পাত্তাই পেল না জিম্বাবুয়ে

শিরোনামটা পড়ে বাধো বাধো ঠেকলে, ম্যাচের ফলাফলটা শুনে নিন। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। সেটাও ১২৯ বল হাতে রেখে। আসলেই তো পাত্তা পেল না জিম্বাবুয়ে। প্রায় দেড় বছর পর দেশের মাটিতে ওয়ানডে খেলতে নেমে বাংলাদেশ পেল দাপুটে জয়। জিম্বাবুয়ের ১৭০ তাড়া করতে নেমে ২৮.৩ বলেই ম্যাচ শেষ করে এসেছেন তামিম-মুশফিকরা।

দেশের মাটিতে প্রায় দেড় বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। কোথায় শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে, তা না দর্শক খুঁজে পাওয়াই ভার! সেটা কী জেঁকে বসা শীতের সঙ্গে এ দেশের ক্রিকেটমোদীদের পেরে না ওঠার ফল? না কি তাঁরা আগেই জানতেন বাংলাদেশের সামনে জিম্বাবুয়ে দাঁড়াতেই পারবে না!

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরের কথাটাই সত্যি হলো। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সামনে জিম্বাবুয়ে দাঁড়াতেই পারল না। ১৭১ লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটের একপেশে জয়ে নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডেতে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। প্রায় দেড় বছর আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ। নতুন বছরে সেই একই মাঠে বাংলাদেশের শুরুটাও হলো হেসেখেলে জয়ে।

বাংলাদেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে দাঁড়িয়ে ঠিক তার উল্টো অবস্থানে। এখানে ওয়ানডেতে তাঁদের সর্বশেষ জয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। মাঝের এই আট বছরে এ নিয়ে তাঁরা হারল টানা ১২ ম্যাচ। এর মধ্যে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই টানা ৮ ম্যাচে হার। এর মধ্যে আজকে গ্রায়েম ক্রেমারের দলের হারের সুরটা বেঁধে দিয়েছেন দুই বন্ধু সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। আগে বল হাতে সাকিব, পরে ব্যাট হাতে তামিম—এ দুজনের যুগলবন্দীতে ৯৮তম ওয়ানডেতে জয় পেল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামও।

নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডেতে ওপেনিং জুটিতে দীর্ঘদিন পর এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তামিম। প্রায় ৩৪ মাস পর বাংলাদেশের ওয়ানডে জার্সিতে ফিরে হতাশ করেছেন এনামুল। বরাবরের মতো ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। ১৪ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। কিন্তু তামিম খেলেছেন আস্থার প্রতীক হয়ে। ৯৩ বলে ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মাঠ ছেড়েছেন জয় নিয়ে।

ওপেনিং জুটিতে ৩০ রান আসার পর দ্বিতীয় উইকেটে সাকিবের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন তামিম। কিন্তু সিকান্দার রাজার নিরীহ স্পিনে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে এলবিডব্লু হন সাকিব। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে তামিম শুধু জয়ের আনুষ্ঠানিকতাটুকু সেরেছেন।

তিন বছর আগে এই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ৭৩ রান করেছিলেন তামিম। সে ম্যাচে সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও পারেননি। কিন্তু এ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের স্বল্প সংগ্রহ তামিমকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছে। ৮ চার এবং ১ ছক্কায় অপরাজিত ইনিংসটি সাজালেও সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপটা থেকেই যাবে। তামিম কিন্তু সে জন্য দুষতে পারেন সতীর্থদের ক্ষুরধার বোলিংকে!

জিম্বাবুয়ে স্রেফ নখদন্তহীন বোলিং করেছে। ১২৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশের জয়ই তার প্রমাণ। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটমোদীরা আসল মজাটা পেয়েছেন ২৮তম ওভারে। জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজুরাবানি এ ওভারে ‘ওভারস্টেপিং’ করছেন টানা তিনবার! অর্থাৎ টানা তিনটি ‘নো-বল’—আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো উইকেটে তামিমের মতো সেট ব্যাটসম্যানও এ তিনটি ‘নো-বল’ থেকে পাওয়া ফ্রি-হিটের কোনো ফায়দা লুটতে পারলেন না!

স্কোরকার্ড:
জিম্বাবুয়ে (১৭০/১০)
বাংলাদেশ (১৭১/2)
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।

মাস্ক পরে মাঠে লঙ্কান ক্রিকেটাররা, অসুস্থ হয়ে ড্রেসিংরুমে দুজন!

ঘন ধোঁয়াশায় ঢেকে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লির রাস্তাঘাট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বায়ু দূষণের যে মাত্রাকে গ্রহণযোগ্য নিরাপদ সীমা বলে মনে করে, দিল্লির অনেক এলাকায় বায়ু দূষণ এখন তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি। এ কারণে দিল্লিতে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়েছে। বায়ু দূষণের ভয়াবহ মাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেখানকার সব স্কুলও দেড় মাস ধরে বন্ধ।
এমন অবস্থাতেই দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে চলছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। বায়ূ দূষণের ভয়াবহ অবস্থায় মাঠে মাস্ক পরেই খেলতে নেমেছেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা। বায়ূদূষণের কারণে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল লঙ্কানদের। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে দু’জন ক্রিকেটার মাঠও ছাড়েন। এরা হলেন- লঙ্কান পেসার সুরঙ্গ লাকমল ও লাহিরু গামাগে।

ঘটনার শুরু পেসার গামাগেকে ঘিরে। হঠাৎ করে বেদম কাশি শুরু হয় লঙ্কান এই পেসারের। এ সময় ১৬ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা। এরপর লঙ্কান অধিনায়ক দীনেশ চান্দিমাল, লাকমল, লোকেশ সাদাকানরা মাস্ক পরে নেন। এ সময় ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার ও রাসেল আর্নল্ড বলছিলেন, এভাবে মাস্ক পরে খেলাটা খুব কঠিন। খেলা শুরু হলে প্রথম বলেই ফেরেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরেন ২৪৩ রান করা বিরাট কোহলিও।
এরপর লাকমলের সমস্যা দেখা দিলে তিনিও মাঠ ছেড়ে যান। এ সময় আবারও বন্ধ হয়ে যায় খেলা। চান্দিমাল ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস আলোচনা শুরু করেন আম্পায়ারদের সঙ্গে। লঙ্কান টিম ম্যানেজার আশঙ্কা গুরুসিনহা ও ভারতীয় কোচ রবি শাস্ত্রীও যোগ দেন এ সময়। এরপর আবার খেলা শুরু হলে মাত্র সাত বল স্থায়ী হয় ভারতীয় ইনিংস।
সানদাকানের ওভারের পর লঙ্কান অধিনায়ক আম্পায়ারকে খেলোয়াড় স্বল্পতার কথা জানান। ওই সময় মাঠে ১০ জন শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড় ছিলেন। কিছুটা বিরক্ত হয়েই এ সময় ইনিংস ঘোষণা করে দেন ভারতীয় অধিনায়ক। স্কোরবোর্ডে তখন ভারতের সংগ্রহ সাত উইকেটে ৫৩৬ রান।

কোহলিদের বেতন বাড়ছে ১০ কোটি পর্যন্ত

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট বছরে ১২ কোটি টাকা করে বেতন পান। বিসিসিআই সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড হলেও, ভারতীয় ক্রিকেটাররা এতদিন আর্থিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছিলেন বলে চাপা ক্ষোভের খবর আসছিল সংবাদ মাধ্যমে। তবে এবার তাদের বেতন বাড়তে চলেছে কাঙ্ক্ষিত হারেই।

Indian cricket player Hardik Pandya, left celebrates with captain Virat Kohli, center and Kedar Jadhav after taking Steven Smith’s wicket during the first one-day international cricket match between India and Australia in Chennai, India, Sunday, Sept. 17, 2017. (AP Photo/Rajanish Kakade)

ভারতীয় ক্রিকেটাররাও দীর্ঘদিন ধরে বেতন বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছিলেন। গত সপ্তাহে তাদের দাবি মানার ইঙ্গিত দেয় কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসক কমিটি। ভারতের গণমাধ্যম বলছে, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বেতন একলাফে অনেকটা বাড়তে চলেছে। যার পরিমাণটা ১০ কোটি পর্যন্ত হতে পারে।

গ্রেড ‘এ’ চুক্তির আওতায় থাকা অধিনায়ক বিরাট কোহলি, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, চেতেশ্বর পুজারার বেতন বর্তমানের ২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হতে পারে বছরে ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত। গ্রেড ‘বি’তে থাকা ক্রিকেটারদের বেতন এক কোটি টাকা থেকে বেড়ে হতে পারে বছরে ৮ কোটি টাকা এবং গ্রেড সি-তে থাকা ক্রিকেটারদের বেতন ৫০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে হতে পারে চার কোটি টাকা পর্যন্ত। আর অধিনায়ক হিসেবে কোহলির বেতন আরও বেশি হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসক কমিটির প্রধান বিনোদ রাই, সাবেক মহিলা ক্রিকেটার ডায়না এডুলজি ও বিসিসিআই সিইও রাহুল জোহরির সঙ্গে দেখা করেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি, সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি ও কোচ রবি শাস্ত্রী। সেই বৈঠকের পরেই ক্রিকেটারদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানায় বিসিসিআই।

বিশ্বকাপ সম্ভাবনা উবে গেল ইতালি-চিলি-ডাচদের

বাছাইপর্বের বাধা পেরোতে না পারায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। দুইবার ফাইনালে খেলা নেদারল্যান্ডস কিংবা দুইবার কোপা চ্যাম্পিয়ন চিলিও নেই এবারের মেগা ইভেন্টে। তারপরও রাশিয়া বিশ্বকাপে তিনটি দেশের খেলার সম্ভাবনা জেগে উঠলেও সেটা আর হচ্ছে না।


প্লে-অফে সুইডেনের কাছে হেরে গেলেও সবশেষ র্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগুনো ইতালি কিংবা নেদারল্যান্ডস-চিলি রাশিয়ার টিকিট পেতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। বাছাইপর্বে প্লে-অফে ওশেনিয়া অঞ্চলের দল নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা পেরু রাশিয়ার টিকিট নিশ্চিত করলেও বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দলটির।

নিয়ম অনুয়ায়ী ফিফার সদস্য রাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশন গুলো থাকবে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। তবে, কপাল পুড়তে যাচ্ছিল পেরুর। কেননা দেশটির সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়। যে বিলটি পাস হলে স্বায়ত্ত্বশাসন হারাতো পেরু ফুটবল ফেডারেশন। এতে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা হারাতো দলটি। সম্প্রতি পেরু ফুটবল ফেডারেশনের ওপর দেশটির সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও পালোমা নোসিডা নামে পেরুভিয়ান কংগ্রেসের এক নারী সদস্য টুইটারের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘পেরু ফুটবল ফেডারেশনকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার যে বিল উত্থাপন করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। সেটা অর্জিত হয়েছে। এখন আমরা সবাই একই ফুসফুস থেকে আওয়াজ বের করে চিৎকার করবো। আনন্দ-উল্লাস করবো।’
এর আগে জানা যায়, পেরুর কনগ্রেসম্যান পালোমা নোসিডা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। যা ফিফার নিয়মের সঙ্গে পরিপন্থি। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সরকারের বিরোধিতার কারণে বিশ্বকাপ থেকে পেরুকে বাদ দিতে পারতো বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফা। পেরু বিশ্বকাপ খেলতে না পারলে ইতালি, নেদারল্যান্ডস কিংবা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরোতে না পারা সাউথ আমেরিকার আরেক দল চিলিকে দিয়ে হতে পারতো ৩২তম দলের শূন্যস্থান পূরণ। সেক্ষেত্রে ফিফার সদস্য দেশগুলোই ভোটাভুটির মাধ্যমে ঠিক করতো কোন দল যাবে বিশ্বকাপে।

ব্যাট হাতে রংপুরকে জেতালেন মাশরাফি


আবার ব্যাট হাতে রংপুর রাইডার্সের জয়ের নায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগের ম্যাচে তিনে নেমে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন অধিনায়ক। এবার সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে সাতে নেমে মাঠ ছাড়লেন দলকে জিতিয়ে।

মাশরাফি যখন ক্রিজে আসেন তখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে ম্যাচ। দুই ছক্কায় ১০ বলে অপরাজিত ১৭ রানের ইনিংসে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন অধিনায়ক। তার ছোট্ট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে আবার রংপুরের কাছে হেরেছে নাসির হোসেনের সিলেট।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতেছে রংপুর। ৯ ম্যাচে পঞ্চম এই জয়ে চার নম্বরে থাকল তারা।
সিলেটের ১৭৩ রান দুই বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় রংপুর। টানা তিন জয় দিয়ে শুরু করা সিলেট এই হারে শেষ চারে ওঠার লড়াই থেকে অনেকটাই ছিটকে গেল। ১০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৭।

রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরের। চার হাঁকিয়ে প্রথম ওভারে ফিরে যান ক্রিস গেইল। রংপুরের ফাটকা কাজে লেগে যাওয়ায় তার দ্রুত ফিরে যাওয়ার কোনো প্রভাব পড়েনি দলের ওপর। চলতি আসরে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নেমে ঝড় তোলেন জিয়াউর রহমান। তার সঙ্গে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ৫৯ রানের জুটি দলকে দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করায়।

১৮ বলে ৩৬ রান করে জিয়া ফিরেন নাবিল সামাদের বলে স্টাম্পড হয়ে। ১৮ রান করে বিদায় নেন মোহাম্মদ মিঠুন।

শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা ম্যাককালামকে সংগ্রাম করতে হয় পরে। ঠিকমতো টাইমিং হচ্ছিল না। নিজের জোনে বল পেয়েও কাজে লাগাতে পারছিলেন না। আবুল হাসানের স্লোয়ারে ডিপ স্কয়ার লগে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় ম্যাককালামের ৪৩ বলের ইনিংস।

নাসির হোসেনের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি। একই ওভারে দুইবার বদলি ফিল্ডার শুভাগত হোম চৌধুরীর হাতে জীবন পাওয়া রবি বোপারাও ফিরেন রান আউট হয়ে।

৩৩ রান করে বোপারা ফেরার সময় জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ১৬ বলে ২৮ রান। মাশরাফি-নাহিদুল ইসলাম দুই বল হাতে রেখেই দলকে এনে দেন দারুণ জয়। চার হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেওয়া নাহিদ অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে।

কাজে লাগেনি সিলেটের ফাটকা। মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয় নুরুল হাসানকে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ফিরে যান নাজমুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। তিন নম্বরে ব্যর্থ নাসির। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুলকে এগিয়ে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে ফিরেন অধিনায়ক।

মাশরাফি বিন মুর্তজার করা ম্যাচের প্রথম বলেই ফিরতে পারতেন আন্দ্রে ফ্লেচার। রবি বোপারার হাতে জীবন পাওয়া ক্যারিবিয়ান ওপেনারকে বিদায় করেন নাজমুল। মাঝে তিন ম্যাচে উইকেট না পাওয়া বাঁহাতি স্পিনার এবার ১৮ রানে নেন ৩ উইকেট।
সাব্বির রহমানের সঙ্গে বাবর আজমের ৭৪ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সিলেট। ৩৭ বলে ৪টি চার আর একটি ছক্কায় ৫৪ রান করে বাবরের রান আউটে ভাঙে জুটি। দলকে দেড়শ রানে নিয়ে যান সাব্বির। ৫টি চারে ৪৪ রান করা ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে বিদায় করেন মাশরাফি।

শেষটায় দুই ইংলিশ ক্রিকেটার রস হোয়াইটলি ও টিম ব্রেসনানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পায় সিলেট। তবে ম্যাচের ফল সেই হারই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৭৩/৫ (ফ্লেচার ২৬, নুরুল ৫, নাসির ৪, বাবর ৫৪, সাব্বির ৪৪, হোয়াইটলি ১৭*, ব্রেসনান ১৬*; মাশরাফি ১/৩৯, নাজমুল ৩/১৮, রুবেল ০/২৬, সামিউল্লাহ ০/২৮, মালিঙ্গা ০/৪৫, বোপারা ০/১৫)

রংপুর রাইডার্স: ১৯.৪ ওভারে ১৭৭/৬ ওভারে (গেইল ৫, জিয়া ৩৬, ম্যাককালাম ৪৩, মিঠুন ১৮, বোপারা ৩৩, সামিউল্লাহ ০, মাশরাফি ১৭*, নাহিদ ১৪*; তানভির ১/৪৪, নাবিল ১/৩১, ব্রেসনান ১/৪০, হাসান ১/২৫, রাব্বি ০/৩২)

ফল: রংপুর রাইডার্স ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল ইসলাম

বিপিএল এ ৭ বলের ওভার নিয়ে আম্পায়ারের বিরুদ্ধে সিলেটের অভিযোগ


টানটান উত্তেজনা আর ব্যাটসম্যান মাশরাফীর ঝলকে আরেকটি ক্লোজ ম্যাচ জিতে শেষ চারের স্বপ্ন ধরে রেখেছে রংপুর রাইডার্স। চট্টগ্রামে ক্রিকেট উত্তজনায় ভরপুর ম্যাচটি ঘিরেই আবার গুরুতর অভিযোগ হেরে যাওয়া দল সিলেট সিক্সার্সের। ম্যাচের টার্নিং সময়ে এক ওভারে ৭টি সঠিক বল করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ দলটির।

সিলেট দলের এক কর্মকর্তা ম্যাচ শেষে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘১৬তম ওভারে ৭টি বল করানো হয়েছে। সেটি নিয়ে আমরা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাব।’ এরপর তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসে জানান, থার্ড-আম্পায়ার তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন।

ইনিংসের ১৬তম ওভার যখন শুরু হয়, তখন ৫ ওভারে ৫৩ রান দরকার ছিল রংপুরের। ওভারটি করতে আসেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। প্রথম বলে বোপারা চার মেরে দেন। দ্বিতীয় বলে এক রান আসে। তৃতীয় বলে সামিউল্লাহ শেনওয়ারির উইকেট হারায় রংপুর। দারুণ করতে থাকা রাব্বির চতুর্থ বল থেকে এক রান নেন বোপারা। পঞ্চম বলে এক নেন মাশরাফী। ষষ্ঠ বলে বোপারার ব্যাট থেকে আসে দুই রান। ওভারটি সেখানেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিস্ময়করভাবে সপ্তম বলটি করতে হয় রাব্বিকে। বাড়তি বলটিতে আসে এক রান।

সাত বলের ওভার নিয়ে ম্যাচ শেষে উচ্চকিত হয় সিলেট। শুরুতে তারা সংবাদ সম্মেলনেই আসতে চায়নি। পরে এসে অভিযোগ জানিয়েছে। ক্রিকইনফোর ম্যাচ বিশ্লেষণ ঘেটেও দেখা যাচ্ছে সিলেটের অভিযোগ সত্য। রাব্বির করা ওভারটি ছিল সাত বলেরই।

ম্যাচটা এক বল হাতে রেখে চার উইকেটে জিতে নিয়েছে রংপুর। মাঠ আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন মাহফুজুর রহমান ও রেনমোরে মার্টিনেজ। টিভি আম্পায়ার ছিলেন গাজী সোহেল।

ক্রিকইনফো লিংক: https://goo.gl/EPZmDd