ব্যাট হাতে রংপুরকে জেতালেন মাশরাফি


আবার ব্যাট হাতে রংপুর রাইডার্সের জয়ের নায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগের ম্যাচে তিনে নেমে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন অধিনায়ক। এবার সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে সাতে নেমে মাঠ ছাড়লেন দলকে জিতিয়ে।

মাশরাফি যখন ক্রিজে আসেন তখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে ম্যাচ। দুই ছক্কায় ১০ বলে অপরাজিত ১৭ রানের ইনিংসে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন অধিনায়ক। তার ছোট্ট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে আবার রংপুরের কাছে হেরেছে নাসির হোসেনের সিলেট।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতেছে রংপুর। ৯ ম্যাচে পঞ্চম এই জয়ে চার নম্বরে থাকল তারা।
সিলেটের ১৭৩ রান দুই বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় রংপুর। টানা তিন জয় দিয়ে শুরু করা সিলেট এই হারে শেষ চারে ওঠার লড়াই থেকে অনেকটাই ছিটকে গেল। ১০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৭।

রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরের। চার হাঁকিয়ে প্রথম ওভারে ফিরে যান ক্রিস গেইল। রংপুরের ফাটকা কাজে লেগে যাওয়ায় তার দ্রুত ফিরে যাওয়ার কোনো প্রভাব পড়েনি দলের ওপর। চলতি আসরে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নেমে ঝড় তোলেন জিয়াউর রহমান। তার সঙ্গে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ৫৯ রানের জুটি দলকে দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করায়।

১৮ বলে ৩৬ রান করে জিয়া ফিরেন নাবিল সামাদের বলে স্টাম্পড হয়ে। ১৮ রান করে বিদায় নেন মোহাম্মদ মিঠুন।

শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা ম্যাককালামকে সংগ্রাম করতে হয় পরে। ঠিকমতো টাইমিং হচ্ছিল না। নিজের জোনে বল পেয়েও কাজে লাগাতে পারছিলেন না। আবুল হাসানের স্লোয়ারে ডিপ স্কয়ার লগে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় ম্যাককালামের ৪৩ বলের ইনিংস।

নাসির হোসেনের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি। একই ওভারে দুইবার বদলি ফিল্ডার শুভাগত হোম চৌধুরীর হাতে জীবন পাওয়া রবি বোপারাও ফিরেন রান আউট হয়ে।

৩৩ রান করে বোপারা ফেরার সময় জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ১৬ বলে ২৮ রান। মাশরাফি-নাহিদুল ইসলাম দুই বল হাতে রেখেই দলকে এনে দেন দারুণ জয়। চার হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেওয়া নাহিদ অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে।

কাজে লাগেনি সিলেটের ফাটকা। মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয় নুরুল হাসানকে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ফিরে যান নাজমুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। তিন নম্বরে ব্যর্থ নাসির। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুলকে এগিয়ে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে ফিরেন অধিনায়ক।

মাশরাফি বিন মুর্তজার করা ম্যাচের প্রথম বলেই ফিরতে পারতেন আন্দ্রে ফ্লেচার। রবি বোপারার হাতে জীবন পাওয়া ক্যারিবিয়ান ওপেনারকে বিদায় করেন নাজমুল। মাঝে তিন ম্যাচে উইকেট না পাওয়া বাঁহাতি স্পিনার এবার ১৮ রানে নেন ৩ উইকেট।
সাব্বির রহমানের সঙ্গে বাবর আজমের ৭৪ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সিলেট। ৩৭ বলে ৪টি চার আর একটি ছক্কায় ৫৪ রান করে বাবরের রান আউটে ভাঙে জুটি। দলকে দেড়শ রানে নিয়ে যান সাব্বির। ৫টি চারে ৪৪ রান করা ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে বিদায় করেন মাশরাফি।

শেষটায় দুই ইংলিশ ক্রিকেটার রস হোয়াইটলি ও টিম ব্রেসনানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পায় সিলেট। তবে ম্যাচের ফল সেই হারই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৭৩/৫ (ফ্লেচার ২৬, নুরুল ৫, নাসির ৪, বাবর ৫৪, সাব্বির ৪৪, হোয়াইটলি ১৭*, ব্রেসনান ১৬*; মাশরাফি ১/৩৯, নাজমুল ৩/১৮, রুবেল ০/২৬, সামিউল্লাহ ০/২৮, মালিঙ্গা ০/৪৫, বোপারা ০/১৫)

রংপুর রাইডার্স: ১৯.৪ ওভারে ১৭৭/৬ ওভারে (গেইল ৫, জিয়া ৩৬, ম্যাককালাম ৪৩, মিঠুন ১৮, বোপারা ৩৩, সামিউল্লাহ ০, মাশরাফি ১৭*, নাহিদ ১৪*; তানভির ১/৪৪, নাবিল ১/৩১, ব্রেসনান ১/৪০, হাসান ১/২৫, রাব্বি ০/৩২)

ফল: রংপুর রাইডার্স ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল ইসলাম

Leave a Reply