পাত্তাই পেল না জিম্বাবুয়ে

শিরোনামটা পড়ে বাধো বাধো ঠেকলে, ম্যাচের ফলাফলটা শুনে নিন। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। সেটাও ১২৯ বল হাতে রেখে। আসলেই তো পাত্তা পেল না জিম্বাবুয়ে। প্রায় দেড় বছর পর দেশের মাটিতে ওয়ানডে খেলতে নেমে বাংলাদেশ পেল দাপুটে জয়। জিম্বাবুয়ের ১৭০ তাড়া করতে নেমে ২৮.৩ বলেই ম্যাচ শেষ করে এসেছেন তামিম-মুশফিকরা।

দেশের মাটিতে প্রায় দেড় বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। কোথায় শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে, তা না দর্শক খুঁজে পাওয়াই ভার! সেটা কী জেঁকে বসা শীতের সঙ্গে এ দেশের ক্রিকেটমোদীদের পেরে না ওঠার ফল? না কি তাঁরা আগেই জানতেন বাংলাদেশের সামনে জিম্বাবুয়ে দাঁড়াতেই পারবে না!

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরের কথাটাই সত্যি হলো। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সামনে জিম্বাবুয়ে দাঁড়াতেই পারল না। ১৭১ লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটের একপেশে জয়ে নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডেতে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। প্রায় দেড় বছর আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ। নতুন বছরে সেই একই মাঠে বাংলাদেশের শুরুটাও হলো হেসেখেলে জয়ে।

বাংলাদেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে দাঁড়িয়ে ঠিক তার উল্টো অবস্থানে। এখানে ওয়ানডেতে তাঁদের সর্বশেষ জয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। মাঝের এই আট বছরে এ নিয়ে তাঁরা হারল টানা ১২ ম্যাচ। এর মধ্যে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই টানা ৮ ম্যাচে হার। এর মধ্যে আজকে গ্রায়েম ক্রেমারের দলের হারের সুরটা বেঁধে দিয়েছেন দুই বন্ধু সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। আগে বল হাতে সাকিব, পরে ব্যাট হাতে তামিম—এ দুজনের যুগলবন্দীতে ৯৮তম ওয়ানডেতে জয় পেল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামও।

নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডেতে ওপেনিং জুটিতে দীর্ঘদিন পর এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তামিম। প্রায় ৩৪ মাস পর বাংলাদেশের ওয়ানডে জার্সিতে ফিরে হতাশ করেছেন এনামুল। বরাবরের মতো ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। ১৪ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। কিন্তু তামিম খেলেছেন আস্থার প্রতীক হয়ে। ৯৩ বলে ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মাঠ ছেড়েছেন জয় নিয়ে।

ওপেনিং জুটিতে ৩০ রান আসার পর দ্বিতীয় উইকেটে সাকিবের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন তামিম। কিন্তু সিকান্দার রাজার নিরীহ স্পিনে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে এলবিডব্লু হন সাকিব। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে তামিম শুধু জয়ের আনুষ্ঠানিকতাটুকু সেরেছেন।

তিন বছর আগে এই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ৭৩ রান করেছিলেন তামিম। সে ম্যাচে সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও পারেননি। কিন্তু এ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের স্বল্প সংগ্রহ তামিমকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছে। ৮ চার এবং ১ ছক্কায় অপরাজিত ইনিংসটি সাজালেও সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপটা থেকেই যাবে। তামিম কিন্তু সে জন্য দুষতে পারেন সতীর্থদের ক্ষুরধার বোলিংকে!

জিম্বাবুয়ে স্রেফ নখদন্তহীন বোলিং করেছে। ১২৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশের জয়ই তার প্রমাণ। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটমোদীরা আসল মজাটা পেয়েছেন ২৮তম ওভারে। জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজুরাবানি এ ওভারে ‘ওভারস্টেপিং’ করছেন টানা তিনবার! অর্থাৎ টানা তিনটি ‘নো-বল’—আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো উইকেটে তামিমের মতো সেট ব্যাটসম্যানও এ তিনটি ‘নো-বল’ থেকে পাওয়া ফ্রি-হিটের কোনো ফায়দা লুটতে পারলেন না!

স্কোরকার্ড:
জিম্বাবুয়ে (১৭০/১০)
বাংলাদেশ (১৭১/2)
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।

Leave a Reply