কুকুর সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা

পশুপাখির মধ্যে প্রাণের উপস্থিতির পাশাপাশি রয়েছে আহার-বিহার, বিচরণ ও সন্তান ধারণের ক্ষমতা। এসব গুণ-বৈশিষ্ট্য আছে মানুষেরও।
এরই সঙ্গে মানুষের আছে বিবেক ও বোধশক্তি; জ্ঞান অর্জনের যোগ্যতা এবং সত্য-মিথ্যা পরখ করার ক্ষমতা। এ গুণেই মানুষ শ্রেষ্ঠ জীবের আসনে সমাসীন। ইসলাম মনে করে, এই পৃথিবীতে মানুষের পরই প্রাণিজগতের স্থান।

প্রাণিজগৎকে পৃথক জাতিসত্তার স্বীকৃতি দিয়ে কোরআন বলছে : পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী আছে আর যত পাখি দুই ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, তারা সবাই তোমাদের মতো একেক জাতি। (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩৮) সে হিসেবে বলা যায়, কুকুর আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। নিম্নে কুকুর সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা উল্লেখ করা হলো—

(১) শিকারের উদ্দেশ্যে, ফসল হেফাজতের উদ্দেশ্যে, পাহারাদারির জন্য, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির হেফাজতের লক্ষ্যে, ঘরবাড়ি, দোকান ও অফিস পাহারার জন্য, অপরাধের উৎস সন্ধান ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে কুকুর লালন-পালন করা বৈধ। (ফতোয়াতে মাহমুদিয়া : খ. ১৮, পৃ. ২৬৪/ ফতোয়ায়ে আলমগিরি : খ. ৪, পৃ. ২৪২)
(২) শখ করে ঘরে কুকুর রাখা, মানুষের চেয়ে কুকুরের যত্ন বেশি নেওয়া, কুকুরের সঙ্গে মানবীয় সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালন-পালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়। (মুসলিম : হাদিস ১৫৭৫; তিরমিজি : হাদিস ১৪৮৭)
অন্য হাদিসে আছে, এক কিরাত হলো, উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ। (মুসনাদে আহমদ : হা. ৪৬৫০)
(৩) কুকুরের শরীর নাপাক নয়। তাই কুকুর কারো শরীর বা কাপড় স্পর্শ করলে তা নাপাক হবে না। তবে কুকুরের লালা নাপাক। কুকুর মুখ দিয়ে কারো জামা টেনে ধরলে যদি কাপড়ে লালা লেগে যায়, তবে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে; অন্যথায় নাপাক হবে না। (আল-বাহরুর রায়েক : ১/১০১; ফতোয়াতে হিন্দিয়া : ১/৪৮; আদ্দুররুল মুখতার : ১/২০৮)
(৪) ইসলামসহ আসমানি সব ধর্ম মতে কুকুরের গোশত খাওয়া হারাম।
(৫) শিকারির জন্য রাখা কুকুর, পাহারার জন্য রাখা কুকুর মেরে ফেলা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম বা অবৈধ। পাগলা কুকুর, কষ্টদায়ক কুকুর মেরে ফেলা সব আলেমের মতে বৈধ। সাধারণ অবস্থায় থাকা কুকুর নিধন করা, মেরে ফেলা ইসলামের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। (সূত্র : কুয়েতভিত্তিক ইসলামী বিশ্বকোষ ‘আল-মওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল-কুয়েতিয়্যা : খ. ৩৫, পৃ. ১৩২-১৩৩)
(৬) সম্ভব হলে কুকুরকে খাবার দেওয়া, পানি দেওয়া, কুকুর কোথাও পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করা ইসলামের দৃষ্টিতে সওয়াবের কাজ। বিশুদ্ধ হাদিসে কুকুরকে পানি খাওয়ানোর কারণে ব্যভিচারী নারীকেও জান্নাত দান করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একবার এক পিপাসাকাতর কুকুর কূপের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। পিপাসায় তার প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ বনি ইসরাইলের এক ব্যভিচারী নারী তা দেখতে পায়। সে নিজের পায়ের মোজা খুলে কুকুরটিকে পানি পান করায়। এ কারণে তার অতীত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (বুখারি : ৩৪৬৭)

ঘরে কুকুর রাখা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ কুকুরের ব্যাপারে ইসলামের কঠোর নির্দেশ কেবল এটাই যে শখ করে ঘরে কুকুর রাখা নিষেধ। হাদিস শরিফে আছে, যে ঘরে কুকুর আছে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না। (বুখারি শরিফ : হা. ৫৫২৫) আর কুকুরের লালা যেহেতু নাপাক, তাই কোনো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে তা তিন বা সাতবার ধৌত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশের পেছনে কয়েকটি যুক্তি আছে—

* কুকুরের মধ্যে শয়তানের প্রভাব বেশি। তাই আজানের সময় কুকুর আওয়াজ করে।
* কুকুর মনিবভক্ত হলেও তার মধ্যে খারাপ স্বভাব বেশি। যেমন—অন্যকে সহ্য না করা, সব সময় খেলাধুলা-দৌড়ের ওপর থাকা, পচা ও নিকৃষ্ট খাবার খাওয়া, যেখানে-সেখানে অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকা, মানুষকে কষ্ট দেওয়া, খাবার দেখলে লালায়িত হওয়া ইত্যাদি। ‘সঙ্গীর প্রভাবে মানুষ প্রভাবান্বিত হয়’—এর আলোকে কুকুরের সঙ্গ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
* কুকুর যাতে মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, এ জন্য কুকুরের সঙ্গ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। কেননা কুকুরের নখ ও মুখে বিষাক্ত জীবাণু রয়েছে। কুকুরের ওপর আস্থা রাখা যায় না। যেকোনো সময় সে মানুষের ক্ষতি করতে পারে। এতে জলাতঙ্কসহ নানা রোগ হতে পারে।
* আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, নিজ ঘরে, বিছানায় কুকুর রাখলে অ্যালার্জি, ভাইরাস সংক্রমণসহ বিভিন্ন বিপত্তি ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. ইউসুফ কারজাভি তার ‘আল-হালালু ওয়াল হারামু ফিল ইসলাম’ নামের বইয়ে কুকুর নিয়ে জার্মান ও লন্ডনের বিভিন্ন গবেষকের গবেষণা উল্লেখ করেছেন। তারা কুকুরের সঙ্গ মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে অভিমত দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন: স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিচার করলে কুকুর পালা ও তার সঙ্গে হাস্যরসকরণে যে বিপদ মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের ওপর ঘনীভূত হয়ে আসতে পারে, তাকে সামান্য ও নগণ্য মনে করা কিছুতেই উচিত হতে পারে না।

অনেক লোক নিজের অজ্ঞতার কারণে ভারি মাসুল দিতে বাধ্য হয়। তার কারণ এই যে কুকুরের দেহে এমন এমন জীবাণু রয়েছে, যা এমন রোগ সৃষ্টি করতে পারে, যা স্থায়ী এবং যা চিকিৎসা করে সারানো যায় না। কত লোক যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন দিতে বাধ্য হয় তা গুনে শেষ করা যায় না।

এসব জীবাণু মানুষের কলিজায় প্রবেশ করে। আর সেখানে নানাভাবে আত্মপ্রকাশ করে। তা অনেক সময় ফুসফুসে, ডিম্ব, তিল্লি, গুর্দা ও মস্তকের ভেতরে প্রবেশ করে। তখন এগুলোর আকৃতি অনেকটা পরিবর্তিত হয়ে যায়। এমন অবস্থা দেখা দেয় যে বিশেষজ্ঞরাও তা ধরতে ও চিনতে অক্ষম হয়ে পড়েন।

যা-ই হোক, এ জীবাণুর দরুন যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তা দেহের যে অংশেই হোক না কেন, স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর ও মারাত্মক। এসব জীবাণুর কোনো চিকিৎসা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি। এ করণে চিকিৎসা-অযোগ্য রোগের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের পূর্ণশক্তিতে চেষ্টা করতে হবে। এ বিপদ থেকে মানুষকে বাঁচাতে হবে।

জার্মান চিকিৎসাবিদ নুললর বলেছেন, কুকুরের জীবাণুর দরুন মানবদেহে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তার সংখ্যা শতকরা ১-এর কম নয় কিছুতেই। আর কোনো কোনো দেশে শতকরা ১২ জন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এ রোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে, এর জীবাণুগুলোকে কুকুরের দেহ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ করে রাখা, তাকে ছড়িয়ে পড়তে না দেওয়া।আশ্চর্য হলেও সত্য যে বিভিন্ন দেশে কুকুরের প্রতি ধনীরা যে উদারতা দেখায়, গরিব মানুষের প্রতিও তেমন উদারতা দেখানো হয় না।

কুকুর লালন-পালনের জন্য যে মানুষকে কর্মচারী হিসেবে রাখা হয়, তার জন্যও এত টাকা খরচ করা হয় না, কুকুরের জন্য যা খরচ করা হয়। প্রশ্ন জাগে, নতুন সভ্যতা কি তাহলে মানুষকে মূল্যহীন করে তুলছে?

ওয়াজের জন্য চুক্তি করে টাকা নেওয়া জায়েজ নেই

ওয়াজ হচ্ছে সাময়িক দ্বীনী দাওয়াত ও নসিহতের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। দ্বীনী প্রয়োজনে কাউকে কখনও দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে কিংবা নসিহত করে এজন্য তার থেকে বিনিময় দাবী করা বিধেয় নয়।
তাই ওয়াজ করার জন্য চুক্তি করে টাকা নেওয়া অথবা টাকা রোজগারের উদ্দেশ্যে ওয়াজ করা নাজায়েজ।

কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তারা সেই লোক যাদেরকে আল্লাহতায়ালা পথ প্রদর্শন করেছেন। অতএব, আপনি তাদের পথ অনুসরণ করুন। আপনি বলে দিন, আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এটা তো সারা বিশ্বের জন্য উপদেশবাণী।’ –সূরা আনআম: ৯০

বস্তুত মানুষকে ওয়াজ-নসিহত করা মানুষকে হেদায়েত বাণী শোনানোর অন্তর্ভুক্ত। এটা মানুষকে হেদায়েতের আকর কোরআনে কারিম তেলাওয়াত শোনানোর ন্যায়; যা মানুষের হেদায়েতের ওসিলা হবে। আর হাদিস শরিফে মানুষের থেকে বিনিময় লাভের উদ্দেশ্যে তাদেরকে কোরআন শোনানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

এ সম্পর্কে হাদিসে শরিফে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুর রহমান ইবনে শিবল (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা কোরআন পড়ো এবং তার ওপর আমল করো। আর তাতে সীমালংঘন করো না, তার ব্যাপারে শৈথিল্য করো না, তার বিনিময় খেয়ো না এবং তাকে নিয়ে রিয়া করো না।’ -মুসনাদে আহমাদ: ১৫৫৬৮, সুনানে বায়হাকি: ২৬২৪, মুজামে তাবরানি আওসাত: ২৫৭৪

তেমনি অপর হাদিসে এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি জনৈক পাঠকারীর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন- যে কোরআন পড়ছিলো। অতঃপর সে (মানুষের নিকট) চাইলো। তখন তিনি ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়লেন। অতঃপর তাকে বললেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে, তার উচিত আল্লাহর কাছে তার বিনিময় চাওয়া। বস্তুত এমন কিছু দল আসবে যারা কোরআন পড়বে; যার বিনিময় মানুষের নিকট চাবে (তাদের একাজ অবাঞ্ছিত)।’ –জামে তিরমিজি: ২৯১৭, মুসনাদে আহমাদ: ১৯৯৫৮

অপর হাদিসে এরূপ লোকদেরকে কিছু না বলা হয় কেননা, ওয়াক্তিয়া ফরজ নামাজের ইমামতি না হলে মসজিদে নামাজের জামাতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ হুকুম আদায় বাধাগ্রস্ত হবে। কিন্তু তারাবির জামাত বা খতমে তারাবি সে রকম বিষয় নয়। কেননা, তারাবির জামাতের জন্য কোনো বিনিময়হীন ইমাম না পাওয়া গেলে কিংবা খতমে তারাবির জন্য নিবেদিত একনিষ্ঠ হাফেজ পাওয়া না গেলে; সে অবস্থায় একাকি সূরা তারাবির নামাজ আদায়ের বিকল্প হুকুম রয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষকতা ও ইমামতির জন্য নিজের সময় বের করে মাদরাসা-মসজিদে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকে। যার কারণে রোজগারের জন্য ভিন্নভাবে সময় দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ওয়াজের জন্য তা অপরিহার্য নয়।

অধিকন্তু সারা দেশে দাওয়াত ও তাবলিগের মাধ্যমে বিনা পারিশ্রমিকে দাওয়াত ও নসিহতের মেহনত চলছে। যার সঙ্গে জড়িতরা ক্রমধারায় মানুষের দ্বারে দ্বারে দাওয়াত ও হেদায়েতের জন্য বিনাবেতনে নিয়োজিত থাকছেন। প্রয়োজনে কিছু সময়-সুযোগ বের করে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দাওয়াতের কাজকে প্রসারিত করা কর্তব্য।

সুতরাং মাদরাসায় পড়ানো বা মসজিদের ইমামতির জন্য মাস শেষে চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন নেওয়া বৈধ হলেও ওয়াজের জন্য সেভাবে শর্তারোপ করে টাকা বা হাদিয়া গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কেউ এভাবে টাকা বা বিনিময় নিলে সেটা তার জন্য জায়েজ হবে না।

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে সম্মানিত বক্তাদের কেউ কেউ ওয়াজের জন্য টাকা লেনদেনের চুক্তি করায় তা সাধারণ মুসলমানদের মাঝে অনেক অশোভনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এতে আলেমদের মর্যাদাহানী হচ্ছে। যদিও কাজটিতে সবাই তাকওয়া তথা খোদাভীরুতার বিরোধী বলে সবাই স্বীকার করবেন।

সুতরাং এক্ষেত্রে সবার কর্তব্য হলো, দ্বীনের এ মহান (ওয়াজ) কাজ দাওয়াতে তাবলিগের মতো সম্পূর্ণ ফি সাবিলিল্লাহ হিসেবে করবেন। তদুপরি কেউ যাতায়াত খরচ হিসেবে কিছু দিলে সেটা নেওয়া যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদেরকে অসন্তুষ্ট করে দরাদরি করা বা যাতায়াত খরচের বাইরে উচ্চবিলাসী দর হাঁকানো আলেমদের মর্যাদার পরিপন্থী কাজ।

আবার এ বছর অযৌক্তিক চাহিদা রক্ষা না করায় আগামী বছর দাওয়াত না রাখাকেও দ্বীনী কর্তব্য পালনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

বলা বাহুল্য, আমাদের দ্বীনী কাজগুলো আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য হওয়া উচিত। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই তো আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করেন।

আল্লাহতায়ালা সবার সব দ্বীনী মেহনত কবুল করুন। আমিন।

কত রাকাত নামাজ আদায় করেছেন সেটা ভুলে গেলে করণীয় কী?

আমরা দৈনিক পাঁচ বার নামাজ পড়ি। অনেক সময় বিভিন্ন চিন্তার কারণে আমরা ভুলে যাই আসলে কত রাকাত নামাজ আদায় করেছি। এটা বেশির ভাগ হয়ে থাকে যখন চার রাকাত নামাজ পড়া হয়। এটা সুন্নাতের ক্ষেত্রেও হতে পারে আবার ফরজের ক্ষেত্রেও হয়। প্রথম কথা হলো আমাদের নামাজের ক্ষেত্রে বেশির থেকে বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন যাতে করে নামাজে কোনো ভুল না হয়। কিন্তু যদি ভুল হয় তাহলে করণীয়টা কী?

নামাজের এই ভুলটা সাধারণত যেহেতু চার রাকাত নামাজের ক্ষেত্রে হয় তাই সব সময় মনে রাখতে হবে যে, কয় রাকাত হয়েছে এর উপর বেশি মন শায় দেবে সেই কয় রাকাত হয়েছে হিসেবে ধরে নিতে হবে এবং নামাজ শেষে করার আগে সাহু সিজদা দিতে হবে।
হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার নামাজে সন্দেহে পড়ে। অর্থাৎ সে মনে করতে পারে না যে আসলে সে কয় রাকাত নামাজ আদায় করেছেন। তাহলে সে কম রাকাত আদায় হয়েছে ধরে নিবে এবং নামাজ শেষে করার আগে অবশ্যই সাহু সিজদা আদায় করবে। (মুসলিম)
ইসলামী আইনশাস্ত্রের বিধান হলো- যদি আপনি নিশ্চিত থাকেন যে আপনি অন্তত দুটি রাকাত নামাজ আদায় করেছেন। কিন্তু আপনি তৃতীয় ও চতুর্থ চক্রের মধ্যে কোনো রাকাত নামাজ আদায় করছেন সেই বিষয়ে নিশ্চিত নন। তাহলে নিশ্চয়তা ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেন। অথবা তৃতীয় রাকাত পড়ছেন বলে ধরে নেন। আর যথারীতি নামাজ শেষ করার আগে সাহু সিজদা আদায় করুন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নামাজ আদায় করার জন্য দাঁড়ায়, তখন যদি আপনি নামাজে ভুল করেন তাহলে বুঝতে হবে যে শয়তান আপনার আশেপাশে কোথাও আছে। (আল বুখারী)
আমরা যেহেতু নামাজে ভুল করি সেহেতু সংশোধন করার পদ্ধতি আমাদের অবশ্যই জেনে রাখা প্রয়োজন। যদি চার রাকাত নামাজের তৃতীয় রাকাতকে চতুর্থ রাকাত হিসেবে ধরে বসে পড়েন এবং নামাজ শেষ হওয়ার আগেই বুঝতে পারেন যে আপনি ভুল করছেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আবার দাঁড়িয়ে যেতে হবে। আর এটা না হয়ে অন্য ছোট কোনো ভুল হলে অবশ্যই সাহু সিজদা আদায় করতে হবে।
যাহোক আমরা আমাদের সকল ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চিইবো। কেননা তিনিই আমাদেরকে ক্ষমা করবেন। এবং তিনিই আমাদেরকে সঠিক পথ দেখাবেন। সকল প্রকার সাফল্য আল্লাহর কাছ থেকে আসে, আর আল্লাহই সর্ব জ্ঞানী।

গ্রামের একজন সাধারণ মানুষের ২৫ টি প্রশ্ন আর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উত্তর

১. প্রশ্নঃ আমি ধনী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, অল্পতুষ্টি অবলম্বন কর; ধনী হয়ে যাবে।

২. প্রশ্নঃ আমি সবচেয়ে বড় আলেম (ইসলামী জ্ঞানের অধিকারী) হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, তাক্বওয়া (আল্লাহ্ ভীরুতা) অবলম্বন কর, আলেম হয়ে যাবে।

৩. প্রশ্নঃ সম্মানী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, সৃষ্টির কাছে চাওয়া বন্ধ কর; সম্মানী হয়ে যাবে।

৪. প্রশ্নঃ ভাল মানুষ হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, মানুষের উপকার কর।

৫. প্রশ্নঃ ন্যায়পরায়ণ হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, যা নিজের জন্য পছন্দ কর; তা অন্যের জন্যেও পছন্দ কর।

৬. প্রশ্নঃ শক্তিশালী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, আল্লাহর উপর ভরসা কর।

৭. প্রশ্নঃ আল্লাহর দরবারে বিশেষ মর্যাদার অধিকরী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, বেশী বেশী আল্লাহকে স্মরণ (জিকির) কর।

৮. প্রশ্নঃ রিযিকের প্রশস্ততা চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, সর্বদা অযু অবস্থায় থাকো।

৯. প্রশ্নঃ আল্লাহর কাছে সমস্ত দোয়া কবুলের আশা করি!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, হারাম খাবার হতে বিরত থাকো।

১০. প্রশ্নঃ ঈমানে পূর্ণতা কামনা করি!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, চরিত্রবান হও ৷

১১. প্রশ্নঃ কেয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে গুনামুক্ত হয়ে সাক্ষাৎ করতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, জানাবত তথা গোসল ফরজ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে নাও।

১২. প্রশ্নঃ গুনাহ্ কিভাবে কমে যাবে?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, বেশী বেশী ইস্তেগফার (আল্লাহর নিকট কৃত গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা) কর।

১৩. প্রশ্নঃ কেয়ামত দিবসে আলোতে থাকতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, জুলুম করা ছেড়ে দাও।

১৪. প্রশ্নঃ আল্লাহ্ তা’য়ালার অনুগ্রহ কামনা করি!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, আল্লাহর বান্দাদের উপর দয়া-অনুগ্রহ কর।

১৫. প্রশ্নঃ আমি চাই আল্লাহ্ তা’য়ালা আমার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখ।

১৬. প্রশ্নঃ অপমানিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে চাই ?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, যিনা (ব্যভিচার) থেকে বেঁচে থাকো।

১৭. প্রশ্নঃ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) এর নিকট প্রিয় হতে চাই ?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, যা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) এর নিকট পছন্দনীয় তা নিজের জন্য প্রিয় বানিয়ে নাও।

১৮. প্রশ্নঃ আল্লাহর একান্ত অনুগত হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, ফরজ সমূহকে গুরুত্বের সহিত আদায় কর।

১৯. প্রশ্নঃ ইহ্সান সম্পাদনকারী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, এমন ভাবে আল্লাহর এবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ অথবা তিনি তোমাকে দেখছেন।

২০. প্রশ্নঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! (সাঃ) কোন বস্তু গুনাহ্ মাফে সহায়তা করবে?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন,
ক) কান্না। (আল্লাহর নিকট, কৃত গুনাহের জন্য)
খ) বিনয়।
গ) অসুস্থতা।

২১. প্রশ্নঃ কোন জিনিষ দোযখের ভয়াবহ আগুনকে শীতল করবে?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, দুনিয়ার মুছিবত সমূহ।

২২. প্রশ্নঃ কোন কাজ আল্লাহর ক্রোধ ঠান্ডা করবে?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, গোপন দান এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।

২৩. প্রশ্নঃ সবচাইতে নিকৃষ্ট কি?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, দুশ্চরিত্র এবং কৃপণতা।

২৪. প্রশ্নঃ সবচাইতে উৎকৃষ্ট কি?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, সচ্চরিত্র, বিনয় এবং ধৈর্য্য।

২৫. প্রশ্নঃ আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচার উপায় কি?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, মানুষের উপর রাগান্বিত হওয়া পরিহার কর।

 

আল্লাহ্‌ তা’য়ালা আমাকে এবং সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুণ।

।।আমিন।।

নবীর প্রতি ভালোবাসা কিভাবে প্রকাশ করতে হবে


রবিউল আউয়াল মাসে আমাদের প্রিয় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর জন্মের সময়টি স্মরণে আসলে সর্বপ্রথম একথাই ভাবা উচিত যে, তাঁর জন্ম কেন হয়েছিল? দ্বীনের জন্য তিনি কতখানি ত্যাগ করে গেছেন, কত কষ্ট উম্মতের জন্য করেছেন। আমরা কি আজ এর যথাযথ মূল্যায়ন করছি? ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রচলিত রূপ রেখায় তো সে ধরনের কোনো কিছুর আভাস পাওয়া যায় না। বরং প্রেম নিবেদনের এমন কিছু রীতি-নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যাকে ইসলাম সমর্থন করে না। গোটা সৃষ্টির প্রতি আল্লাহ তায়ালার পরই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইহসান। তাই আমাদের উচিত তাঁর আদেশ-নিষেধকে মেনে চলা। তাঁর সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা, তার প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা। তাঁর অনুসরণ, অনুকরণ করা।
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘আমি এই উদ্দেশ্যেই রাসুল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তাঁর আনুগত্য করা হয়।’(সুরা নিসা, আয়াত: ৬৪)
তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠের জন্য আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও নবীর প্রতি রহমত প্রার্থনা করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করবে এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাবে।(সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৬)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘কেউ রাসুলের আনুগত্য করলে সেতো আল্লাহর আনুগত্য করল এবং কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে আমি আপনাকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে প্রেরণ করিনি।’(সুরা নিসা, আয়াত: ৮)
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ ইমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজ পিতা, সন্তান ও সকল মানুষের চেয়ে আমি তার নিকট বেশি প্রিয় না হই।’(বুখারি শরিফ)
অন্য হাদিসে আছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি একবার আমার ওপর দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার রহমত পাঠান।’(মেশকাত শরিফ)
পবিত্র কুরআনের আয়াত ও হাদিস থেকে নবীপ্রেমের দুটি মূলনীতি বেরিয়ে আসে। প্রথমত, পৃথিবীর মানুষ সে যত আপনই হোক না কেন, যত প্রিয়ই হোক না কেন, যত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিই হোক না কেন, তার সঙ্গে যদি নবীজীর বিরোধ হয়ে যায় অর্থাৎ কোনো বিষয়ে তাকে খুশি করতে গেলে যদি নবীজীকে অসন্তুষ্ট করবে না; এটাই তার ঈমানের পরিচয়।
দ্বিতীয়ত, নবীজীর প্রতি প্রেম নিবেদন বিশেষ কোনো আমল, সময় বা স্থানের সঙ্গে নির্ধারিত নয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর উম্মতের ভালোবাসা অন্য যেকোনো ভালোবাসার মতো নয়। এ ভালোবাসা তাঁর সম্মান, আযমত, বড়ত্ব হিসেবে এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হওয়া হিসেবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে নবীপ্রেমিক হিসেবে কবুল করুন।(আমিন)

সূত্র

সহজেই আরবীতে কিছু বাক্য লেখা

যারা আরবীতে টাইপ করতে পারে না তারা চাইলে আরবী ইউনিকোডের Word ligatures এর মাধ্যমে বেশ কিছু বাক্য বা শব্দ সহজেই লিখতে পারেন। এ জন্য ইউনিকোডের সংকেত ওয়ার্ডে লিখে Alt+x চাপলেই হবে।
যেমন, আপনি যদি ﷲ (আল্লাহ) লিখতে চান তাহলে ওয়ার্ডে FDF2 লিখে Alt চেপে ধরে x চাপুন, ব্যাস ﷲ শব্দ লেখা হয়ে যাবে। এভাবে বেশ কিছু শব্দ বা বাক্য লেখা যাবে আরবীতে।

arabic_script_in_unicode_word_ligatures
আরবী ভাষার ইউনিকোড স্ক্রিপ্ট পাবেন https://en.wikipedia.org/wiki/Arabic_script_in_Unicode থেকে। এই পাতার Word ligatures এ শব্দ বা বাক্যগুলো পাবেন।
বিস্তারিত ইউনিকোড ম্যাপ পাবেন নিম্মাক্ত লিংক থেকে।
http://www.unicode.org/charts/PDF/U0750.pdf
http://www.unicode.org/charts/PDF/U08A0.pdf

বাংলা ভাষার ইউনিকোড ম্যাপ পাবেন নিম্মাক্ত লিংক থেকে।
https://en.wikipedia.org/wiki/Bengali_(Unicode_block)
http://www.unicode.org/charts/PDF/U0980.pdf

নোট: এই পদ্ধতিটি মাইক্রোসফট অফিসের ক্ষেত্রে কাজ করবে। যদি কখনো কাজ না করে তাহলে U+ দিয়ে টাইপ করে Alt+x চাপতে হবে। যেমন, আপনি যদি ﷲ (আল্লাহ) লিখতে চান তাহলে ওয়ার্ডে U+FDF2 লিখে Alt চেপে x চাপুন।
অন্য অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহারের নিয়ম পাবেন https://en.wikipedia.org/wiki/Unicode_input থেকে। যেমন আপনি যদি HTML এ ﷽ লিখতে চাই তাহলে (ডেসিমেল কোড ব্যবহার করে) ﷽ লিখলেই হবে।

ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা

ইসলামে ধর্মে আত্মহত্যা মহাপাপ ও অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। পারিবারিক বিপর্যয়,ব্যাথর্তা, মানসিক অশান্তি, দুঃখে-কষ্টে বা হতাশায়, জেদ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, আর্থ-কষ্ট ইত্যাদি কারনে অনেকে আত্মহত্যার মতো ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তথাকথিত ‘জিহাদ’ এর নামে আত্মঘাতী হামলা। তবে এটা জেনে রাখা দরকার কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মহত্যা করা যাবে না, কারন ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যাকারী পরিণতি হলো জাহান্নাম।
আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরাআনে এরশাদ করেছেন,

‘তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা করবে, তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করব; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)।

‘তোমরা তোমাদের নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কর না।’ (সূরা বাকারা; আয়াত: ১৯৫)।

‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ যাবতীয় অপরাধ মার্জনা করেন।’ (সূরা জুমার; আয়াত: ৫৩)।

‘যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে জগতে বিপর্যয় সৃষ্টি বা হত্যার শাস্তি ব্যতিরেকে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। আর যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে জীবন্ত রাখে সে যেন সব মানুষকেই জীবন্ত রাখে।’ (সূরা মায়িদা : আয়াত: ৩২)।

এ দ্বারা বোঝা যায় ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা ও দৃঢ় আস্থা থাকলে কারও পক্ষ্যে আত্মহত্যার মত জঘন্য কাজ করা সম্ভব না। আত্মহত্যা ও আত্মঘাতী হামলা ইসলামের দৃষ্টিতে একই ধরনের জঘন্য অপরাধ। আত্মঘাতী হামলা করে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে কখনোয় জান্নাতে যাওয়া যাবে না। আর্থাৎ আল্লাহ তাআলা নির্দেশ অমান্য করে আত্মহত্যা করে বা আত্মঘাতী হামলা কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। তার পরিণতি নিশ্চত জাহান্নাম।

আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে এবং এর শাস্তি সম্পর্কে কিছু হাদিস

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বস্তু চিবিয়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামেও তা চিবাতে থাকবে এবং সব সময় নিজেকে ধ্বংস করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি নিজেকে গর্ত ইত্যাদিতে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামেও সেভাবেই করতে থাকবে। আর যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামেও সেরূপ করতে থাকবে।’ -সহিহ বোখারি শরিফ: ১২৯৯

হজরত জুন্দুব (রা.) সূত্রে বর্ণিত, এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের আগের লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি আঘাতের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। আল্লাহতায়ালা ওই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, ‘আমার বান্দা নির্ধারিত সময়ের আগেই তার নিজের জীবনের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সুতরাং আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ –সহিহ বোখারি শরিফ: ৩২৭৬

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড় থেকে নিক্ষেপ করে হত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সব সময় সে সেখানে অবস্থান করবে। সব সময় তা থেকে পতিত হতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে, দোজখেও তার হাতে বিষ থাকবে। সেখানেও সে তা পান করতে থাকবে এবং চিরকাল সেখানে থাকবে। আর যে ব্যক্তি অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সেরূপ অস্ত্র দোজখেও তার হাতে থাকবে। সর্বক্ষণ সে নিজের পেটে ওই অস্ত্র দ্বারা আঘাত করতে থাকবে এবং সর্বক্ষণ এরূপ করতে থাকবে।’ -সহিহ বোখারি শরিফ: ৫৪৪২

হজরত সাবেত ইবনে জাহ্হাক (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে চিরদিন জাহান্নামের আগুনে ওই বস্তু দ্বারা শাস্তি পেতে থাকবে।’ -সহিহ বোখারি শরিফ: ৫৭৫৪

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার পরে তোমরা পরস্পরকে হত্যা করে কুফরির দিকে ফিরে যেয়ো না।’ –সহিহ বোখারি শরিফ: ৬৬৬৮

হজরত জাবের ইবনে সুমরা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে এমন একজন লোকের লাশ আনা হলো, যে তীরের মাধ্যমে আত্মহত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার জানাজা পড়েননি।’ –সহিহ মুসলিম শরিফ: ৯৭৮

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন মুসলমানকে হত্যা করা পুরো দুনিয়া ধ্বংস করার নামান্তর।’ –তিরমিজি: ১৩৯৫

বর্তমানে ভুল পথে পরিচালিত হয়ে মুসলিম নামধারি কিছু ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলার সাথে সম্পৃক্ত হয়। এছাড়াও বিশ্বমিডিয়া মুসলমানদের অনুকূলে না থাকার কারণে সঠিক তথ্য প্রমাণ ছাড়ায় ঢালাওভাবে বিভিন্ন হামলা এবং আত্মঘাতী হামলায় মুসলমানদের জড়িত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে এবং দোষ দেওয়া হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে, অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে এসব হামলা পরবর্তীতে মুসলিমরা করেনি।
পরিশেষে এটা বলা যায় যে বা যারা এধরনের আত্মহত্যা বা আত্মঘাতী হামলার সাথে জড়িত তারা কোরআন হাদিস জানে না বা মানে না বা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। সুতারাং তারা কোনভাবেই প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না। এসব ব্যাক্তি বা গোষ্টি ইসলামের প্রতিনিধি নয় এরা প্রকৃতপক্ষে ইসলাম এবং মুসলিম উম্মাহর শত্রু।