নিজেকে দোষী মনে করেন না বেসিকের বাচ্চু

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে নিজেকে দোষী মনে করেন না ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু।সোমবার (০৪ ডিসেম্বর) দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, যে সব অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে। আমি যেসব প্রশ্নের উত্তর জানি, সেগুলোর দিয়েছি। অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে, এখনো প্রমাণিত হয়নি। প্রয়োজন হলে আরও সহযোগিতা করব।

এদিকে আবদুল হাই বাচ্চুকে সকাল পৌনে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত মাসের ২৩ নভেম্বর দুদক আবদুল হাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে। ফলে এবারই প্রথম র‌্যাংক কেলেঙ্কারিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। কমিশনের পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়াত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর দীর্ঘ ৪ বছর অনুসন্ধান শেষে ২০১৫ সালের ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান, পল্টন ও মতিঝিল থানায় ৫৬টি মামলা দায়ের করে দুদক। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর ১৫৬ জন আসামির মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সার্ভে প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে ৪৮টি, ডিএমডি ফজলুস সোবহানকে ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থকে ২৩টি এবং ডিএমডি এ মোনায়েম খানকে ৩৫টি মামলায় আসামি করে দুদক।

এদিকে বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা ৫৬টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় গত ২৬ জুলাই হাইকোর্ট বাচ্চু এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের ওই আদেশে বলা হয়েছিল, প্রাপ্তির ৬০ দিনের

মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে। এছাড়া চলতি বছরের আগস্টে বেসিক ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের দায়েরকৃত ৫৬টি মামলার মধ্যে পাঁচটি মামলার চার্জশিট অনুমোদন দেয় কমিশন। তবে ৫টি মামলার কোনোটির তদন্ত প্রতিবেদনে বাচ্চুর নাম ছিলো না, এমনকি রাখার জন্য সুপারিশও করেনি তদন্ত কর্মকর্তারা। ফলে পাঁচটি মামলার অভিযোগপত্রে থেকে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর নাম ছিলো না।
এদিকে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে বলে ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এমনকি চলতি বছরের ২৯ মার্চ এক অনুষ্ঠানেও দুদক চেয়ারম্যানের সামনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঋণ জালিয়াতিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু জড়িত। আর সেই রিপোর্ট দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে পরবর্তীতে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি এমন কোনো প্রতিবেদন পাননি বলে প্রতিবেদককে জানান।

এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিও বলেছে পৃথক দু’টি অডিট ফার্মের নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ সার্বিক বিবেচনায় শেখ আবদুল হাই বাচ্চু দায় এড়াতে পারেন না। তার দুর্নীতির সব ধরনের তথ্য দুদকের হাতে রয়েছে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি দু’বার মতামত চাইলেও দুদকের পক্ষ থেকে কোনো
মতামত পাননি তিনি। এমনকি বেসিক ব্যাংক নিয়ে ৫৬টি মামলা দায়ের করা হলেও কোনো মামলায় নেই বাচ্চুর নাম।

আন্দালিব পার্থের ভিডিও : https://www.youtube.com/watch?v=UQZe6lPyNhs

ঢাকার উইলস লিটলে ছাত্রলীগের কমিটি

কিছুদিন আগেই দেশের সব স্কুলে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ওই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল শাখায় ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছে ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রমনা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ১০ শ্রেণির ছাত্র মিরাজুল ইসলাম হিমেলকে সভাপতি ও নবম শ্রেণির ছাত্র মাহিব জদ্দারকে সাধারণ সম্পাদক করে স্কুলটির ছাত্রলীগের এই কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন, রাফি সরকার (১০ম), আল মিম শ্রাবণ (১০ম), সজীব খান জয় (১০ম), ফাহিদ ফাদনান ইমন (১০ম), তন্ময় আহমেদ মিশুক (১০ম) ও তানভীর আহমেদ (১০ম)। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন- আশিকুল ইসলাম প্রান্ত (৮ম), আবিদ মল্লিক (১০ম), সৃন জুনায়েদ (১০ম)।
সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে- নবম শ্রেণির মোহাম্মদ শোয়েব, মুন্তারিফ রহমান রাফি (১০ম) ও আশরাফ ফরাজিকে (১০ম)। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ৮ম শ্রেণির তাজোয়ার অর্ক, প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে দশম শ্রেণির সাদমান সাদিককে। আর ক্রীড়া সম্পাদক হয়েছেন সপ্তম শ্রেণির তাহমীদুর রহমান সানজিদ।

গত ২১ নভেম্বর ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়, দেশের সব স্কুলে কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ। সংগঠনটির স্কুল-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন বিষয়টির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেদক জানানো যাচ্ছে যে, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার লক্ষ্যে সকল সাংগঠনিক ইউনিটের অন্তর্গত মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি গঠন করার নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
রাজনীতিতে স্কুলের ছাত্রদের অন্তর্ভূক্তি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ টেলিফোনে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, স্কুলে কমিটি করা মানেই প্রকৃত অর্থে রাজনীতি না। মানুষ মনে করছে যে স্কুলে কমিটি করা হয়েছে মানে তাদেরকে মিছিল মিটিং করতে হবে।’

‘আমরা সেই লক্ষ্যে স্কুল কমিটি করিনি। আমরা আশা করি না তারা মিছিল ও মিটিংয়ে আসবে। এখন যেভাবে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে, যুব সমাজ মাদকে ঝুঁকছে সেই অবস্থা থেকে শিশুদের একটু সচেতন ও ব্যস্ত রাখার জন্য কমিটি দিয়েছি,’ ব্যাখ্যা দেন ছাত্রলীগের শীর্ষ এই নেতা।
কমিটির ব্যাখ্যায় তিনি আরো বলেন, ‘কমিটির নেতারা বড় ভাইদের সঙ্গে একটু যোগাযোগ রাখবে। মাদকে ঝুঁকবে না। কেউ তাদের ব্রেন ওয়াশ করতে পারবে না। ভবিষ্যতে কেউ তাদেরকে অন্য রাজনৈতিক ধারায় নিতে পারবে না- কমিটি করার এটাই মূল উদ্দেশ্য।’