বিনা ভিসাতে ঘুরে আসুন লাস্ট প্যারাডাইজ থেকে!

বাংলাদেশে প্রায় সব জায়গা ঘোরা শেষ? খুব ইচ্ছে করছে নিজ দেশের বাইরের রূপ-বৈচিত্র্য দেখার? কিন্তু একদমই ভিসা পাওয়া না পাওয়ার ঝামেলাতে জড়াতে চাচ্ছেন না? তাহলে ইন্দোনেশিয়ার বালি আপনারই জন্য। বালি আপনাকে দেবে অন এরাইভাল ভিসা অথবা প্রবেশের সময় ভিসা। এইতো হয়ে গেলো আপনার অর্ধেক সমস্যার সমাধান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বালিতে গিয়ে কী করবেন? কী আছে ওখানে? বালি তো ঢাকাতেই কতো আছে, কষ্ট করে আবার ইন্দোনেশিয়া কেনো যাবো?

বালির রাজধানীর নাম ডেনপাসার। আকারে হয়তো বালি বড় নয় কিন্তু এর অকল্পনীয় ও আকর্ষণীয় সৌন্দর্যআপনার মনকে পাগল করে তুলবে। বালির ক্ষেত্রে বলাই যায়, “Size doesn’t matter”! ইন্দোনেশিয়া অন্য সব প্রদেশ গুলোর মধ্যে সবচাইতে ক্ষুদ্র প্রদেশ হচ্ছে বালি। রয়েছে নীলরাশির সমুদ্র, পাহাড়পর্বত, সাংস্কৃতিক পর্যটক স্পট, স্মারক, স্মৃতিস্তম্ভ, সাফারি পার্ক, আর্ট মিউসিয়াম ইত্যাদি। সবকিছুর মধ্যেও কিছু বেষ্ট জায়গা আছে যা না দেখলেই নয়। জেনে নেয়া যাক বালিতে ঘুরে দেখার এমন কিছু বেষ্ট জায়গার ব্যাপারে।

১। উবুদ– আপনি যদি বালিতে প্রকৃতি, মানুষ ও সংস্কৃতি, মন্দির, জাদুঘর, রোলিং ধান/চাল, মানুষের তৈরি অসংখ্য ফুলের বাগান, পার্ক এর সাথে নির্মল প্রকৃতি ঘুরে দেখতে চান তাহলে উবুদ আপনার প্রথম পছন্দের জায়গা হবে। উবুদে আপনি দেখতে পাবেন টেগালালাং রাইস টেরেস। রয়েছে মাঙ্কি ফরেস্ট এটি উবুদের সবচে জনপ্রিয় জায়গা। এখানে আপনি বানরের সাথে বাঁদরামি করা ছাড়াও বানরকে কাঁধে ওঠাতে পারবেন। তবে আমরা নিশ্চয়ই জানি বানরকে কাঁধে ওঠাতে নেই। তাই বানরকে কলা খাওয়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উবুদকে বালির প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। আপনি চাইলেই বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন সেখানে। খরচও তুলনামুলকভাবে কম। উত্তাল সমুদ্রের উপর দিয়ে সার্ফিং করা এই স্থানের প্রধান আকর্ষণ। আপনি যদি কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন তাহলে যেতে পারেন উবুদ আর্ট মার্কেটে। যারা হলিউড মুভি ইট প্রে লাভ (eat pray love) দেখেছেন তারা হয়তো দেখেছিলেন উবুদ মার্কেটটি সেখানে সেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো।

২। কিন্তামানি মাউন্ট বাটুর– আমার মতো যারা পাহাড়কে ভালোবাসেন তাদেরকে মনখারাপ করাবে না বালি। কারন এখানে রয়েছে অনেক পুরনো ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। এই ট্রেকটি খুব পরিচিত একটি ট্রেক। যারা অনেক সাহসী এবং অ্যাডভেঞ্চার করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং জায়গা হবে। এর নিচে রয়েছে লেক বাটু যা বালির সবচাইতে বড় প্রাকৃতিক হ্রদ। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ বর্গ কিলোমিটার। ট্রেক করতে গিয়ে টিলার উপরে পাবেন ছোট ছোট খাবারের দোকান। বাটুর লেকের আশেপাশে কিছু পুরনো গ্রাম রয়েছে চাইলে সেগুলোও ঘুরে দেখতে পারেন।

৩। কুটা বিচ/ সানুর বিচ/ নুসা দুয়া– কুটা বিচ দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত। কিউটা বিচ তরুণ পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকে কারন অন্যান্য বিচের তুলনায় কুটা বিচে থাকাখাওয়ার দাম কম, তাই বাজেট ট্রাভেলাররা এই স্থানকে বেছে নেয়। কুটা বিচে আপনি পাবেন নাইট লাইফের আসল মজা। কারন এই বিচ কখনো ঘুমায় না। ওয়ার্টার স্কিয়িংকরে যারা সমুদ্রের তলদেশও চাইলে দেখতে পারবেন। তবে সূর্যোদয় দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে সানুর বিচে। এখান থেকে আপনি যে ভিউ পাবেন তা অন্য কোনো বিচে পাবেন না। জীবনে হয়তো অনেক সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয় দেখেছেন কিন্তু সানুর বিচের মতো নয়। শুধুমাত্র সূর্যোদয় দেখতেই দূর দূর থেকে পর্যটকরা ভিড় করে এখানে। কিন্তু হানিমুনের জন্য বেষ্ট হচ্ছে নুসা দুয়া বিচ। নীল আকাশের নিচে সবুজ সমুদ্র রাশি তো আর একা দেখে আনন্দ পাবেন না। সঙ্গে যদি প্রিয় মানুষটি থাকে তাহলে জীবনকে আরও বেশী সুন্দর মনে হবে। কুটা বিচের মতো আরও বেশ কিছু বিচের কারনেই বালি এতো জনপ্রিয় ভ্রমণ জায়গা হিসেবে স্থান পেয়েছে।

৪। স্পোর্টস– সবকিছুর পরও যদি বালিকে বোরিং মনে হয় তাহলে বালির কিছুপরিচিত কার্যকলাপ চেষ্টা করে দেখতে পারেন। বালিতে অনেকধরনের স্পোর্টস রয়েছে যা আপনার বাকেট লিস্টে আছে কিন্তু কখনো করা হয়নি। শুরু করতে পারেন সার্ফিং দিয়ে। বালির বেশীরভাগ বিচেই আপনি এটি করতে পারবেন। রয়েছে কাইট সার্ফিং এটি আপনি সানুর বিচে পাবেন। এছাড়াও ওয়াইট ওয়াটার রাফটিং, রিফ ওয়াকিং সাঁতার না জানলেও সমস্যা নেই। এছাড়াও স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, ফ্লাইং ফিশ , জেট স্কী, আন্ডার ওয়াটার স্কুটার, আইল্যান্ড হপিং, বানানা বোট, পেইন্টবল গেমস খেলে খুব মজা পাবেন। বেশীরভাগ স্পোর্টস গুলো নুসা দুয়াতে পাবেন। বালিতে গেলে কোনোভাবেই আপনি হতাশ হয়ে ফিরবেন না।

৫। মন্দির– অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপবালিতে রয়েছে অসংখ্য মন্দির। বালির অধিকাংশ অধিবাসী হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী। এটি ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র স্থান যেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। অনেক পর্যটকরা এই দ্বীপে এসে মন্দির প্রদর্শন করেন। তানাহ লট নামে একটি পরিচিত মন্দির রয়েছে যেটি সবচাইতে বেশী আকর্ষণীয়। এছাড়াও বেশ কিছু মন্দির রয়েছে যেমন- উলুন দানু বাটুর, তামান আয়ুন, উলুওয়াতু ওয়াটার মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির রয়েছে। সবধর্মের মানুষরাই ভ্রমণ করতে গেলে মন্দির গুলোও দেখে। কারন এতো সুন্দর কারুকার্যময় ঐতিহাসিক মন্দির দেখতে কার না ভালো লাগবে?

বালি সবধরনের সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ একটি দ্বীপ। সবকিছুই আপনাকে মুগ্ধ করবে এবং একবার গেলে অবশ্যই মন ভরবে না। বালিকে“লাস্ট প্যারাডাইজ” বলা হয়। বলা হয়ে থাকে স্বর্গের মতোই সুন্দর বালি। এই ছোট্ট দ্বীপটি একই সঙ্গে আপনার চোখ, মন, প্রান জুড়িয়ে দিবে।

Leave a Reply