্ত নিজেদের মনে হচ্ছিল কোনো অ্যাডভেঞ্চার সিনেমার চরিত্র। সুনসান ভবনের দরজা খুললাম। আলোর সুইচ টিপতেই ফিরে এলাম বাস্তবে।

সকালে উঠে আমরা যাই মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে। ওখানে উপস্থিত হন সুধীর মল্লিক, যিনি ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণের সময়ও ছিলেন। তিনিই দেখাশোনা করেন স্মৃতিসৌধটা। সামনেই সেই আম্রকানন। সারি সারি আমগাছ। সুধীর মল্লিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেড়ে সেদিনের স্মৃতিচারণা করলেন আরেকবার। আমরা তখন মুগ্ধ শ্রোতা। দেখলাম বিশাল একটি লাল মঞ্চ। মঞ্চ ঘিরে আছে ২৩টি দেয়াল। এই দেয়ালগুলো ২৩ বছরের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক। প্রতিটি দেয়ালের ফাঁকে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র। পাকিস্তানিদের অত্যাচারের চিহ্ন এটি। বেদিতে আঁকা হয়েছে অসংখ্য গোলাকার বৃত্ত, যার তাৎপর্য ১ লাখ বুদ্ধিজীবীর খুলি। স্মৃতিসৌধের পাশেই বিশাল এলাকা নিয়ে আছে বাংলাদেশের মানচিত্র। সেখানে একেকটি জায়গার যুদ্ধকালীন ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছোট ছোট ভাস্কর্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের কথা ভাবতেই বুকটা গর্বে ভরে উঠল। তাঁদের যুদ্ধের গল্প নিয়ে কথা বলতে বলতেই সাহস আর আত্মপ্রত্যয় নিয়ে আমরা রওনা দিলাম কুষ্টিয়ার পথে।

সন্ধে হলো সূর্য নামে পাটে
দুপুরে যখন কুষ্টিয়ায় পৌঁছালাম, আমাদের গায়ের নীল টি-শার্ট তখন ধূসর! রাস্তার বর্ণনা আলাদা করে বোঝানোর হয়তো দরকার পড়বে না। কোনোমতে দুপুরে খেয়েই রওনা দিলাম শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি দেখতে। ‌কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ৪৫ মিনিটের পথ। দোতলা একটি পরিপাটি বাড়ি। ভেতরে আছে রবিঠাকুরের ব্যবহার করা নানা ধরনের সরঞ্জাম। সবচেয়ে অবাক হলাম রবীন্দ্রনাথের হাতে আঁকা চিত্রকর্ম দেখে। দোতলায় উঠে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলাম আমরা। বিকেলের মিষ্টি আলো আর সেই রোদে চিকমিক করা দালান যেন নিয়ে যাচ্ছে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে। সন্ধ্যা করে গেলাম লালন শাহর মাজারে। সামনে একতারা আর দোতারার বড় বাজার। টুং টাং আওয়াজ হচ্ছে চারদিকে। ভেতরে ঢুকেই সুরেলা কণ্ঠের আওয়াজ: পারে লয়ে যাও আমায়…।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ
সূত্র: প্রথম আলো

নীলে ডুবে থাকা দ্বীপ

আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল ঠিক আলাদা করা যাচ্ছে না। দুটোই সমান পাল্লা দিচ্ছে চোখ তাতিয়ে দিতে। একটা নারকেলগাছও যে এত সুন্দর লাগতে পারে, সেটা সেন্ট মার্টিন না গেলে অজানা থেকে যেত। ঘাটে বাঁধা নৌকো দুলছে ঢেউয়ে ঢেউয়ে। হালকা বাতাস চুল, ঘাড়, কানে সুড়সুড়ি দিয়ে পালাচ্ছে। সারি সারি নারকেলের বাগান দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভুলেই গেলাম পথে লম্বা জার্নির কথা। বালু, পাথর, প্রবাল কিংবা জীববৈচিত্র্যের সমন্বয়ে যেন বিজ্ঞানের এক ব্যবহারিক ক্লাস। কাচের মতো স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ আর কচ্ছপের ঘোরাফেরা। অনেকটা অ্যাকুরিয়ামের পানিতে সাঁতরে বেড়ানো মাছের মতো।

বাংলাদেশের একমাত্র এই প্রবাল দ্বীপে নামার পর থেকেই বিস্মিত হতে থাকবেন কিছুক্ষণ পরপর। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগরের বুকের মধ্যে এই দ্বীপ। যেন পরম মমতায় সন্তানকে আগলে রেখেছেন মা। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। টেকনাফ থেকে ট্রলারে লঞ্চে কিংবা জাহাজে যেতে লাগে দুই থেকে সোয়া দুই ঘণ্টা। এখানে জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। নারকেল, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ও ধান এখানে জন্মে বলে জানালেন স্থানীয় একজন। তবে অধিবাসীদের প্রায় সবারই পেশা মৎস্য শিকার। আজকাল পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় অনেকেই রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল কিংবা দোকান খুলেছেন। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মানুষ সহজ-সরল, তাঁদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।

স্বপ্নের দারুচিনি দ্বীপ
ছোট্ট একটি এলাকা। তবে তার মায়া বড় বেশি। ভালো না বেসে থাকা মুশকিল। সেন্ট মার্টিন গিয়ে ছেঁড়া দ্বীপে না গেলে চলে! সেন্ট মার্টিন থেকে ছেঁড়া দ্বীপ স্পিডবোটে যেতে লাগে মিনিট দশেক। তবে ট্রলার হলে ৪০ মিনিট লাগে। এই দ্বীপে মানুষের স্থায়ী বসবাস নেই। যখন ওই অঞ্চলে পর্যটকদের সংখ্যা বেশি থাকে, তখন সেখানে কিছু মানুষ পাওয়া যায়, যারা নারকেল, চানাচুরজাতীয় কিছু বিক্রির দোকান খুলে বসে। ২০০০ সালের শেষের দিকে এই দ্বীপটির সন্ধান পাওয়া যায়। ছেঁড়া দ্বীপ জোয়ারের সময় অনেকাংশে ডুবে যায়।

ট্রলারে চড়ে ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়ার সময় সেন্ট মার্টিনের পুরো পূর্ব পাশটায় নজর বুলিয়ে নেওয়া যায়। সমুদ্রের নীল জলরাশির ভেতর নারকেলগাছবেষ্টিত সেন্ট মার্টিনের এই রূপ দেখার জন্য বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করবে, এটা নিশ্চিত। সেন্ট মার্টিনে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। ভাটার সময় অনেকে অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় সাইকেল চালিয়ে ওখানে চলে যান। আমাদের দলেরও কেউ কেউ সাইকেলে গেল। ট্রলারে গেলে সেটা দ্বীপ থেকে কিছুটা দূরে নোঙর ফেলে। তারপর ছোট ডিঙি নৌকায় ছেঁড়া দ্বীপে নামা।


যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে প্রথমে হানিফ, শ্যামলী, রিলাক্স, তুবা লাইন, গ্রিন লাইন, বাগদাদ, সেন্ট মার্টিন পরিবহনের বাসে করে টেকনাফ যাবেন। বাসের ভাড়া নন-এসি ৯০০ টাকা আর এসি ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এরপর টেকনাফ থেকে শিপ এল সিটি কুতুবদিয়া, কেয়ারী সিন্দবাদ, এমভি কাজল, বে-ক্রুজ, গ্রিন লাইন দিয়ে সেন্ট মার্টিন। শিপের ভাড়া ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

কোথায় থাকবেন
সেন্ট মার্টিনে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি উন্নত মানের রিসোর্ট, হোটেল ও কটেজ রয়েছে। কোয়ালিটি ভেদে সেখানে জনপ্রতি রাতে ৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে যে কেউ থাকতে পারবেন।

লেখক: অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পরিকল্পনা সমন্বয়ক, ঘুরব দেশ
সূত্র: প্রথম আলো

ভ্রমণে বারবিকিউ

ভ্রমণের সঙ্গে বারবিকিউয়ের একটা বিশেষ যোগ আছে। পরিপাটি রিসোর্ট বা গহিন অরণ্য—খাবার ঝলসাতে পারবেন সবখানে। বেড়াতে গিয়ে বারবিকিউ করতে চাইলে আগেভাগে কিছু উপকরণ ব্যাগে ভরে নিতে পারেন। বাজারে নানা ধরনের সস বা প্যাকেটজাত মসলার গুঁড়া পাওয়া যায়, যা দিয়ে সহজেই মজাদার বারবিকিউ করা যায়। তেমনই কয়েকটি রেসিপি দিয়েছেন সিতারা ফিরদৌস

বারবিকিউ প্রন
উপকরণ: চিংড়ি মাছ ৫০০ গ্রাম, বারবিকিউ সস ১ টেবিল চামচ, টমেটোর সস ২ টেবিল চামচ, ভিনেগার ২ টেবিল চামচ, জলপাই তেল ১ টেবিল চামচ, পাপরিকা ১ চা-চামচ, রোজমেরি আধা চা-চামচ, ভাজা মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: চিংড়ি পরিষ্কার করে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে মেরিনেট করে ১ ঘণ্টা রাখতে হবে। চিংড়ি কাঠিতে গেঁথে কয়লা বা কাঠের আগুনে ১০ মিনিট গ্রিল করতে হবে। মাঝে দুই বার উল্টে দিতে হবে এবং মসলা ব্রাশ করতে হবে।

বারবিকিউ সসেজ

উপকরণ: সসেজ ১০-১২টা, বারবিকিউ সস ১ টেবিল চামচ, টমেটোর সস ২ টেবিল চামচ, সাদা গোলমরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, চিলিফ্লেক্স ১ চা-চামচ ও লবণ সামান্য।
প্রণালি: সব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে সসেজে মাখান। এবার কাঠিতে গেঁথে ৫ থেকে ৬ মিনিট গ্রিল করলেই হয়ে যাবে।

বারবিকিউ চিকেন
উপকরণ: মুরগি দেড় কেজি, বারবিকিউ সস ৩ টেবিল চামচ, সয়াসস ২ টেবিল চামচ, টমেটোর সস ৪ টেবিল চামচ, ভাজা মরিচের গুঁড়া ২ চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ২ চা-চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ ও আদাগুঁড়া ২ চা-চামচ।
প্রণালি: চামড়াসহ মুরগি পছন্দমতো টুকরা করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। ছুরি দিয়ে মুরগির গায়ে দাগ কেটে নিন। বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে মুরগির গায়ে ভালো করে লাগিয়ে এক ঘণ্টা রাখুন। এইবার মসলা থেকে মুরগি তুলে কয়লা বা গাছের ডাল দিয়ে লাল না হওয়া পর্যন্ত গ্রিল করতে হবে। মাঝে মাঝে উল্টে মুরগির গায়ে মসলা ব্রাশ করতে হবে। গ্রিল থেকে নামিয়ে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ২ টেবিল চামচ টমেটোর সস একসঙ্গে মিলিয়ে মুরগির গায়ে লাগিয়ে পরিবেশন করতে হবে।


ভেজিটেবল বারবিকিউ
উপকরণ: ফুলকপি, ব্রকলি, গাজর, বেবি কর্ন (কচি ভুট্টা), নতুন আলু ইত্যাদি সবজি পছন্দমতো আকারের ২ কাপ (ভাপ দেওয়া), ক্যাপসিকাম, টমেটো ও পেঁয়াজের বড় টুকরা ১ কাপ, লেবুর রস ৪ টেবিল চামচ, জলপাই তেল ২ টেবিল চামচ, সাদা গোলমরিচগুঁড়া ২ চা-চামচ, রোজমেরি ১ চা-চামচ, ফ্রেশ ক্রিম ৪ টেবিল চামচ, বারবিকিউ সস ২ টেবিল চামচ, চিলিফ্লেক্স ১ চা-চামচ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: সব উপকরণ মিলিয়ে সবজির সঙ্গে কাঠিতে গেঁথে গ্রিল করতে হবে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন।

বারবিকিউ তেলাপিয়া
উপকরণ: তেলাপিয়া মাছ বড় আকারের ২টি, বারবিকিউ সস ২ টেবিল চামচ, টমেটোর সস ২ টেবিল চামচ, ভাজা মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, গোলমরিচ ১ চা-চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: মাছ পরিষ্কার করে পেট চিরে লেবুর রস ও লবণ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রাখতে হবে। এবার বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে মাছের গায়ে লাগিয়ে আধা ঘণ্টার মতো রেখে দিন। কয়লা বা কাঠে গ্রিল করে মাঝে মাঝে উল্টে দিন।

সূত্র: প্রথমআলো

হাওরের রঙিন গ্রাম

ভৈরবের উজানভাটি রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আবার ছুটলাম। পাশে বসা স্ত্রীর সঙ্গে নানা আলাপসালাপ করতে করতে কখন যে সিলেট শহরে পৌঁছে গেছি, টেরও পাইনি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। যাক, সিলেটে যখন চলে এসেছি, তখন সুনামগঞ্জের দেরি নেই। রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চা-দোকানিকে সুনামগঞ্জের রাস্তা কোন দিকে জিজ্ঞেস করার পর সিলেটি ভাষায় তিনি যা বললেন, তার মানে বুঝে বোকা বনে গেলাম। আমরা সুনামগঞ্জে যাওয়ার রাস্তা ১০ কিলোমিটার আগেই ফেলে এসেছি। হায়রে কপাল! গাড়ি ঘুরিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে চালাতে লাগলাম।

সুনামগঞ্জ শহরে যখন পৌঁছালাম, তখন বিকেল হয়ে গেছে। নিরিবিলি শহরটা। প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গেল। হোটেলের বারান্দায় বসে এক কাপ চা সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে দিল। হোটেলের পাশে গাছগাছালিঘেরা পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে কয়েকটি হাঁস গা থেকে পানি ঝরাচ্ছে। এবার বাড়ি ফেরার পালা তাদের।
সন্ধ্যার পর চলে গেলাম মরমি কবি হাসন রাজার স্মৃতি জাদুঘরে। পুরোনো বাড়িটির প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে আছে তাঁর ছবি আর ব্যবহৃত জিনিসপত্র। পানি খাওয়ার গ্লাস থেকে শুরু করে ঘোড়ার লাগাম, সবই আছে। তাঁর নাতি সমীরণ দেওয়ান খুবই আগ্রহ নিয়ে প্রতিটি জিনিসের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। আমি কাঠখোট্টা মানুষ, শিল্প-সাহিত্য বুঝি কম। তারপরও কবি হাসন রাজার বিশাল এক ছবির ওপরে লেখা দুটো লাইনে আমার চোখ আটকে গেল, ‘রূপ দেখিলাম রে নয়নে আপনার রূপ দেখিলাম রে, আমার মাঝত বাহির হইয়া, দেখা দিল আমারে।’
স্ত্রী পাশে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘কিছু বুঝলা?’। আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি…।
বাকি সময়টা কেটে গেল হাসন রাজার গান শুনে। এবার হোটেলে ফেরার পালা। একজনের বুদ্ধিতে চলে গেলাম পেছনের পুরোনো একটা বাড়ির কাছে। হাসন রাজার বাড়ি। যেখানে তিনি থাকতেন। বাড়ির পাশের ভাঙা পুকুর ঘাটে দাঁড়াতেই কোত্থেকে যেন হিম বাতাস এসে পুরো কলজে নাড়িয়ে চলে গেল। একে তো পুরোনো বাড়ি, তার সঙ্গে ভাঙা পুকুর ঘাট, আর সেই সঙ্গে নিকষ অন্ধকার। ভয়ে শক্ত হয়ে দাঁত কপাটি লাগায় এর চেয়ে বেশি আর কী লাগে।
পরদিন সকালে শহর থেকে বের হতে গিয়েই আটকে গেলাম। তাহিরপুর যাওয়ার রাস্তায় গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে না। কাচুমাচু মুখ করে অনুরোধ করায় বিশেষ বিবেচনায় আমাদের গাড়ি ছাড়া পেল। স্থানীয় এক লোক এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন। তিনি অনুরোধ করলেন তাঁকে যেন মাঝপথে তাঁর বাসায় নামিয়ে দিই। সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম।
চারপাশটা বিস্তীর্ণ সবুজ ধানে ভরা। হাওর অঞ্চল, তাই বর্ষার আগে এটাই শেষ ফসল। তারপর পানিতে তলিয়ে যাবে সবকিছু। তখনো কোথাও কোথাও জলাভূমি দেখা যাচ্ছে। গাড়ির কাচ নামিয়ে বুকভরে নিশ্বাস নিই। আহা! কী সুন্দর এই দেশটা।

গত মার্চ মাসে বেড়াতে গিয়েছিলাম সুনামগঞ্জের এই জায়াগায়। হাওর তখন ভরে ওঠেনি। কিন্তু সে সময়েও দারুণ সুন্দর প্রকৃতি। রাস্তার দুই পাশে বেশ কিছু দোকান নিয়েই ছোট এক বাজার। হোটেলের সামনে মাটির চুলার ওপর বড়সড় তাওয়াটা যেন আমাদের অপেক্ষাতেই ছিল। আহা! বেচারা, তেল না পেয়ে কেমন শুকিয়ে গেছে। নাশতার অর্ডার দিতেই ব্যস্ত হয়ে গেলেন বাবুর্চি। তাওয়ায় তেল ছড়িয়ে দিয়েই চটপট চার-পাঁচটা পরোটা ছেড়ে দিলেন। তারপর এপাশ-ওপাশ করে, খুন্তির চাপে চাপে গায়ে তেল মেখে কেমন মুচমুচে হয়ে উঠল পরোটাগুলো। তারপর তাওয়ায় পেঁয়াজ-কাঁচা মরিচ মেশানো ডিমটা যখন ছাড়লেন, তার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ল যেন বাজারজুড়ে। বেঞ্চে বসে নাশতা খেতে খেতেই হাওয়া ছেড়ে দিল। হাওয়ার জোর বাড়ছে। ঝড়ের তোড়ে বাজারের দোকানগুলো দ্রুত ঝাঁপ ফেলে দিল। আমরাও দৌড়ে আশ্রয় নিলাম গাড়ির ভেতর।
ধীরে ধীরে ঝোড়ো হাওয়া থেমে গেল। কেমন এক অদ্ভুত নীরবতা চারপাশে।
এবার একটা দ্বিধায় পড়ে গেলাম। সামনের দিকে যাব নাকি সুনামগঞ্জ শহরে ফিরে যাব। একজন সাইকেল আরোহী এসে জানাল সামনে অনেক বাঁশ ভেঙে রাস্তায় পড়ে আছে। ভেবে দেখলাম, এভাবে তো ফিরেও যাওয়া যাবে না। পেছনের রাস্তাতেও নিশ্চয় গাছ পড়ে আছে যা থাকে কপালে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। চলতে চলতে পৌঁছে গেলাম তাহিরপুর। গন্তব্য টাঙ্গুয়ার হাওর। কিন্তু এখান থেকে গাড়ি আর যাবে না। মোটরসাইকেলে চড়ে ঘাটে যেতে হবে। তাই সই…।

সূত্র: প্রথমআলো

তালাক নোটিশে যে স্বাক্ষর রয়েছে সেটি শাকিবের নয়: অপু বিশ্বাস

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিনএসিসি) পারিবারিক আদালত বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান ও নায়িকা অপু বিশ্বাসকে শাকিব খানের পাঠানো তালাক নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে আজ (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ডিএনসিসি অঞ্চল-৩ মহাখালী কার্যালয়ে তাদের দুজনকেই থাকতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ডিএনসিসি’র সালিশ পরিষদে একাই এসে হাজির হন অপু বিশ্বাস। তখন অপুর মামা স্বপন বিশ্বাস তার সঙ্গে ছিলেন। তবে এ সালিশে শাকিব খান উপস্থিত হননি।

এরপর প্রায় ৩০ মিনিট তাদের (শাকিব খান-অপু বিশ্বাস) বিচ্ছেদের শুনানি হয়। আর শাকিব খান না থাকায় সালিশের নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। এদিকে সালিশ পরিষদে শুনানি শেষে প্রিয়.কমের সঙ্গে আলাপকালে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস বলেন, ‘শাকিব খান যে তালাক নোটিশ পাঠিয়েছেন সেখানে শাকিব যে স্বাক্ষর করেছেন সেটি শাকিব খানের নয়।’ সে সময় অপু তার পারিবারিক কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে তার যে স্বাক্ষর দেখেছি সেটির সঙ্গে তালাক নোটিশের যে স্বাক্ষর রয়েছে তার কোনো মিল নেই।’ডিএনসিসি অঞ্চল-৩ এর মহাখালী কার্যালয়ে অপু বিশ্বাস/ ছবি: প্রিয়.কম

সেসময় অপু বিশ্বাস আরও বলেন, ‘আমি এখানে এসে শাকিব খানের পক্ষের কাউকে দেখলাম না। আমি ভেবেছিলাম তার পক্ষ থেকে কেউ না কেউ আসবে। আমি খুবই অবাক! ডিভোর্সের প্রক্রিয়া সম্পর্কে শাকিবের যে ধারণা রয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভুল বলে আমার মনে হয়। আর একটি বিষয়, ডিভোর্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য শাকিব খান যে সমস্ত তথ্য কিংবা প্রমাণ দিয়েছেন সেখানেও তথ্য-প্রমাণের অনেক ঘাটতি রয়েছে। আর আমার তো একটি বাচ্চা রয়েছে এবং ধর্মান্তরিত হয়েছি। যার কারণে আমি শাকিবের সংসার করতে চাই।

অপ ‍বিশ্বাস বলেন, আমি আরেকটি বিষয় বলতে চাই, শাকিব যদি রাগের মাথায় এই সিদ্বান্তটি নিয়ে থাকে, তার বাচ্চার কথা চিন্তা করে হলেও এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়া উচিত। এখন যা ঘটছে এতে আমার সম্মানহানি হচ্ছে। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে আমি বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবে দেখব না।’

এরপরই মহাখালির ডিএনসিসি অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেনের অফিস কার্যালয় ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের এ সময়ের আলোচিত এ নায়িকা। ডিএনসিসি কর্মকর্তা হেমায়েত প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমরা প্রথম নোটিশ দিয়েছিলাম, এরপর বিবাদী পক্ষের অপু বিশ্বাস আজ ১২টার দিকে হাজির হয়েছেন। এবং তার বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি মিমাংসা চান। তবে বাদি শাকিব খান হাজির হননি। আমরা দ্বিতীয় শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছি ১২ ফেব্রুয়ারি। আজ আমরা নতুন করে আরেকটি নোটিশ জারি করব। এরপর যদি না আসেন আমরা তৃতীয় নোটিশ দিব। এরপরও যদি না আসেন, তারপর বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। মানে আইন অনুযায়ী ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যাবে। এরপর তাদের কেউ পারিবারিক আদালতে যাবেন কি না, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। আবার চাইলে তাদের যে কেউ মামলাও করতে পারবেন। একটি ডিভোর্স কার্যকর করার জন্য যে তথ্য ও প্রমাণ দরকার তার অনেক কিছুই শাকিব খান প্রদান করেননি।’

ডিএনসিসি অঞ্চল-৩-এর কার্যালয়ে অপু বিশ্বাস। ছবি: প্রিয়.কম

জানা গেছে, শাকিব খান বর্তমানে ব্যাংককে রয়েছেন। সেখানে ‘আমি নেতা হব’ ছবির গানের শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর এ বিষয়ে শাকিবের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রযোজক ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এ প্রতিবেদক। তিনিও সাড়া দেননি। তারপর শাকিব খানের চাচাতো ভাই মনিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।

তবে শাকিব খানের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম দুপুর একটার দিকে প্রিয়.কমকে বলেন, ‘শাকিব খান আমাকে জানিয়েছেন, তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিই চূড়ান্ত। এরপর আমি কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছেন, যেহেতু শাকিব খান তার সিদ্বান্তে অটল রয়েছেন, তাই সেখানে শাকিব খান কিংবা তার কোনো আইনজীবীর অ্যাটেন্ড করার প্রয়োজন নেই।’

বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান ও নায়িকা অপু বিশ্বাসের ব্যক্তি জীবনে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা টানাপোড়েন একটা সময় গিয়ে তালাক নোটিশে রূপ নেয়। গত বছরের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় শাকিব খান তার আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের কার্যালয়ে যান। তিনি অপুকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে এই আইনজীবীর কাছে আইনগত সহায়তা চান। এরপর শাকিব খানের পক্ষে আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের অফিস থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র কার্যালয়, অপু বিশ্বাসের ঢাকার নিকেতনের বাসা এবং বগুড়ার ঠিকানায় তালাক নোটিশ পাঠানো হয়।

সিটি করপোরেশনের পারিবারিক আদালত সূত্রে জানা গেছে, কোনো পক্ষ তালাকের আবেদন করলে আদালতের কাজ হচ্ছে ৯০ দিনের মধ্যে উভয়কে তিনবার ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করা। সমঝোতা না হলে স্বাভাবিকভাবেই তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। এখানে সময় বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।পারিবারিক একটি ছবিতে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও আব্রাম। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশি সিনেমার এ সময়ের আলোচিত নায়িকা শবনম বুবলির সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে একটি স্থির চিত্রে শাকিব খানকে দেখা যায়। ছবিতে ‘ফ্যামিলি টাইম’ ক্যাপশন লিখে নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলি। এরপরই অপু বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে শাকিব খানের। এরপর ছবিটি প্রকাশের গত বছরের ১০ এপ্রিল (সোমবার) বিকেল চারটায় দীর্ঘদিন গোপনে থাকা বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন অপু। দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সব গোপন কথা ফাঁস করে দেন। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন দিনকে দিন বাড়তে থাকে।

ভারতের কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় শাকিব-অপুর ছেলে আব্রাহাম খান জয়ের। সে সময় অপু বিশ্বাসের সিজারও করা হয়। অপু বিশ্বাস ২০০৪ সালে আমজাদ হোসেনের ‘কাল সকালে’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ২০০৬ সালে পরিচালক এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টানা এই জুটি একাধারে ৭০টির মতো ছবিতে জুটি বাঁধেন। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একসময় পরস্পর প্রেমের বাঁধনে জড়িয়ে যান। এরপর ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল গোপনে বিয়ের বন্ধনে জড়ান শাকিব-অপু।

ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুয়াদ

ফুয়াদ আল মুক্তাদির তরুণ প্রজন্মের সংগীত শ্রোতাদের প্রিয় নাম। শুরুতে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় থাকলেও পরবর্তীতে তিনি সব শ্রেণীর শ্রোতাদের জন্যই কাজ করেছেন। সদা প্রাণবন্ত এই সংগীত তারকার ভক্ত ও শ্রোতাদের জন্য একটি দুঃসংবাদ তিনি নিজেই প্রকাশ করলেন ফেসবুকে।

১৩ জানুয়ারি এক ফেসবুক ভিডিওবার্তায় ফুয়াদ জানান, তিনি থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। তা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এজন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। ফুয়াদ বর্তমানে স্ত্রী- সন্তানসহ নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।

থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো অংশের কোষ সংখ্যা অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে থাইরয়েড ক্যান্সার বলে। থাইরয়েড গ্রন্থি একটা হরমোন গ্রন্থি। গলার সম্মুখভাগের নিচের দিকের অবস্থান ওজনে প্রায় ২০ গ্রামের মতো।

বলে রাখা ভালো, ১৯৮৮ সালে আট বছর বয়সে বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ফুয়াদ এবং সেখানে গিয়ে জুনিয়র হাই স্কুলে ভর্তি হন। তিনি সেখানে সবসময় সঙ্গীতের সঙ্গে ছিলেন এবং ১৯৯৩ সালে জেফিয়ার নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন রিচার্ড মধু, হিমেল, সুমন এবং ফ্রেড এর সাথে। তারা বেশ কিছু ট্র্যাক রেকর্ড করেন এবং ১৯৯৯ সালে ব্যান্ড ছেড়ে দেয়ার আগে তারা নিউ ইয়র্ক অধিবাসীদের বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে মায়া ১ এবং ২ অ্যালবাম প্রকাশ করেন।

অবসকিউর ব্যান্ডের কিবোর্ডইস্ট সোহেল আজিজের সাহায্য নিয়ে অ্যালবামটির কিছু রিমিক্স এবং মূল গানসহ ১৪ টি ট্র্যাক প্রকাশ করেন। তার সঙ্গীত পরিচালনায় প্রকাশ পায় লিটুর শিলহতি, আনিলা নায চৌধুরীর ‌’ঝিলমিল’, আরমিনের ‘ভ্রমর কোইও’, এবং কিছু রিমিক্স ‘মন চাইলে মন’।

ফুয়াদ ভেরিয়েসন নং ২৫ তৈরি করেন ২০০৬ সালে, পরবর্তীতে ২০০৬ সালে আরও দুইটা গান তাতে যুক্ত হয় এবং সিডিটা আবার প্রকাশ পায় ভেরিয়েসন নং ২৫.২ এ একসাথে জি সিরিজ এবং আরশি এর ব্যানারে । ওই অ্যালবাম এর কিছু ট্রাক হল পুনাম এর ‘নবীনা’, রাজীব এবং ফুয়াদের ‘নিটোল পায়ে’, এবং বাপ্পা মজুমদারের ‘কোন আশ্রয়’।

২০০৭ সালে ফুয়াদের ‘বন্ন’ অ্যালবামটি পুনরায় মুক্তি পায় জি সিরিজের ব্যানারে। ওই অ্যালবামের কিছু ট্র্যাক ছিল উপলের ‘তোর জন্য আমি বন্ন’, ফুয়াদ ও বিশপের ‘বন্ন র‍্যাপ’, ফুয়াদের ‘জংলী’, এবং সরাসরি ‘দ্য দুষ্টু নম্বর’,‌’নিটল পায়ে’।

দুনিয়া কাঁপানো ৮টি ছবি

তিন বছরের শিশু আয়লানের ছবি দেখে এখনো অনেকে কেঁদে ফেলেন৷ সিরীয় এই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ভীষণ নাড়া দিয়েছে বিশ্ববাসীকে৷ ছবিঘরে থাকছে এমন আটটি ছবির কথা, যে ছবিগুলো অতীতে একইভাবে বিশ্বময় আলোড়ন তুলেছিল৷



নিজের কাপড় ছিঁড়ে বেঁচেছিল মেয়েটি
নাপাম বোমার আঘাতে দক্ষিণ ভিয়েতনাম তখন কেঁপে উঠেছে৷ ৯ বছরের ফান থি কিম পুক কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলো সবাই পাগলের মতো ছুটছে৷ নিজে ছুটতে শুরু করার আগেই দেখে গায়ের জামাকাপড়ে আগুন৷ আগুন নেভানোর চেষ্টা করে কাজ হলো না, বুদ্ধি করে নিজের কাপড় ছিড়ে ফেলে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াতে শুরু করলো৷ ৯ বছরের মেয়েটির ছবিও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় তুলেছিল৷ এ ছবির জন্য ১৯৭৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন ফটোগ্রাফার নিক উট৷



কাঁটাতারে শুমান
জার্মানি তখন সবে আলাদা হয়েছে, দু দেশের মাঝখানে গড়া শুরু হয়েছে প্রাচীর৷ পূর্ব জার্মানির সৈন্য কনরাড শুমান সেই সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁটা তারের বেড়া ডিঙিয়ে চলে আসেন পশ্চিম জার্মানিতে৷ ১৯৬১ সালের আগস্ট মাসের এই ছবিটিও সবার হৃদয় ছুঁয়েছিল৷ শুমান নিজেও কোনোদিন ভুলতে পারেননি সেই দিনটির কথা৷ ১৯৯৮ সালে আত্মহত্যা করেন তিনি৷ ৪৪ বছর আগে শুমানের এই ছবিটি তুলেছিলেন পেটার লাইবিং৷



ধুলায় ঢাকা নারী
মার্সি বর্ডার৷ ধুলায় তাঁর শরীর ঢেকে যাওয়ার কারণ বিশ্বের নিষ্ঠুরতম সন্ত্রাসী হামলা৷ ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বরের ছবি এটি৷ টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে সেখানে ছিলেন মার্সি বর্ডার৷ এই ছবির কারণে ৯/১১-র পর থেকে সবাই ‘ডাস্ট লেডি’ নামেই সবাই তাঁকে চিনতো৷ ওই হামলার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় পাকস্থলীতে ক্যানসার হয়েছিল৷ ক্যানসারে ভুগে এ বছরের ১৫ আগস্ট ৪২ বছর বয়সে মারা যান তিনি৷



নির্ভিক এক মানুষ
১৯৮৯ সালের ৫ই জুন তিয়েনানমেন স্কয়ারের প্রতিবাদ বিক্ষোভকে দমন করতে যখন চীনা সেনাবাহিনী হামলা চালায় তখন ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন একজন৷ এভাবে বেশ কয়েকটি ট্যাংককে কিছুক্ষণ থামিয়েও রেখেছিলেন৷ সেই মুহূর্তটিকে ক্যামেরায় ধরে রেখেছিলেন জেফ উইডেনার৷ ছবিটি তোলার পরপরই অকুতোভয় ব্যাক্তিটিকে সেখান থেকে নিয়ে যায় পুলিশ৷ ২৬ বছরেও অসম সাহসী লোকটির পরিচয় জানা যায়নি, জানা যায়নি তিনি কোথায়, কেমন আছেন!



প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে প্রাণ দিল জার্মান তরুণ
ইরানের রেজা শাহ পেহলভির রাষ্ট্রীয় সফরের প্রতিবাদে বার্লিনের রাস্তায় বিক্ষোভে নেমেছিল অনেক মানুষ৷ শাহ বার্লিন অপেরায় বসে দিব্যি মোৎসার্টের ‘দ্য ম্যাজিক ফ্লুট’ উপভোগ করছেন৷ বাইরে শুরু হয়ে গেল জনতা-পুলিশ মারামারি৷ উত্তেজনা তৈরির পেছনে শাহ-র গোয়েন্দাদের উসকানির অবদান ছিল বলে অনেকে মনে করেন৷ একটা সময়ে প্রতিবাদী ছাত্র বেনো ওনেসর্গ-কে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ৷



জন এফ কেনেডির মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির আততায়ীর গুলিতে নিহত হবার ছবিটিও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল৷ কেনেডি তখন গাড়িতে৷ হঠাৎ আততায়ীর গুলি৷ মাথায় লেগেছিল গুলি৷ অ্যাব্রাহাম জ্যাপারডার তুলেছিলেন ছবিটি৷ আর কোনো ক্যামেরায় ধরা পড়েনি মুহূর্তেরও খণ্ডাংশের সেই দৃশ্য৷



অলিম্পিকে সন্ত্রাসী হামলা
১৯৭২ সালে জার্মানির মিউনিখে বসেছিল অলিম্পিকের আসর৷ অনেকের কাছে আসরটি বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে ইসরায়েলের অলিম্পিক দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার কারণে৷ ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর নামের একটি ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের ১১ জন ক্রীড়াবিদকে জিম্মি করে ফেলে৷ পরে তাদের হত্যা করা হয়৷ ছবিতে এক ভবনের ব্যালকনিতে দেখা যাচ্ছে এক অপহরণকারীকে৷



আফগান মেয়ে
আফগানিস্তান তখন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে৷ পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়া এই আফগান কিশোরীর ছবি তখনেই তুলেছিলেন স্টিভ ম্যাককারি৷ ১৯৮৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক প্রচ্ছদ ছবির মর্যাদা দেয় ছবিটিকে৷ শরবত গুলা নামের মেয়েটি তা জানেনইনা৷ ২০০২ সালে তাকে খুঁজে পায় সংবাদমাধ্যম৷ শরবত গুলা তখন জানতে পারেন তাঁর ১২ বছর বয়সের কোনো ছবির জগত বিখ্যাত হওয়ার সত্যি কাহিনি৷

‘পান থেকে চুন খসলেই সমস্যা ইসলামী ব্যাংকের’

ইসলামী ব্যাংকের পান থেকে চুন খুশলেই সমস্যা বলে জানান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। তবে অন্যান্য ব্যাংকের নানা সমস্যা থাকলেও কোনো কিছুই হয় না। ইসলামী ব্যাংক সততা এবং যোগ্য ম্যানেজমেন্টের শরীয়াহভিত্তিক পরিচালনার কারণে ইসলামী ব্যাংক এগিয়ে যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে ফাইন্যান্সিয়াল প্রযুক্তি ব্যহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আজ সোমবার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ম্যানেজমেন্টের ১ বছরের কর্মকাণ্ডে ব্যাংকের এখনকার অবস্থান তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
আরাস্তু খান বলেন, আমরা সব কিছুকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। গত ১ বছরে ইসলামী ব্যাংকের ডিপোজিট ও পরিচালন মুনাফায় বড় সাফল্য এসেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৭ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ব্যাংক আমানতের পরিমাণ বেড়েছে ৭ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

তিনি বলেন, এসময়ে ব্যাংক বিনিয়োগ ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ১০০ কোটি টাকা। তবে নিট বিনিয়োগ হয়েছে ৬৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। এখন ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডি রেশিও ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। নন পার্ফমিং লোনের (এনপিএল) হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশে। যা গত বছরে ছিল ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এই বছরে আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। বিনিয়োগকৃত আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। আমদানিতে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি, রপ্তানিতে ২৪ হাজার কোটি এবং ২৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছে।

আমাদের রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধির বড় কারণ হলো পলিসিতে পরিবর্তন আনা। ইসলামী ব্যাংক রেমিট্যান্স থেকে অর্থ আয় করতে চায় না। এই জন্য গ্রাহকদের একটি সহনীয় রেট দিতে পেরেছি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা শরীয়াহ সমর্থন করে না এমন কোনো প্রোডাক্টের অনুমতি দেই না। সততা এবং শরীয়াহকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে ইসলামী ব্যাংক আজ এই শক্ত অবস্থানে আসতে পেরেছে।

এসময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ মিয়া এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইসলামী ব্যাংকে কখনও তারল্য সংকট থাকবে না। আমাদের ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডি রেশিও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আমরা এখন বড় খাতের ঋণ কমিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণের পরিমাণ বাড়াতে চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ম্যানেজমেন্ট কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. মো. জিল্লুর রহমান, পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব-উল-আলমসহ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগর পাড়ে যাত্রীবাহী বিমান

তুরস্কের ত্রাবজোনের বিমান বন্দরে অবতরণের পর যাত্রীবাহী একটি বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগরের ঢালু পাড়ের উপরে গিয়ে ঝুলে পড়ে। যাত্রীবাহী বিমানটি ১৬৮ জন যাত্রী নিয়ে সাগরের পানির মাত্র কয়েক মিটার ওপরে গিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

শনিবার তুরস্কের কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী শহর ত্রাবজোন বিমান বন্দরে এই ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় ১৬৮ জন যাত্রীসহ বিমান ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।

স্থানীয় গভর্নর ইউসেল ইয়াভুজ জানিয়েছেন, এই ঘটানয় কেউ আহতও হননি। তবে বিমানের এই দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত করা হবে। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদলু ফাতিমা গরদু নামে এক যাত্রীকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, “আমরা সবাই বিমানটির একপাশে গিয়ে পড়েছিলাম। প্রচণ্ড ভীতি তৈরি হয়েছিল। সবাই চিৎকার করছিলো।”

গভর্নর ইউসেল ইয়াভুজ জানিয়েছেন, তদন্ত করার জন্যে কয়েক ঘন্টা এয়ারপোর্ট বন্ধ রাখা হয়। তবে পেগাসাস এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান সাগরের খাড়া কর্দমাক্ত তীরের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পাত্তাই পেল না জিম্বাবুয়ে

শিরোনামটা পড়ে বাধো বাধো ঠেকলে, ম্যাচের ফলাফলটা শুনে নিন। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। সেটাও ১২৯ বল হাতে রেখে। আসলেই তো পাত্তা পেল না জিম্বাবুয়ে। প্রায় দেড় বছর পর দেশের মাটিতে ওয়ানডে খেলতে নেমে বাংলাদেশ পেল দাপুটে জয়। জিম্বাবুয়ের ১৭০ তাড়া করতে নেমে ২৮.৩ বলেই ম্যাচ শেষ করে এসেছেন তামিম-মুশফিকরা।

দেশের মাটিতে প্রায় দেড় বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। কোথায় শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে, তা না দর্শক খুঁজে পাওয়াই ভার! সেটা কী জেঁকে বসা শীতের সঙ্গে এ দেশের ক্রিকেটমোদীদের পেরে না ওঠার ফল? না কি তাঁরা আগেই জানতেন বাংলাদেশের সামনে জিম্বাবুয়ে দাঁড়াতেই পারবে না!

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরের কথাটাই সত্যি হলো। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সামনে জিম্বাবুয়ে দাঁড়াতেই পারল না। ১৭১ লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটের একপেশে জয়ে নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডেতে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। প্রায় দেড় বছর আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ। নতুন বছরে সেই একই মাঠে বাংলাদেশের শুরুটাও হলো হেসেখেলে জয়ে।

বাংলাদেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে দাঁড়িয়ে ঠিক তার উল্টো অবস্থানে। এখানে ওয়ানডেতে তাঁদের সর্বশেষ জয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। মাঝের এই আট বছরে এ নিয়ে তাঁরা হারল টানা ১২ ম্যাচ। এর মধ্যে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই টানা ৮ ম্যাচে হার। এর মধ্যে আজকে গ্রায়েম ক্রেমারের দলের হারের সুরটা বেঁধে দিয়েছেন দুই বন্ধু সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। আগে বল হাতে সাকিব, পরে ব্যাট হাতে তামিম—এ দুজনের যুগলবন্দীতে ৯৮তম ওয়ানডেতে জয় পেল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামও।

নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডেতে ওপেনিং জুটিতে দীর্ঘদিন পর এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তামিম। প্রায় ৩৪ মাস পর বাংলাদেশের ওয়ানডে জার্সিতে ফিরে হতাশ করেছেন এনামুল। বরাবরের মতো ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। ১৪ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। কিন্তু তামিম খেলেছেন আস্থার প্রতীক হয়ে। ৯৩ বলে ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মাঠ ছেড়েছেন জয় নিয়ে।

ওপেনিং জুটিতে ৩০ রান আসার পর দ্বিতীয় উইকেটে সাকিবের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন তামিম। কিন্তু সিকান্দার রাজার নিরীহ স্পিনে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে এলবিডব্লু হন সাকিব। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে তামিম শুধু জয়ের আনুষ্ঠানিকতাটুকু সেরেছেন।

তিন বছর আগে এই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ৭৩ রান করেছিলেন তামিম। সে ম্যাচে সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও পারেননি। কিন্তু এ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের স্বল্প সংগ্রহ তামিমকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছে। ৮ চার এবং ১ ছক্কায় অপরাজিত ইনিংসটি সাজালেও সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপটা থেকেই যাবে। তামিম কিন্তু সে জন্য দুষতে পারেন সতীর্থদের ক্ষুরধার বোলিংকে!

জিম্বাবুয়ে স্রেফ নখদন্তহীন বোলিং করেছে। ১২৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশের জয়ই তার প্রমাণ। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটমোদীরা আসল মজাটা পেয়েছেন ২৮তম ওভারে। জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজুরাবানি এ ওভারে ‘ওভারস্টেপিং’ করছেন টানা তিনবার! অর্থাৎ টানা তিনটি ‘নো-বল’—আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো উইকেটে তামিমের মতো সেট ব্যাটসম্যানও এ তিনটি ‘নো-বল’ থেকে পাওয়া ফ্রি-হিটের কোনো ফায়দা লুটতে পারলেন না!

স্কোরকার্ড:
জিম্বাবুয়ে (১৭০/১০)
বাংলাদেশ (১৭১/2)
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।