ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুয়াদ

ফুয়াদ আল মুক্তাদির তরুণ প্রজন্মের সংগীত শ্রোতাদের প্রিয় নাম। শুরুতে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় থাকলেও পরবর্তীতে তিনি সব শ্রেণীর শ্রোতাদের জন্যই কাজ করেছেন। সদা প্রাণবন্ত এই সংগীত তারকার ভক্ত ও শ্রোতাদের জন্য একটি দুঃসংবাদ তিনি নিজেই প্রকাশ করলেন ফেসবুকে।

১৩ জানুয়ারি এক ফেসবুক ভিডিওবার্তায় ফুয়াদ জানান, তিনি থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। তা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এজন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। ফুয়াদ বর্তমানে স্ত্রী- সন্তানসহ নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।

থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো অংশের কোষ সংখ্যা অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে থাইরয়েড ক্যান্সার বলে। থাইরয়েড গ্রন্থি একটা হরমোন গ্রন্থি। গলার সম্মুখভাগের নিচের দিকের অবস্থান ওজনে প্রায় ২০ গ্রামের মতো।

বলে রাখা ভালো, ১৯৮৮ সালে আট বছর বয়সে বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ফুয়াদ এবং সেখানে গিয়ে জুনিয়র হাই স্কুলে ভর্তি হন। তিনি সেখানে সবসময় সঙ্গীতের সঙ্গে ছিলেন এবং ১৯৯৩ সালে জেফিয়ার নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন রিচার্ড মধু, হিমেল, সুমন এবং ফ্রেড এর সাথে। তারা বেশ কিছু ট্র্যাক রেকর্ড করেন এবং ১৯৯৯ সালে ব্যান্ড ছেড়ে দেয়ার আগে তারা নিউ ইয়র্ক অধিবাসীদের বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে মায়া ১ এবং ২ অ্যালবাম প্রকাশ করেন।

অবসকিউর ব্যান্ডের কিবোর্ডইস্ট সোহেল আজিজের সাহায্য নিয়ে অ্যালবামটির কিছু রিমিক্স এবং মূল গানসহ ১৪ টি ট্র্যাক প্রকাশ করেন। তার সঙ্গীত পরিচালনায় প্রকাশ পায় লিটুর শিলহতি, আনিলা নায চৌধুরীর ‌’ঝিলমিল’, আরমিনের ‘ভ্রমর কোইও’, এবং কিছু রিমিক্স ‘মন চাইলে মন’।

ফুয়াদ ভেরিয়েসন নং ২৫ তৈরি করেন ২০০৬ সালে, পরবর্তীতে ২০০৬ সালে আরও দুইটা গান তাতে যুক্ত হয় এবং সিডিটা আবার প্রকাশ পায় ভেরিয়েসন নং ২৫.২ এ একসাথে জি সিরিজ এবং আরশি এর ব্যানারে । ওই অ্যালবাম এর কিছু ট্রাক হল পুনাম এর ‘নবীনা’, রাজীব এবং ফুয়াদের ‘নিটোল পায়ে’, এবং বাপ্পা মজুমদারের ‘কোন আশ্রয়’।

২০০৭ সালে ফুয়াদের ‘বন্ন’ অ্যালবামটি পুনরায় মুক্তি পায় জি সিরিজের ব্যানারে। ওই অ্যালবামের কিছু ট্র্যাক ছিল উপলের ‘তোর জন্য আমি বন্ন’, ফুয়াদ ও বিশপের ‘বন্ন র‍্যাপ’, ফুয়াদের ‘জংলী’, এবং সরাসরি ‘দ্য দুষ্টু নম্বর’,‌’নিটল পায়ে’।

Leave a Reply