দুনিয়া কাঁপানো ৮টি ছবি

তিন বছরের শিশু আয়লানের ছবি দেখে এখনো অনেকে কেঁদে ফেলেন৷ সিরীয় এই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ভীষণ নাড়া দিয়েছে বিশ্ববাসীকে৷ ছবিঘরে থাকছে এমন আটটি ছবির কথা, যে ছবিগুলো অতীতে একইভাবে বিশ্বময় আলোড়ন তুলেছিল৷



নিজের কাপড় ছিঁড়ে বেঁচেছিল মেয়েটি
নাপাম বোমার আঘাতে দক্ষিণ ভিয়েতনাম তখন কেঁপে উঠেছে৷ ৯ বছরের ফান থি কিম পুক কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলো সবাই পাগলের মতো ছুটছে৷ নিজে ছুটতে শুরু করার আগেই দেখে গায়ের জামাকাপড়ে আগুন৷ আগুন নেভানোর চেষ্টা করে কাজ হলো না, বুদ্ধি করে নিজের কাপড় ছিড়ে ফেলে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াতে শুরু করলো৷ ৯ বছরের মেয়েটির ছবিও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় তুলেছিল৷ এ ছবির জন্য ১৯৭৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন ফটোগ্রাফার নিক উট৷



কাঁটাতারে শুমান
জার্মানি তখন সবে আলাদা হয়েছে, দু দেশের মাঝখানে গড়া শুরু হয়েছে প্রাচীর৷ পূর্ব জার্মানির সৈন্য কনরাড শুমান সেই সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁটা তারের বেড়া ডিঙিয়ে চলে আসেন পশ্চিম জার্মানিতে৷ ১৯৬১ সালের আগস্ট মাসের এই ছবিটিও সবার হৃদয় ছুঁয়েছিল৷ শুমান নিজেও কোনোদিন ভুলতে পারেননি সেই দিনটির কথা৷ ১৯৯৮ সালে আত্মহত্যা করেন তিনি৷ ৪৪ বছর আগে শুমানের এই ছবিটি তুলেছিলেন পেটার লাইবিং৷



ধুলায় ঢাকা নারী
মার্সি বর্ডার৷ ধুলায় তাঁর শরীর ঢেকে যাওয়ার কারণ বিশ্বের নিষ্ঠুরতম সন্ত্রাসী হামলা৷ ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বরের ছবি এটি৷ টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে সেখানে ছিলেন মার্সি বর্ডার৷ এই ছবির কারণে ৯/১১-র পর থেকে সবাই ‘ডাস্ট লেডি’ নামেই সবাই তাঁকে চিনতো৷ ওই হামলার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় পাকস্থলীতে ক্যানসার হয়েছিল৷ ক্যানসারে ভুগে এ বছরের ১৫ আগস্ট ৪২ বছর বয়সে মারা যান তিনি৷



নির্ভিক এক মানুষ
১৯৮৯ সালের ৫ই জুন তিয়েনানমেন স্কয়ারের প্রতিবাদ বিক্ষোভকে দমন করতে যখন চীনা সেনাবাহিনী হামলা চালায় তখন ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন একজন৷ এভাবে বেশ কয়েকটি ট্যাংককে কিছুক্ষণ থামিয়েও রেখেছিলেন৷ সেই মুহূর্তটিকে ক্যামেরায় ধরে রেখেছিলেন জেফ উইডেনার৷ ছবিটি তোলার পরপরই অকুতোভয় ব্যাক্তিটিকে সেখান থেকে নিয়ে যায় পুলিশ৷ ২৬ বছরেও অসম সাহসী লোকটির পরিচয় জানা যায়নি, জানা যায়নি তিনি কোথায়, কেমন আছেন!



প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে প্রাণ দিল জার্মান তরুণ
ইরানের রেজা শাহ পেহলভির রাষ্ট্রীয় সফরের প্রতিবাদে বার্লিনের রাস্তায় বিক্ষোভে নেমেছিল অনেক মানুষ৷ শাহ বার্লিন অপেরায় বসে দিব্যি মোৎসার্টের ‘দ্য ম্যাজিক ফ্লুট’ উপভোগ করছেন৷ বাইরে শুরু হয়ে গেল জনতা-পুলিশ মারামারি৷ উত্তেজনা তৈরির পেছনে শাহ-র গোয়েন্দাদের উসকানির অবদান ছিল বলে অনেকে মনে করেন৷ একটা সময়ে প্রতিবাদী ছাত্র বেনো ওনেসর্গ-কে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ৷



জন এফ কেনেডির মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির আততায়ীর গুলিতে নিহত হবার ছবিটিও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল৷ কেনেডি তখন গাড়িতে৷ হঠাৎ আততায়ীর গুলি৷ মাথায় লেগেছিল গুলি৷ অ্যাব্রাহাম জ্যাপারডার তুলেছিলেন ছবিটি৷ আর কোনো ক্যামেরায় ধরা পড়েনি মুহূর্তেরও খণ্ডাংশের সেই দৃশ্য৷



অলিম্পিকে সন্ত্রাসী হামলা
১৯৭২ সালে জার্মানির মিউনিখে বসেছিল অলিম্পিকের আসর৷ অনেকের কাছে আসরটি বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে ইসরায়েলের অলিম্পিক দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার কারণে৷ ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর নামের একটি ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের ১১ জন ক্রীড়াবিদকে জিম্মি করে ফেলে৷ পরে তাদের হত্যা করা হয়৷ ছবিতে এক ভবনের ব্যালকনিতে দেখা যাচ্ছে এক অপহরণকারীকে৷



আফগান মেয়ে
আফগানিস্তান তখন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে৷ পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়া এই আফগান কিশোরীর ছবি তখনেই তুলেছিলেন স্টিভ ম্যাককারি৷ ১৯৮৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক প্রচ্ছদ ছবির মর্যাদা দেয় ছবিটিকে৷ শরবত গুলা নামের মেয়েটি তা জানেনইনা৷ ২০০২ সালে তাকে খুঁজে পায় সংবাদমাধ্যম৷ শরবত গুলা তখন জানতে পারেন তাঁর ১২ বছর বয়সের কোনো ছবির জগত বিখ্যাত হওয়ার সত্যি কাহিনি৷

রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগর পাড়ে যাত্রীবাহী বিমান

তুরস্কের ত্রাবজোনের বিমান বন্দরে অবতরণের পর যাত্রীবাহী একটি বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগরের ঢালু পাড়ের উপরে গিয়ে ঝুলে পড়ে। যাত্রীবাহী বিমানটি ১৬৮ জন যাত্রী নিয়ে সাগরের পানির মাত্র কয়েক মিটার ওপরে গিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

শনিবার তুরস্কের কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী শহর ত্রাবজোন বিমান বন্দরে এই ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় ১৬৮ জন যাত্রীসহ বিমান ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।

স্থানীয় গভর্নর ইউসেল ইয়াভুজ জানিয়েছেন, এই ঘটানয় কেউ আহতও হননি। তবে বিমানের এই দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত করা হবে। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদলু ফাতিমা গরদু নামে এক যাত্রীকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, “আমরা সবাই বিমানটির একপাশে গিয়ে পড়েছিলাম। প্রচণ্ড ভীতি তৈরি হয়েছিল। সবাই চিৎকার করছিলো।”

গভর্নর ইউসেল ইয়াভুজ জানিয়েছেন, তদন্ত করার জন্যে কয়েক ঘন্টা এয়ারপোর্ট বন্ধ রাখা হয়। তবে পেগাসাস এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান সাগরের খাড়া কর্দমাক্ত তীরের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়।

অসুস্থ মাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা

নিজের মাকে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল সে। পরে মায়ের মৃত্যু দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টাতেও ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। রাজকোট পুলিশ জানিয়েছে, জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজের মা’কে খুনের কথা স্বীকার করেছে সন্দীপ নাথওয়ানি নামে ওই সহকারী অধ্যাপক (৩৬)। স্থানীয় একটি ফার্মেসি কলেজের শিক্ষক সে।

ঘটনা গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বরের। সন্দীপের মা ৬৪ বছর বয়সী জয়শ্রীবেন বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর নাথওয়ানি পরিবার দাবি করে, মাথার অসুখে ভুগছিলেন বৃদ্ধা। ছাদে উঠে টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। আত্মহত্যাও করে থাকতে পারেন। কিন্তু এক বেনামি চিঠিতে মোড় ঘুরে যায় তদন্তের। চিঠিতে নাথওয়ানিদের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরামর্শ ছিল।

এলাকার ডিসিপি করঞ্জরাজ বাঘেলা জানিয়েছেন, দেখা যাচ্ছে, সন্দীপই ধরে ধরে মাকে ছাদে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নামল একা। কিছুক্ষণ পরেই একজন ছুটে এসে তাকে বৃদ্ধার পড়ে যাওয়ার খবর দেন। সন্দীপ এমন ভান করছে যেন কিছুই জানে না। সন্দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জেরার মুখে সন্দীপ মাকে হত্যার কথা স্বীকার করে।
খবর আনন্দবাজার পত্রিকা

ব্যাগের ভেতর হৃৎপিণ্ড নিয়ে বেঁচে আছেন সেলওয়া হুসেইন

একবার চিন্তা করে দেখুন, আপনার হৃৎপিণ্ড বুকের ভেতরে নয়, বরং ব্যাগে করে পিঠে বয়ে বেড়াচ্ছেন! অবিশ্বাস্য এই গল্পটাই ব্রিটিশ নাগরিক সেলওয়া হুসেইনের জীবন।

ছয় মাস আগের কথা।নিজের বাড়িতেই ছিলেন দুই সন্তানের মা ৩৯ বছর বয়সী সেলওয়া। নিঃশ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হওয়ায় এসেক্স শহরে নিজেদের পারিবারিক ডাক্তারের কাছে গিয়ে উপস্থিত হন তিনি। স্থানীয় হাসপাতালে নেবার পর দেখা যায় সিভিয়ার হার্ট ফেইলিওর হয়েছে তার। চারদিন পর তাকে বিখ্যাত হেয়ারফিল্ড হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়। কার্ডিওলজিস্টরা প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন, এরপরেও তার শরীর ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে। তিনি এতই অসুস্থ ছিলেন যে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দিয়ে কাজ হচ্ছিল না আর হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট করার অবস্থাও ছিল না। কী করা যায় এই অবস্থায়? অন্য কোন উপায় না থাকায় তার স্বামী আল হুসেইন রাজি হন কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড ব্যবহারে।

সেলওয়া হুসেইনের আসল হৃৎপিণ্ড অপসারণ করে আর্টিফিশিয়াল ইম্পলান্ট শরীরে বসানো হয় ছয় ঘন্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। একটি আর্টিফিশিয়াল ইমপ্ল্যান্ট তার বুকের ভেতরে স্থাপন করা হয় এবং ব্যাকপ্যাকে নেবার মতন একটি স্পেশালাইজট ইউনিট তৈরি করা হয়। ৮৬ হাজার পাউন্ড খরচের এই ইমপ্লান্ট সার্জারির নেতৃত্বে ছিলেন সার্জন ডায়ানা গ্রেসিয়া সেজ এবং আন্দ্রে সায়মন।

সেলওয়ার কৃত্রিম এই হৃৎপিণ্ডের অংশ হলো ব্যাটারি, ইলেকট্রিক মোটর এবং পাম্প। ব্যাকপ্যাক থেকে দুইটি টিউব নাভির মাধ্যমে তার বুকে প্রবেশ করে এবং এর মাধ্যমে বাতাস গিয়ে হৃৎপিণ্ডের জায়গায় থাকা দুইটি প্লাস্টিকের এয়ার চেম্বার ফুলিয়ে তোলে এবং রক্ত সঞ্চালন করে সারা শরীরে।


তার এই স্পেশালাইজড ইউনিট থাকে পিঠের ব্যাকপ্যাকে। দুই সেট ব্যাটারির মাধ্যমে মোটরটিকে চালু রাখা হয়। হাতের কাছেই আরেকটি স্পেশালাইজড ইউনিট রাখা হয় যাতে প্রথমটি অকেজো হয়ে গেলে দ্রুত পাল্টে নেয়া যায়। ৯০ সেকেন্ডের মাঝে এই পাল্টানোর কাজটি করতে হবে, তাই তার যত্ন নিতে পারেন এমন কাউকে সর্বক্ষণ তার পাশে থাকতে হয়।

বিগত কয়েক মাসে সেলওয়া হুসেইন ব্যাগের মাঝে হৃৎপিণ্ড নিতে জীবনযাপনে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। সর্বক্ষণি এই মেশিনের শব্দ তার সঙ্গী। বিশেষজ্ঞরা জানান, তার হৃৎপিণ্ডে ছিল কার্ডিওমায়োপ্যাথি নামের একটি সমস্যা, যা কিনা গর্ভাবস্থার কারণে আরো খারাপ হতে পারে। দ্রষ্টব্য যে, ১৮ মাস আগে একটি সন্তানের জন্ম দেন তিনি। এই বছরের শুরুতে যখন তার বুকে ব্যথা শুরু হয়, ডাক্তাররা একে বদহজমের সমস্যা বলে মনে করেন এবং তেমন আমলে নেননি।

২০১১ সালে ব্রিটেনের ক্যামব্রিজশায়ারের প্যাপওর্থ হসপিটালে ৫০ বছর বয়সী এক পুরুষের শরীরেও এই একই অস্ত্রোপচার করা হয়। ২ বছর এই কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড ব্যবহারের পর তিনি একটি হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের সুযোগ পান। আশা করা হচ্ছে সেলওয়া হুসেইনও শীঘ্রই ট্রান্সপ্লান্ট পেয়ে যাবেন।

ঢাকায় ‘রোহিঙ্গা’ বলে তোপের মুখ পোপ

বাংলাদেশ সফরের সময় পোপ ফ্রান্সিস ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করায় মিয়ানমারে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এ বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য পোস্ট করছেন। খবর ফার্স্টপোস্টের।
ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি বললেও এর মাত্র কয়েকদিন আগে পোপ ফ্রান্সিস যখন মিয়ানমারে ছিলেন তখন তিনি এই শব্দটি এড়িয়ে যান।
শুক্রবার ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় এই নেতা ঢাকার একটি গির্জায় কয়েকজন রোহিঙ্গার দুর্দশার কথা শোনেন। তিনি তখন রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন।
রোহিঙ্গা শব্দটি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা রোহিঙ্গাদেরকে জাতিগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকার করে না। তাদের কাছে রোহিঙ্গারা অবৈধ বাঙালি।
মিয়ানমারে গিয়ে তিনি যখন রোহিঙ্গা শব্দটি বলেন নি তখন মিয়ানমারের ক্ষুদ্র ক্যাথলিক গোষ্ঠী তার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছিলো। প্রশংসা করেছিলেন কট্টরপন্থী বৌদ্ধরাও।

ঢাকায় ‘রোহিঙ্গা’ বলে তোপের মুখ পোপ

কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রোমের পথে বিমানের ভেতরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কেন তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি বলেননি।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করার পর মিয়ানমারের অনলাইনে এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে। দেশটিতে পাঁচ দশকের মতো সময় মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু এখন এই দেশটিতে লোকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন।
“তিনি হচ্ছেন একটা গিরগিটির মতো, আবহাওয়ার কারণে যার গায়ের রঙ বদলে গেছে,” ফেসবুকে এই মন্তব্য করেছেন অং সো লিন।
আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সোয়ে সোয়ে মন্তব্য করেছেন, “তার একজন সেলসম্যান বা দালাল হওয়া উচিত। একজন ধর্মীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।”
মিয়ানমারের ক্যাথলিক চার্চ থেকে পোপ ফ্রান্সিসকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো তিনি যাতে বিতর্কিত বিষয়ে কিছু না বলেন। কারণ সেরকম কিছু করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং সেখানে খ্রিস্টানদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
পোপ ফ্রান্সিস যখন মিয়ানমারে ভাষণ দেন তখন তিনি তাতে ঐক্য, ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে সম্মান জানানোর কথা বললেও রোহিঙ্গা শব্দটি একবারের জন্যেও উচ্চারণ করেননি।
একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ইয়ে লং মিন পোস্ট করেছেন, “পোপ একজন পবিত্র মানুষ। কিন্তু তিনি মিয়ানমারে এক কথা বললেন আবার অন্য একটি দেশে গিয়ে অন্য কথা বললেন। তিনি যদি সত্যকে ভালোবাসেন তাহলে তার সবখানে একই কথা বলা উচিত ছিল।”
অন্যদিকে মিয়ানমারে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা মং থোয়ে চুন পোপের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেছেন, “মানবাধিকার গ্রুপের চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারে তিনি ‘রোহিঙ্গা’ বলেন নি। তার অর্থ তিনি মিয়ানমারের লোকজনকে ভালোবাসেন। এই শব্দটি তিনি বাংলাদেশে বহুবার উচ্চারণ করেন নি। মাত্র একবারই এটা বলেছেন। আমার মনে হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্যে তিনি এ কাজ করেছেন।”

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণের দৌড়ে এগিয়ে ইরান

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান একের পর এক উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। রাজতন্ত্র শাসিত তেল সমৃদ্ধ রক্ষণশীল উপসাগরীয় দেশটির খোলনলচে বদলে দিতে তিনি এখন সদাই ব্যস্ত। সৌদি শাসকদের দৃষ্টিতে ইরানই তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের স্বার্থ তাই তাদের টার্গেট। ইয়েমেনে চলমান সামরিক অভিযান তারই অংশ। কদিন আগে ইয়েমেন থেকে পাল্টা জবাব হিসেবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়েছে। এতে ভেঙে পড়া রিয়াদ-তেহরান সম্পর্কে আরো তেঁতে উঠেছে।

সৌদি আরবের দৃঢ় পদক্ষেপ সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ইরান এগিয়ে। নভেম্বরের প্রথম দিকে সাদ হারিরিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি বিন সালমান। শেষ পর্যন্ত হারিরি তার পদেই টিকে যান। খবরটি ছিল তেহরানের জন্য স্বস্তিকর। রিয়াদের অভিযোগ, লেবাননের প্রভাবশালী শিয়া মিলিশিয়া গ্রুপ হিযবুল্লাহর পৃষ্ঠপোষকতা করছেন হারিরি। এ কারণে তাকে সরিয়ে হিযবুল্লাহকে কোণঠাসা করতে চেয়েছিলেন বিন সালমান; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হননি। তবে হারিরিকে নিয়ে সৌদি আরবের পরবর্তী পরিকল্পনা কি হতে পারে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইরাক থেকে সিরিয়া এরপর লেবানন ও ইয়েমেন- সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধে দেশগুলো এখন ইরানের প্রভাব বলয়ের মধ্যে। অপরদিকে উপসাগরীয় দেশ কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে ইরান। সম্প্রতি কয়েকটি উপসাগরীয় দেশকে নিয়ে কাতারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ইরানের সহযোগিতায় কাতার অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়। কাতার দেখিয়ে দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিভাবে টিকে থাকতে হয়। ইয়েমেনে শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশটিতে সৌদির সামরিক অভিযান অব্যাহত আছে। এতে সৌদি আরবের অর্জন হলো পুরো ইয়েমেন হুতিদের দখলে চলে যায়নি। বাব আল মান্দিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণও তারা নিতে পারেনি। ফলে ইয়েমেনকে ইরান এখনো নিজেদের ঘাঁটি বানাতে পারেনি; কিন্তু এর ফলে অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি যুুদ্ধে জড়িয়ে গেছে সৌদি আরব। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশু কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধের ফলে ইয়েমেন মানবিক সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। দুর্ভিক্ষের শিকার ক্ষুধার্ত, হাড্ডি চর্মসার শিশুদের ছবি প্রায়ই আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে যা রিয়াদের ভাবমূর্তি করে তুলছে তমসাচ্ছন্ন।

২০০৫ সালের মার্চে লেবাননে সিরিয়ার শাসক বাশার আল আসাদের বিরোধীদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়। মার্চ ১৪ মুভমেন্ট নামে ওই জোটের পৃষ্ঠপোষক ছিল সৌদি আরব। এটি ছিল ইরান (হিযবুল্লাহ) ও সিরিয়া বিরোধী একটি জোট। পরের বছর ২০০৬ সালের জুলাই-আগস্টে ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধে ওই জোটের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ শেষ হয়ে যায়। ৩৪ দিনের ওই যুদ্ধটি কার্যত হয়ে উঠেছিল ইসরাইল-হিযবুল্লাহ যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে হিযবুল্লাহর প্রতি লেবাননের জনগণের সমর্থন বেড়ে যায়। ওই বছর নভেম্বরে সাদ হারিরির নেতৃত্বে গঠন করে মার্চ ১৪ মুভমেন্ট নামে আরেকটি জোট। এই জোটটি ২০০৮ সালের মে মাসে সৌদি সমর্থিত মার্চ ১৪ মুভমেন্টকে কার্যত বিলুপ্ত করে দেয়। ওই সময় হিযবুল্লাহ রাজধানী বৈরুতের একটি অংশ সরাসরি দখল করে নিয়েছিল। গত বছর ডিসেম্বরে লেবাননের যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয় তাতে হিযবুল্লাহ সদস্যদেরই প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে। শেষ হিযবুল্লাহরই পছন্দে মিশেল আওনকে দুই মাস আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে পার্লামেন্ট। এভাবে লেবাননকে নিজের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান। সৌদি আরব প্রাথমিকভাবে লেবনিজ সেনাবাহিনীর আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়ে ও পরে হারিরিকে জোর করে পদত্যাগের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।

২০১১ সালে সিরিয়ায় আসাদকে উত্খাতের লক্ষ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হিযবুল্লাহর মিলিশিয়ারা এতে আসাদের পক্ষে অংশ নিয়েছে। এখানেও ইরানের প্রভাব ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি সৌদি আরব। আসাদকে টিকিয়ে রাখতে ইরান আর্থিক, সামরিক, সরঞ্জামাদি ও প্রশিক্ষণ কোনো দিক দিয়েই প্রচেষ্টা রাখেনি ইরান। ইরানের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ সেখানে স্থানীয় মিলিশিয়ার উদ্ভব ঘটিয়েছে। আসাদবিরোধী মিলিশিয়া গ্রুপগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি দিয়ে সহায়তা করলেও এই সহায়তার একটি বড় অংশ আসাদের পক্ষে লড়া ইরানের মদদপুষ্ট মিলিশিয়াদের হাতে গিয়ে পড়ে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব দেশগুলো আসাদবিরোধী সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে সহায়তা করলেও পরিকল্পনা মতো না হওয়ায় তা শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি বরং কিছু চরমপন্থি গ্রুপের জন্ম হয়েছে।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাকেও এখন ইরানের প্রভাব প্রবল। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সব দিক দিয়ে ইরাককে গাঁটছড়া বাঁধতে হয়েছে ইরানের সঙ্গে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে ১ লাখ ২০ হাজার সেনা সদস্য নিয়ে ইরাকে গঠন করা হয়েছে পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট (পিএমইউ)। মাসখানেক আগে জঙ্গি গ্রুপ আইএসের দখল থেকে মসুল ও কিরকুক অভিযানে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইরানি সৈন্যরাও যে অংশ নিয়েছে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি তা স্বীকারও করেছেন। ক্ষমতাসীন ইসলামিক দাওয়া পার্টির সঙ্গে ইরানের সুসম্পর্ক রয়েছে। দলটি ইরানপন্থি হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী আবাদি অক্টোবরে সৌদি আরব সফর করেছেন। ২৭ বছর পর এই প্রথম কোনো ইরাকি সরকার প্রধান সে দেশ সফরে গেলেন। যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত দেশটি পুনর্গঠনে সৌদি বিনিয়োগ একান্ত প্রয়োজন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদ সহযোগিতার হাত কতটুকু সম্প্রসারিত করতে রাজি হয়েছে তা জানা যায়নি। সব মিলিয়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে বলে মনে হয়। সৌদি আরব যেখানে শুধু প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে, ইরান সেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয়ভাবে নিজের শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে। সারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান অনেক প্রক্সি শক্তি তৈরি করেছে যারা তেহরানের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে রিয়াদের তেমন কিছু চোখে পড়ে না। বরং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে দূরে ঠেলে দিচ্ছে রিয়াদ। ইরানের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলকে কাছে টানার চেষ্টা করছে। আদর্শিক মিল না থাকায় এতে করে সৌদি আরব কতটুকু কী অর্জন করবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

জাপানের উপকূলে ভাসছে ‘মৃতদেহ বোঝাই নৌকা’

জাপানের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে আরেকটি ‘মৃতদেহ বোঝাই’ নৌকা ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে৷ এ নিয়ে এ মাসে এমন মোট চারটি নৌকা পাওয়া গেল৷ ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো উত্তর কোরিয়া থেকে এসেছে৷

গত রবিবার জাপানের উত্তরাঞ্চলের আকিতা উপকূলে ভাঙাচোরা এ নৌকাটিকে ভাসতে দেখা যায়৷ স্থানীয় পুলিশ পরে সেই নৌকা থেকে আটটি মৃতদেহ উদ্ধার করে৷ বেশিরভাগ মৃতদেহ পচে গলে গিয়েছিল, যা থেকে ধারণা করা যায় অনেকদিন ধরেই মৃতদেহ নিয়ে নৌকাটি সমুদ্রে ভাসছে৷ পুলিশ জানায়, ২০ মিটার লম্বা নৌকার গঠন ও মাস্তুল দেখে নৌকাটিকে কোরীয় বলে সনাক্ত করা যায়৷ এছাড়াও নৌকায় উত্তর কোরিয়ায় তৈরি সিগারেটের প্যাকেটও পাওয়া গেছে৷ যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, তবে আগের মতোই এ নৌকাটিও উত্তর কোরিয়া থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ নভেম্বরের ২৩ তারিখ আকিতা অঞ্চলের এক বাসিন্দা রাতের বেলা উপকূলের কাছে অপরিচিত মানুষ দেখে পুলিশকে জানান৷ পরে সেই ব্যক্তিকে জেরা তিনি যে উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দা সে বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ৷

অবশেষে সু চির সম্মান প্রত্যাহার করল অক্সফোর্ড


ব্রিটেনের অক্সফোর্ড শহরের নগর কাউন্সিল মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে দেয়া সম্মান প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
অক্টোবরে তার এ খেতাব প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেয় কাউন্সিল।
নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি যে আচরণ করছে, তাতে মিজ সু চি আর ‘ফ্রিডম অব দি সিটি’ নামের ওই পুরস্কারের যোগ্য নন।
অক্সফোর্ড শহরের সাথে নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী অং সান সু চির নাম জড়িয়ে আছে, কারণ তিনি সেখানে পড়াশোনা করেছিলেন।
মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার কারণে কয়েক লক্ষ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
দেশটিতে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকার সময়ে বছরের পর বছর মিজ সু চি গৃহবন্দী ছিলেন।
তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার থাকতে দেখা গেছে তাকে।
কিন্তু দেশটিতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর যে ভাবে নির্যাতন হয়েছে তাতে করে মিজ সু চির ভূমিকায় হতবাক হয়েছেন বিশ্বের অনেক নেতারা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নিন্দা জানিয়েছে এই নির্যাতনের।
এদিকে সেন্ট হাগ’স কলেজ যেখানে মিজ সু চি পড়াশোনা করেছিলেন সেখান থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

মা-বাবার খোঁজে চলন্ত বাসের নিচে ৮০ কিলোমিটার!


ছোট্ট দু’টি ছেলে বাবা-মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য বাসের নিচে চাকার কাছে লুকিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। চীনের দক্ষিণ গুয়াংশি প্রদেশের এক দরিদ্র গ্রামের অধিবাসী ছেলে দু’টির বাসের নিচে এভাবে লুকিয়ে থাকার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে অভিভাবকহীন শিশুদের ভালোমন্দ নিয়ে তীব্র সমালোচনা আর নিন্দার ঝড় বইছে অনলাইনে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ওই দুই ছেলের সংবাদটি প্রথম আসলেও সেখানে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। নিজ গ্রাম থেকে তারা তাদের বাবা-মাকে খুঁজতে বেরিয়েছিল। তারা পাশের গুয়াংডং প্রদেশে থেকে কাজ করেন।

গত ২৩ নভেম্বর ছেলে দু’টোর নিখোঁজ হওয়ার কথা জানান তাদের এক শিক্ষক। আর ওই দিনই একটি বাস স্টেশনে বিরতিতে থেমে থাকা একটি গাড়ির নিচের অংশে পাওয়া যায় তাদের। প্রকাশিত ছবি আর ভিডিওতে দেখা যায়, বাচ্চা দু’টো কাদামাটিতে আপাদমস্তক ঢাকা অবস্থায় বাসের তলা ধরে ঝুলে আছে।

সাউদার্ন মর্নিং পোস্টের সূত্রে বিবিসি জানায়, ওই ছেলেদের বয়স আনুমানিক আট থেকে নয় বছর। বাসটি একটি স্টেশনে থামার পর সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের দেখতে পায়।

বাসটি টানা প্রায় তিন মাইল লম্বা খাঁড়া ঢালু রাস্তা পার হয়ে ওই স্টেশনে পৌঁছেছিল। এরপরও ছেলে দু’টো পুরোপুরি অক্ষত থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন বাসের কর্মীরা। বাসের এক কর্মী জানান, শিশু দু’টোর গড়ন খুবই রোগা হওয়ায় বাসের নিচে তারা সহজেই লুকাতে পেরেছিল।

কর্মীরা জানান, বের করার পর দু’জনকে এভাবে বিপজ্জনক উপায়ে চলাচলের ব্যাপারে নানা প্রশ্ন করা হলেও কোনো প্রশ্নেরই জবাব দিচ্ছিল না তারা। পরে আমরা বুঝতে পারি, ছেলে দু’টো তাদের মা আর বাবার জন্য খুব বেশি ব্যাকুল হয়ে ছিল। ওরা গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিল কারণ যেন কোনোভাবে তাদের বাবা-মাকে খুঁজে পেতে পারে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুই শিশুকে খুঁজে পাওয়ার পর তাদের আত্মীয়দের জানানো হয়। ওই দিন সন্ধ্যায়ই আত্মীয়রা এসে তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস, মিয়ানমারের পক্ষে মাত্র ১০ ভোট

un
জাতিসংঘের এজেন্ডা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু গৃহীত হয়েছে। এতে ভোটাভুটির মাধ্যমে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের প্রস্তাব পাস করেছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ ১৩৫টি দেশ ভোট দিয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে চীন, রাশিয়াসহ ১০টি দেশ। তবে ভোট দানে বিরত থেকেছে ভারতসহ ২৬টি দেশ।
বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক অভিযান বন্ধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহবান জানানো হয়। সেইসাথে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে আসার এবং এবং তাদের পূর্ণ নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে ৫৭ মুসলিম দেশের সংগঠন ওআইসির আহবানে এ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটি এ ভোটাভুটি অনুমোদন করে।
এতে মিয়ানমারের ঘনিষ্ট প্রতিবেশী চীন, সেইসাথে রাশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও লাওসসহ ১০টি দেশ বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জড়িয়ে পড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটির ঘনিষ্ট মিত্র ভারত। সেইসাথে দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ ২৬টি দেশ এ ভোটাভুটিতে নিজের অবস্থান জানাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। রাখাইনে গণহত্যার শুরু থেকে ভারত সরকার এ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে আছে দাবি করা হলেও এ ভোটাভুটিতে তারা অংশ নেওয়ায় বিরত থাকে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখানে জাতিগত নিধন শুরু করে। তাদের সাথে যোগ দেয় স্থানীয় উগ্রবাদী বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী। নির্বিচারে হত্যা, গণধর্ষণ, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়ে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজারের মত রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। আক্রান্ত এ সব মানুষকে আশ্রয় দিতে বাংলাদেশ সরকার দেশটির সীমান্ত খুলে দেয় এবং তাদের পাশে দাঁড়ায়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাসকৃত উপরোক্ত প্রস্তাবটির ফলে মিয়ানমার সরকারের ওপর একটি বড় বাড়তি চাপ পড়বে সন্দেহ নেই। বিপুলসংখ্যক দেশ মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে তাদের নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে একমত হয়েছে, এটি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে নিশ্চয়ই। কিন্তু চীন ও রাশিয়ার মতো দুটি বৃহৎ রাষ্ট্র, যারা সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী বটে, প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়ায় কিছু প্রশ্নের উদ্ভব হওয়াটাই স্বাভাবিক। ‘মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শিরোনামে প্রস্তাবটি তুলেছিল ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর সংগঠন ওআইসি। এ প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সংকট থেকে উত্তরণের নিমিত্তে বেশকিছু দিকনির্দেশনাও রয়েছে। বিশেষত চীন ও রাশিয়া বিপক্ষে ভোট দেয়ায় এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, দেশ দুটি রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় না। হতে পারে মিয়ানমারের সঙ্গে বিপক্ষে ভোটদানকারী দেশগুলোর বিশেষ স্বার্থ রয়েছে। কিন্তু সে কারণে এত ব্যাপক আকারের একটি মানবিক সমস্যা সমাধানের প্রস্তাবটি তারা যে সমর্থন করল না, এটা পরিতাপের বিষয় বৈকি। রোহিঙ্গা নিধন ও বিতাড়নকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কারণ এটি একদিকে একটি বড় জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্বের প্রশ্ন, অন্যদিকে তা বাংলাদেশের জন্য তৈরি করেছে বহুমাত্রিক ঝুঁকি। বস্তুত এটি একটি বড় মাপের সংকটও বটে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমস্যার ডালপালা বিস্তার করতে পারে। আমরা চীন ও রাশিয়ার ভূমিকায় মর্মাহত ও হতাশ হয়েছি।
বিশেষত ভারত যে ভোটদানে বিরত থেকেছে, সেটাও আমাদের বিস্মিত করেছে। ভারতীয় নেতারা মুখের কথায় বাংলাদেশকে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী হিসেবে আখ্যা দেন, অথচ বাংলাদেশেরই এক বড় সংকটে তারা নিষ্ক্রিয় থাকবেন- এটা পররাষ্ট্রনীতিতে তাদের বৈপরীত্যই প্রমাণ করে। আমরা চাইব- চীন, রাশিয়া, ভারতসহ যেসব দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে অথবা ভোটদানে বিরত থেকেছে, তাদের ভাবান্তর হবে এবং নতুন চিন্তার আলোকে তারা রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের পক্ষে কার্যকর অবস্থান নেবে।