উইকিপিডিয়াতে অপু বিশ্বাস

অপু বিশ্বাস একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি ২০০৪ সালে আমজাদ হোসেনের কাল সকালে ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। ২০০৫ সালে এফআই মানিক পরিচালিত কোটি টাকার কাবিন ছবিতে প্রধান নায়িকা হয়ে অভিনয় করেন শাকিব খানের বিপরীতে। অপু বিশ্বাস ৭২টির এরও বেশি ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। কর্মজীবনে তিনি একটি বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং ছয়টি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেছেন।

অপু বিশ্বাসের রয়েছে উইকিপিডিয়াতে নিজস্ব পেজ। সেখাতে তার ব্যাক্তিগত এবং কর্মজীবনে তথ্য রয়েছে, তা থেতে আমরা কিছু অংশ তুলে ধরলাম।

জন্ম ও কৈশোর
অপু বিশ্বাসের জন্ম বগুড়া জেলার সদর থানার কাটনারপাড়া এস কে লেনে। বাবা উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং মা শেফালী বিশ্বাসের তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সবার ছোট অপু। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বগুড়াতেই। প্রথম স্কুল এসওএস হারম্যান মেইনার। তারপর আলোর মেলা, ক্রিসেন্ট হাই স্কুল এবং সব শেষে ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বাবা-মায়ের যৌথ উৎসাহেই মূলতঃ নাচতে শুরু করেন। বগুড়ার নৃত্যগুরু আবদুস সামাদের কাছে নাচের তালিম নেন। এসময়ে তিনি লাইলী মজনু নৃত্যনাট্যে অভিনয় করেছেন।[২] প্রাতিষ্ঠানিক নাচের হাতেখড়ি হয় বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে। তারপর শিল্পকলা একাডেমি এবং সবশেষে নৃত্যাঞ্চল। নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন নৃত্যাঞ্চল আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় দশম হন।

অভিনয় জীবন
২০০৫-২০০৯, চলচ্চিত্রে আগমন ও প্রধান চরিত্র
অপু বিশ্বাস ২০০৫ সালে অবন্তি নামে আমজাদ হোসেন পরিচালিত কাল সকালে ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। পরের বছর এফআই মানিক পরিচালিত কোটি টাকার কাবিন ছবিতে প্রধান অভিনেত্রী হয়ে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন। ছবিটি ব্যবসা সফল হয় এবং অপু বিশ্বাস রাতারাতি তারকায় রূপান্তরিত হন। শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা পেলে এফআই মানিক এই জুটিকে নিয়ে একই বছরে পিতার আসন, চাচ্চু, ও দাদীমা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ২০০৭ সালে অপু মান্নার বিপরীতে মেশিনম্যান ছবিতে এবং পুনরায় শাকিব খানের বিপরীতে কাবিননামা ছবিতে অভিনয় করেন।

পরের দুই বছরে শাকিব-অপু জুটির আমাদের ছোট সাহেব (২০০৮), আমার জান আমার প্রাণ (২০০৮), তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা (২০০৮), মনে প্রাণে আছ তুমি (২০০৮), ভালোবাসার লাল গোলাপ (২০০৯), মন যেখানে হৃদয় সেখানে (২০০৯), জান আমার জান (২০০৯), মনে বড় কষ্ট (২০০৯), মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি (২০০৯), এবং ও সাথী রে…. (২০০৯) ছবি ব্যবসা সফল হয়। অপু ২০০৮ সালের জান আমার জান চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালের এক বুক ভালোবাসা ও ২০০৯ সালের মনে বড় কষ্ট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন।

২০১০-২০১৪, ব্যবসা সফলতা
২০১০ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না এবং বদিউল আলম খোকন পরিচালিত নিঃশ্বাস আমার তুমি চলচ্চিত্র দুটি ব্লকবাস্টার হিট হয়। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত নাম্বার ওয়ান শাকিব খান ব্যবসা সফল হয় এবং ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে অবস্থান করে। এছাড়া চাচ্চু আমার চাচ্চু, টপ হিরো, পরান যায় জ্বলিয়া রে, হায় প্রেম হায় ভালোবাসা, প্রেম মানেনা বাঁধা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সবকয়টি চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাকিব খান। ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না চলচ্চিত্রে জন্য তিনি তৃতীয়বারের মত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন।

২০১১ সালে তিনি অমিত হাসান প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র কে আপন কে পর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া শাকিব খানের বিপরীতে তার অভিনীত কোটি টাকার প্রেম, কিং খান, আদরের জামাই, প্রিয়া আমার জান, তোর কারণে বেঁচে আছি, একবার বলো ভালোবাসি এবং মনের ঘরে বসত করে মুক্তি পায়। ২০১২ সালে শাকিব খানের বিপরীতে এক টাকার দেনমোহর, এক মন এক প্রাণ, জিদ্দি মামা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এই বছর ঈদুল ফিতরে তার অভিনীত একটি ছবি ঢাকার কিং এবং ঈদুল আযহায় দুটি ছবি বুক ফাটেতো মুখ ফোটেনা ও দুর্দর্ষ প্রেমিক মুক্তি পায়। এক টাকার দেনমোহর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি পঞ্চমবারের মত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন।

২০১৩ সালে অপু শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত একই নামের চলচ্চিত্রে পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেন। চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তার সহ-অভিনয়শিল্পী ছিলেন শাকিব খান ও মৌসুমী। এছাড়া তিনি মাই নেম ইজ খান, ও প্রেমিক নাম্বার ওয়ান ছবিতে অভিনয় করেন। মাই নেম ইজ খান ছায়াছবিটি ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশ তালিকায় স্থান করে নেয়। এছাড়া অপু এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন। পরের বছর ভালোবাসা এক্সপ্রেস, সেরা নায়ক, দুই পৃথিবী, ডেয়ারিং লাভার,,জয় চৌধুরী, ও শিরিন শিলা অভিনীত হিটম্যান, হিরো: দ্যা সুপারস্টার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত হিরো: দ্যা সুপারস্টার ব্যবসাসফল হয় এবং ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে স্থান করে নেয়। অপু এবছর ডেয়ারিং লাভার ছবিতে অভিনয়ের জন্য ষষ্ঠবারের মত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন।

২০১৫-বর্তমান
২০১৫ সালে অপু শাকিব খানের বিপরীতে রাজা বাবু, রাজা ৪২০ ও লাভ ম্যারেজ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরের বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তার অভিনীত সম্রাট। মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাকিব খান ও কলকাতার ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। ঈদুল আযহার জন্য বসগিরি ও শুটার চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের কথা থাকলেও পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন নবাগত শবনম বুবলি। দীর্ঘ ১০ মাস পর মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে আসার পর শাকিব খান ও মিলনের বিপরীতে তার অভিনীত রাজনীতি চলচ্চিত্রটি ২০১৭ সালের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায়।

অপু বিশ্বাস অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা

অপু বিশ্বাসের ওয়েবসাইট

উইকিপিডিয়া বাংলা , উইকিপিডিয়া ইংরেজী