চলতি পথে মন পড়ে রয়

রাজা মুকুট রায়ের রাজত্ব। বেশ প্রতাপশালী ছিলেন তিনি। প্রজাদের জলকষ্ট দূর করার জন্য খননকাজ শুরু করলেন। যত নিচ পর্যন্ত ঢোলের শব্দ শোনা যায়, ততই গভীর করা হয়েছিল এই দিঘি। বলছিলাম ঢোলসমুদ্র দিঘির কথা। গত ২০ নভেম্বর ঝিনাইদহের এই বিশাল দিঘি মুগ্ধ করল আমাদের। মৃদু বাতাস বইছে। আমরা চারজন মেয়ে দিঘির সামনে দাঁড়ানো। একটু আনমনা হয়ে গেলাম। চোখের সামনেই যেন খননকাজ চলছে। শুনতে পাচ্ছি ঢোলের শব্দ!


ঝিনাইদহের ঢোলসমুদ্র দিঘি
ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি ১৮ নভেম্বর। দুটি স্কুটি নিয়ে ঘুরছি চারজন মেয়ে। ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাগুরা হয়ে ঝিনাইদহ। এবার আমাদের গন্তব্য চুয়াডাঙ্গা। বুঝতে পারিনি, দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোং দেখেই সন্ধ্যা হয়ে যাবে। সে যাক গে, আমাদের পৌঁছাতে হবে মুজিবনগর। স্কুটি চালু করলাম। গতি ৬০ কিলোমিটার ঘণ্টায়। রাস্তা পুরোই অন্ধকার। শীতে কাঁপছি। কিন্তু শক্ত করে স্টিয়ারিং ধরা। শুনেছি, চুয়াডাঙ্গার রাস্তায় ডাকাত থাকে রাতে। পরিবেশও ছমছমে। কোনো আলোই নেই। হেডলাইটের আলোতেই দেখছিলাম সারি সারি গাছ। মোড়গুলোতে কিছু দোকানে লণ্ঠনের আলো টিমটিম করছে। রাস্তাগুলো কিন্তু খুবই সুন্দর। গুগল ম্যাপ দেখে এগোচ্ছি আমরা। নেভিগেশনের দায়িত্ব পিলিয়নদের (পেছনে বসা সহযাত্রী)। প্রায় দেড় ঘণ্টা ড্রাইভের পর মুজিবনগর কমপ্লেক্স ‘সূর্যোদয়’-এ এলাম। ঘুটঘুটে অন্ধকার। গেটে কেয়ারটেকার টর্চের আলো ফেলতেই সার্চলাইট মনে হলো। ভুতুড়ে সিনেমার মতো এগিয়ে এসে গেট খুলে দিলেন তিনি। পুরো ভবনটা অন্ধকারে মোড়া। সেখানে শুধু আমরা চারজন। রাস্তা থেকে শুরু করে এই সময় পর্যন্ত নিজেদের মনে হচ্ছিল কোনো অ্যাডভেঞ্চার সিনেমার চরিত্র। সুনসান ভবনের দরজা খুললাম। আলোর সুইচ টিপতেই ফিরে এলাম বাস্তবে।

সকালে উঠে আমরা যাই মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে। ওখানে উপস্থিত হন সুধীর মল্লিক, যিনি ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণের সময়ও ছিলেন। তিনিই দেখাশোনা করেন স্মৃতিসৌধটা। সামনেই সেই আম্রকানন। সারি সারি আমগাছ। সুধীর মল্লিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেড়ে সেদিনের স্মৃতিচারণা করলেন আরেকবার। আমরা তখন মুগ্ধ শ্রোতা। দেখলাম বিশাল একটি লাল মঞ্চ। মঞ্চ ঘিরে আছে ২৩টি দেয়াল। এই দেয়ালগুলো ২৩ বছরের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক। প্রতিটি দেয়ালের ফাঁকে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র। পাকিস্তানিদের অত্যাচারের চিহ্ন এটি। বেদিতে আঁকা হয়েছে অসংখ্য গোলাকার বৃত্ত, যার তাৎপর্য ১ লাখ বুদ্ধিজীবীর খুলি। স্মৃতিসৌধের পাশেই বিশাল এলাকা নিয়ে আছে বাংলাদেশের মানচিত্র। সেখানে একেকটি জায়গার যুদ্ধকালীন ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছোট ছোট ভাস্কর্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের কথা ভাবতেই বুকটা গর্বে ভরে উঠল। তাঁদের যুদ্ধের গল্প নিয়ে কথা বলতে বলতেই সাহস আর আত্মপ্রত্যয় নিয়ে আমরা রওনা দিলাম কুষ্টিয়ার পথে।

সন্ধে হলো সূর্য নামে পাটে
দুপুরে যখন কুষ্টিয়ায় পৌঁছালাম, আমাদের গায়ের নীল টি-শার্ট তখন ধূসর! রাস্তার বর্ণনা আলাদা করে বোঝানোর হয়তো দরকার পড়বে না। কোনোমতে দুপুরে খেয়েই রওনা দিলাম শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি দেখতে। ‌কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ৪৫ মিনিটের পথ। দোতলা একটি পরিপাটি বাড়ি। ভেতরে আছে রবিঠাকুরের ব্যবহার করা নানা ধরনের সরঞ্জাম। সবচেয়ে অবাক হলাম রবীন্দ্রনাথের হাতে আঁকা চিত্রকর্ম দেখে। দোতলায় উঠে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলাম আমরা। বিকেলের মিষ্টি আলো আর সেই রোদে চিকমিক করা দালান যেন নিয়ে যাচ্ছে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে। সন্ধ্যা করে গেলাম লালন শাহর মাজারে। সামনে একতারা আর দোতারার বড় বাজার। টুং টাং আওয়াজ হচ্ছে চারদিকে। ভেতরে ঢুকেই সুরেলা কণ্ঠের আওয়াজ: পারে লয়ে যাও আমায়…।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ
সূত্র: প্রথম আলো

নীলে ডুবে থাকা দ্বীপ

আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল ঠিক আলাদা করা যাচ্ছে না। দুটোই সমান পাল্লা দিচ্ছে চোখ তাতিয়ে দিতে। একটা নারকেলগাছও যে এত সুন্দর লাগতে পারে, সেটা সেন্ট মার্টিন না গেলে অজানা থেকে যেত। ঘাটে বাঁধা নৌকো দুলছে ঢেউয়ে ঢেউয়ে। হালকা বাতাস চুল, ঘাড়, কানে সুড়সুড়ি দিয়ে পালাচ্ছে। সারি সারি নারকেলের বাগান দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভুলেই গেলাম পথে লম্বা জার্নির কথা। বালু, পাথর, প্রবাল কিংবা জীববৈচিত্র্যের সমন্বয়ে যেন বিজ্ঞানের এক ব্যবহারিক ক্লাস। কাচের মতো স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ আর কচ্ছপের ঘোরাফেরা। অনেকটা অ্যাকুরিয়ামের পানিতে সাঁতরে বেড়ানো মাছের মতো।

বাংলাদেশের একমাত্র এই প্রবাল দ্বীপে নামার পর থেকেই বিস্মিত হতে থাকবেন কিছুক্ষণ পরপর। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগরের বুকের মধ্যে এই দ্বীপ। যেন পরম মমতায় সন্তানকে আগলে রেখেছেন মা। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। টেকনাফ থেকে ট্রলারে লঞ্চে কিংবা জাহাজে যেতে লাগে দুই থেকে সোয়া দুই ঘণ্টা। এখানে জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। নারকেল, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ও ধান এখানে জন্মে বলে জানালেন স্থানীয় একজন। তবে অধিবাসীদের প্রায় সবারই পেশা মৎস্য শিকার। আজকাল পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় অনেকেই রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল কিংবা দোকান খুলেছেন। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মানুষ সহজ-সরল, তাঁদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।

স্বপ্নের দারুচিনি দ্বীপ
ছোট্ট একটি এলাকা। তবে তার মায়া বড় বেশি। ভালো না বেসে থাকা মুশকিল। সেন্ট মার্টিন গিয়ে ছেঁড়া দ্বীপে না গেলে চলে! সেন্ট মার্টিন থেকে ছেঁড়া দ্বীপ স্পিডবোটে যেতে লাগে মিনিট দশেক। তবে ট্রলার হলে ৪০ মিনিট লাগে। এই দ্বীপে মানুষের স্থায়ী বসবাস নেই। যখন ওই অঞ্চলে পর্যটকদের সংখ্যা বেশি থাকে, তখন সেখানে কিছু মানুষ পাওয়া যায়, যারা নারকেল, চানাচুরজাতীয় কিছু বিক্রির দোকান খুলে বসে। ২০০০ সালের শেষের দিকে এই দ্বীপটির সন্ধান পাওয়া যায়। ছেঁড়া দ্বীপ জোয়ারের সময় অনেকাংশে ডুবে যায়।

ট্রলারে চড়ে ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়ার সময় সেন্ট মার্টিনের পুরো পূর্ব পাশটায় নজর বুলিয়ে নেওয়া যায়। সমুদ্রের নীল জলরাশির ভেতর নারকেলগাছবেষ্টিত সেন্ট মার্টিনের এই রূপ দেখার জন্য বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করবে, এটা নিশ্চিত। সেন্ট মার্টিনে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। ভাটার সময় অনেকে অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় সাইকেল চালিয়ে ওখানে চলে যান। আমাদের দলেরও কেউ কেউ সাইকেলে গেল। ট্রলারে গেলে সেটা দ্বীপ থেকে কিছুটা দূরে নোঙর ফেলে। তারপর ছোট ডিঙি নৌকায় ছেঁড়া দ্বীপে নামা।


যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে প্রথমে হানিফ, শ্যামলী, রিলাক্স, তুবা লাইন, গ্রিন লাইন, বাগদাদ, সেন্ট মার্টিন পরিবহনের বাসে করে টেকনাফ যাবেন। বাসের ভাড়া নন-এসি ৯০০ টাকা আর এসি ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এরপর টেকনাফ থেকে শিপ এল সিটি কুতুবদিয়া, কেয়ারী সিন্দবাদ, এমভি কাজল, বে-ক্রুজ, গ্রিন লাইন দিয়ে সেন্ট মার্টিন। শিপের ভাড়া ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

কোথায় থাকবেন
সেন্ট মার্টিনে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি উন্নত মানের রিসোর্ট, হোটেল ও কটেজ রয়েছে। কোয়ালিটি ভেদে সেখানে জনপ্রতি রাতে ৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে যে কেউ থাকতে পারবেন।

লেখক: অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পরিকল্পনা সমন্বয়ক, ঘুরব দেশ
সূত্র: প্রথম আলো

ভ্রমণে বারবিকিউ

ভ্রমণের সঙ্গে বারবিকিউয়ের একটা বিশেষ যোগ আছে। পরিপাটি রিসোর্ট বা গহিন অরণ্য—খাবার ঝলসাতে পারবেন সবখানে। বেড়াতে গিয়ে বারবিকিউ করতে চাইলে আগেভাগে কিছু উপকরণ ব্যাগে ভরে নিতে পারেন। বাজারে নানা ধরনের সস বা প্যাকেটজাত মসলার গুঁড়া পাওয়া যায়, যা দিয়ে সহজেই মজাদার বারবিকিউ করা যায়। তেমনই কয়েকটি রেসিপি দিয়েছেন সিতারা ফিরদৌস

বারবিকিউ প্রন
উপকরণ: চিংড়ি মাছ ৫০০ গ্রাম, বারবিকিউ সস ১ টেবিল চামচ, টমেটোর সস ২ টেবিল চামচ, ভিনেগার ২ টেবিল চামচ, জলপাই তেল ১ টেবিল চামচ, পাপরিকা ১ চা-চামচ, রোজমেরি আধা চা-চামচ, ভাজা মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: চিংড়ি পরিষ্কার করে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে মেরিনেট করে ১ ঘণ্টা রাখতে হবে। চিংড়ি কাঠিতে গেঁথে কয়লা বা কাঠের আগুনে ১০ মিনিট গ্রিল করতে হবে। মাঝে দুই বার উল্টে দিতে হবে এবং মসলা ব্রাশ করতে হবে।

বারবিকিউ সসেজ

উপকরণ: সসেজ ১০-১২টা, বারবিকিউ সস ১ টেবিল চামচ, টমেটোর সস ২ টেবিল চামচ, সাদা গোলমরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, চিলিফ্লেক্স ১ চা-চামচ ও লবণ সামান্য।
প্রণালি: সব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে সসেজে মাখান। এবার কাঠিতে গেঁথে ৫ থেকে ৬ মিনিট গ্রিল করলেই হয়ে যাবে।

বারবিকিউ চিকেন
উপকরণ: মুরগি দেড় কেজি, বারবিকিউ সস ৩ টেবিল চামচ, সয়াসস ২ টেবিল চামচ, টমেটোর সস ৪ টেবিল চামচ, ভাজা মরিচের গুঁড়া ২ চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ২ চা-চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ ও আদাগুঁড়া ২ চা-চামচ।
প্রণালি: চামড়াসহ মুরগি পছন্দমতো টুকরা করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। ছুরি দিয়ে মুরগির গায়ে দাগ কেটে নিন। বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে মুরগির গায়ে ভালো করে লাগিয়ে এক ঘণ্টা রাখুন। এইবার মসলা থেকে মুরগি তুলে কয়লা বা গাছের ডাল দিয়ে লাল না হওয়া পর্যন্ত গ্রিল করতে হবে। মাঝে মাঝে উল্টে মুরগির গায়ে মসলা ব্রাশ করতে হবে। গ্রিল থেকে নামিয়ে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ২ টেবিল চামচ টমেটোর সস একসঙ্গে মিলিয়ে মুরগির গায়ে লাগিয়ে পরিবেশন করতে হবে।


ভেজিটেবল বারবিকিউ
উপকরণ: ফুলকপি, ব্রকলি, গাজর, বেবি কর্ন (কচি ভুট্টা), নতুন আলু ইত্যাদি সবজি পছন্দমতো আকারের ২ কাপ (ভাপ দেওয়া), ক্যাপসিকাম, টমেটো ও পেঁয়াজের বড় টুকরা ১ কাপ, লেবুর রস ৪ টেবিল চামচ, জলপাই তেল ২ টেবিল চামচ, সাদা গোলমরিচগুঁড়া ২ চা-চামচ, রোজমেরি ১ চা-চামচ, ফ্রেশ ক্রিম ৪ টেবিল চামচ, বারবিকিউ সস ২ টেবিল চামচ, চিলিফ্লেক্স ১ চা-চামচ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: সব উপকরণ মিলিয়ে সবজির সঙ্গে কাঠিতে গেঁথে গ্রিল করতে হবে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন।

বারবিকিউ তেলাপিয়া
উপকরণ: তেলাপিয়া মাছ বড় আকারের ২টি, বারবিকিউ সস ২ টেবিল চামচ, টমেটোর সস ২ টেবিল চামচ, ভাজা মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, গোলমরিচ ১ চা-চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: মাছ পরিষ্কার করে পেট চিরে লেবুর রস ও লবণ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রাখতে হবে। এবার বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে মাছের গায়ে লাগিয়ে আধা ঘণ্টার মতো রেখে দিন। কয়লা বা কাঠে গ্রিল করে মাঝে মাঝে উল্টে দিন।

সূত্র: প্রথমআলো

হাওরের রঙিন গ্রাম

ভৈরবের উজানভাটি রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আবার ছুটলাম। পাশে বসা স্ত্রীর সঙ্গে নানা আলাপসালাপ করতে করতে কখন যে সিলেট শহরে পৌঁছে গেছি, টেরও পাইনি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। যাক, সিলেটে যখন চলে এসেছি, তখন সুনামগঞ্জের দেরি নেই। রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চা-দোকানিকে সুনামগঞ্জের রাস্তা কোন দিকে জিজ্ঞেস করার পর সিলেটি ভাষায় তিনি যা বললেন, তার মানে বুঝে বোকা বনে গেলাম। আমরা সুনামগঞ্জে যাওয়ার রাস্তা ১০ কিলোমিটার আগেই ফেলে এসেছি। হায়রে কপাল! গাড়ি ঘুরিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে চালাতে লাগলাম।

সুনামগঞ্জ শহরে যখন পৌঁছালাম, তখন বিকেল হয়ে গেছে। নিরিবিলি শহরটা। প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গেল। হোটেলের বারান্দায় বসে এক কাপ চা সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে দিল। হোটেলের পাশে গাছগাছালিঘেরা পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে কয়েকটি হাঁস গা থেকে পানি ঝরাচ্ছে। এবার বাড়ি ফেরার পালা তাদের।
সন্ধ্যার পর চলে গেলাম মরমি কবি হাসন রাজার স্মৃতি জাদুঘরে। পুরোনো বাড়িটির প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে আছে তাঁর ছবি আর ব্যবহৃত জিনিসপত্র। পানি খাওয়ার গ্লাস থেকে শুরু করে ঘোড়ার লাগাম, সবই আছে। তাঁর নাতি সমীরণ দেওয়ান খুবই আগ্রহ নিয়ে প্রতিটি জিনিসের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। আমি কাঠখোট্টা মানুষ, শিল্প-সাহিত্য বুঝি কম। তারপরও কবি হাসন রাজার বিশাল এক ছবির ওপরে লেখা দুটো লাইনে আমার চোখ আটকে গেল, ‘রূপ দেখিলাম রে নয়নে আপনার রূপ দেখিলাম রে, আমার মাঝত বাহির হইয়া, দেখা দিল আমারে।’
স্ত্রী পাশে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘কিছু বুঝলা?’। আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি…।
বাকি সময়টা কেটে গেল হাসন রাজার গান শুনে। এবার হোটেলে ফেরার পালা। একজনের বুদ্ধিতে চলে গেলাম পেছনের পুরোনো একটা বাড়ির কাছে। হাসন রাজার বাড়ি। যেখানে তিনি থাকতেন। বাড়ির পাশের ভাঙা পুকুর ঘাটে দাঁড়াতেই কোত্থেকে যেন হিম বাতাস এসে পুরো কলজে নাড়িয়ে চলে গেল। একে তো পুরোনো বাড়ি, তার সঙ্গে ভাঙা পুকুর ঘাট, আর সেই সঙ্গে নিকষ অন্ধকার। ভয়ে শক্ত হয়ে দাঁত কপাটি লাগায় এর চেয়ে বেশি আর কী লাগে।
পরদিন সকালে শহর থেকে বের হতে গিয়েই আটকে গেলাম। তাহিরপুর যাওয়ার রাস্তায় গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে না। কাচুমাচু মুখ করে অনুরোধ করায় বিশেষ বিবেচনায় আমাদের গাড়ি ছাড়া পেল। স্থানীয় এক লোক এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন। তিনি অনুরোধ করলেন তাঁকে যেন মাঝপথে তাঁর বাসায় নামিয়ে দিই। সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম।
চারপাশটা বিস্তীর্ণ সবুজ ধানে ভরা। হাওর অঞ্চল, তাই বর্ষার আগে এটাই শেষ ফসল। তারপর পানিতে তলিয়ে যাবে সবকিছু। তখনো কোথাও কোথাও জলাভূমি দেখা যাচ্ছে। গাড়ির কাচ নামিয়ে বুকভরে নিশ্বাস নিই। আহা! কী সুন্দর এই দেশটা।

গত মার্চ মাসে বেড়াতে গিয়েছিলাম সুনামগঞ্জের এই জায়াগায়। হাওর তখন ভরে ওঠেনি। কিন্তু সে সময়েও দারুণ সুন্দর প্রকৃতি। রাস্তার দুই পাশে বেশ কিছু দোকান নিয়েই ছোট এক বাজার। হোটেলের সামনে মাটির চুলার ওপর বড়সড় তাওয়াটা যেন আমাদের অপেক্ষাতেই ছিল। আহা! বেচারা, তেল না পেয়ে কেমন শুকিয়ে গেছে। নাশতার অর্ডার দিতেই ব্যস্ত হয়ে গেলেন বাবুর্চি। তাওয়ায় তেল ছড়িয়ে দিয়েই চটপট চার-পাঁচটা পরোটা ছেড়ে দিলেন। তারপর এপাশ-ওপাশ করে, খুন্তির চাপে চাপে গায়ে তেল মেখে কেমন মুচমুচে হয়ে উঠল পরোটাগুলো। তারপর তাওয়ায় পেঁয়াজ-কাঁচা মরিচ মেশানো ডিমটা যখন ছাড়লেন, তার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ল যেন বাজারজুড়ে। বেঞ্চে বসে নাশতা খেতে খেতেই হাওয়া ছেড়ে দিল। হাওয়ার জোর বাড়ছে। ঝড়ের তোড়ে বাজারের দোকানগুলো দ্রুত ঝাঁপ ফেলে দিল। আমরাও দৌড়ে আশ্রয় নিলাম গাড়ির ভেতর।
ধীরে ধীরে ঝোড়ো হাওয়া থেমে গেল। কেমন এক অদ্ভুত নীরবতা চারপাশে।
এবার একটা দ্বিধায় পড়ে গেলাম। সামনের দিকে যাব নাকি সুনামগঞ্জ শহরে ফিরে যাব। একজন সাইকেল আরোহী এসে জানাল সামনে অনেক বাঁশ ভেঙে রাস্তায় পড়ে আছে। ভেবে দেখলাম, এভাবে তো ফিরেও যাওয়া যাবে না। পেছনের রাস্তাতেও নিশ্চয় গাছ পড়ে আছে যা থাকে কপালে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। চলতে চলতে পৌঁছে গেলাম তাহিরপুর। গন্তব্য টাঙ্গুয়ার হাওর। কিন্তু এখান থেকে গাড়ি আর যাবে না। মোটরসাইকেলে চড়ে ঘাটে যেতে হবে। তাই সই…।

সূত্র: প্রথমআলো

বিনা ভিসাতে ঘুরে আসুন লাস্ট প্যারাডাইজ থেকে!

বাংলাদেশে প্রায় সব জায়গা ঘোরা শেষ? খুব ইচ্ছে করছে নিজ দেশের বাইরের রূপ-বৈচিত্র্য দেখার? কিন্তু একদমই ভিসা পাওয়া না পাওয়ার ঝামেলাতে জড়াতে চাচ্ছেন না? তাহলে ইন্দোনেশিয়ার বালি আপনারই জন্য। বালি আপনাকে দেবে অন এরাইভাল ভিসা অথবা প্রবেশের সময় ভিসা। এইতো হয়ে গেলো আপনার অর্ধেক সমস্যার সমাধান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বালিতে গিয়ে কী করবেন? কী আছে ওখানে? বালি তো ঢাকাতেই কতো আছে, কষ্ট করে আবার ইন্দোনেশিয়া কেনো যাবো?

বালির রাজধানীর নাম ডেনপাসার। আকারে হয়তো বালি বড় নয় কিন্তু এর অকল্পনীয় ও আকর্ষণীয় সৌন্দর্যআপনার মনকে পাগল করে তুলবে। বালির ক্ষেত্রে বলাই যায়, “Size doesn’t matter”! ইন্দোনেশিয়া অন্য সব প্রদেশ গুলোর মধ্যে সবচাইতে ক্ষুদ্র প্রদেশ হচ্ছে বালি। রয়েছে নীলরাশির সমুদ্র, পাহাড়পর্বত, সাংস্কৃতিক পর্যটক স্পট, স্মারক, স্মৃতিস্তম্ভ, সাফারি পার্ক, আর্ট মিউসিয়াম ইত্যাদি। সবকিছুর মধ্যেও কিছু বেষ্ট জায়গা আছে যা না দেখলেই নয়। জেনে নেয়া যাক বালিতে ঘুরে দেখার এমন কিছু বেষ্ট জায়গার ব্যাপারে।

১। উবুদ– আপনি যদি বালিতে প্রকৃতি, মানুষ ও সংস্কৃতি, মন্দির, জাদুঘর, রোলিং ধান/চাল, মানুষের তৈরি অসংখ্য ফুলের বাগান, পার্ক এর সাথে নির্মল প্রকৃতি ঘুরে দেখতে চান তাহলে উবুদ আপনার প্রথম পছন্দের জায়গা হবে। উবুদে আপনি দেখতে পাবেন টেগালালাং রাইস টেরেস। রয়েছে মাঙ্কি ফরেস্ট এটি উবুদের সবচে জনপ্রিয় জায়গা। এখানে আপনি বানরের সাথে বাঁদরামি করা ছাড়াও বানরকে কাঁধে ওঠাতে পারবেন। তবে আমরা নিশ্চয়ই জানি বানরকে কাঁধে ওঠাতে নেই। তাই বানরকে কলা খাওয়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উবুদকে বালির প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। আপনি চাইলেই বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন সেখানে। খরচও তুলনামুলকভাবে কম। উত্তাল সমুদ্রের উপর দিয়ে সার্ফিং করা এই স্থানের প্রধান আকর্ষণ। আপনি যদি কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন তাহলে যেতে পারেন উবুদ আর্ট মার্কেটে। যারা হলিউড মুভি ইট প্রে লাভ (eat pray love) দেখেছেন তারা হয়তো দেখেছিলেন উবুদ মার্কেটটি সেখানে সেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো।

২। কিন্তামানি মাউন্ট বাটুর– আমার মতো যারা পাহাড়কে ভালোবাসেন তাদেরকে মনখারাপ করাবে না বালি। কারন এখানে রয়েছে অনেক পুরনো ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। এই ট্রেকটি খুব পরিচিত একটি ট্রেক। যারা অনেক সাহসী এবং অ্যাডভেঞ্চার করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং জায়গা হবে। এর নিচে রয়েছে লেক বাটু যা বালির সবচাইতে বড় প্রাকৃতিক হ্রদ। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ বর্গ কিলোমিটার। ট্রেক করতে গিয়ে টিলার উপরে পাবেন ছোট ছোট খাবারের দোকান। বাটুর লেকের আশেপাশে কিছু পুরনো গ্রাম রয়েছে চাইলে সেগুলোও ঘুরে দেখতে পারেন।

৩। কুটা বিচ/ সানুর বিচ/ নুসা দুয়া– কুটা বিচ দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত। কিউটা বিচ তরুণ পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকে কারন অন্যান্য বিচের তুলনায় কুটা বিচে থাকাখাওয়ার দাম কম, তাই বাজেট ট্রাভেলাররা এই স্থানকে বেছে নেয়। কুটা বিচে আপনি পাবেন নাইট লাইফের আসল মজা। কারন এই বিচ কখনো ঘুমায় না। ওয়ার্টার স্কিয়িংকরে যারা সমুদ্রের তলদেশও চাইলে দেখতে পারবেন। তবে সূর্যোদয় দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে সানুর বিচে। এখান থেকে আপনি যে ভিউ পাবেন তা অন্য কোনো বিচে পাবেন না। জীবনে হয়তো অনেক সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয় দেখেছেন কিন্তু সানুর বিচের মতো নয়। শুধুমাত্র সূর্যোদয় দেখতেই দূর দূর থেকে পর্যটকরা ভিড় করে এখানে। কিন্তু হানিমুনের জন্য বেষ্ট হচ্ছে নুসা দুয়া বিচ। নীল আকাশের নিচে সবুজ সমুদ্র রাশি তো আর একা দেখে আনন্দ পাবেন না। সঙ্গে যদি প্রিয় মানুষটি থাকে তাহলে জীবনকে আরও বেশী সুন্দর মনে হবে। কুটা বিচের মতো আরও বেশ কিছু বিচের কারনেই বালি এতো জনপ্রিয় ভ্রমণ জায়গা হিসেবে স্থান পেয়েছে।

৪। স্পোর্টস– সবকিছুর পরও যদি বালিকে বোরিং মনে হয় তাহলে বালির কিছুপরিচিত কার্যকলাপ চেষ্টা করে দেখতে পারেন। বালিতে অনেকধরনের স্পোর্টস রয়েছে যা আপনার বাকেট লিস্টে আছে কিন্তু কখনো করা হয়নি। শুরু করতে পারেন সার্ফিং দিয়ে। বালির বেশীরভাগ বিচেই আপনি এটি করতে পারবেন। রয়েছে কাইট সার্ফিং এটি আপনি সানুর বিচে পাবেন। এছাড়াও ওয়াইট ওয়াটার রাফটিং, রিফ ওয়াকিং সাঁতার না জানলেও সমস্যা নেই। এছাড়াও স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, ফ্লাইং ফিশ , জেট স্কী, আন্ডার ওয়াটার স্কুটার, আইল্যান্ড হপিং, বানানা বোট, পেইন্টবল গেমস খেলে খুব মজা পাবেন। বেশীরভাগ স্পোর্টস গুলো নুসা দুয়াতে পাবেন। বালিতে গেলে কোনোভাবেই আপনি হতাশ হয়ে ফিরবেন না।

৫। মন্দির– অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপবালিতে রয়েছে অসংখ্য মন্দির। বালির অধিকাংশ অধিবাসী হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী। এটি ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র স্থান যেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। অনেক পর্যটকরা এই দ্বীপে এসে মন্দির প্রদর্শন করেন। তানাহ লট নামে একটি পরিচিত মন্দির রয়েছে যেটি সবচাইতে বেশী আকর্ষণীয়। এছাড়াও বেশ কিছু মন্দির রয়েছে যেমন- উলুন দানু বাটুর, তামান আয়ুন, উলুওয়াতু ওয়াটার মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির রয়েছে। সবধর্মের মানুষরাই ভ্রমণ করতে গেলে মন্দির গুলোও দেখে। কারন এতো সুন্দর কারুকার্যময় ঐতিহাসিক মন্দির দেখতে কার না ভালো লাগবে?

বালি সবধরনের সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ একটি দ্বীপ। সবকিছুই আপনাকে মুগ্ধ করবে এবং একবার গেলে অবশ্যই মন ভরবে না। বালিকে“লাস্ট প্যারাডাইজ” বলা হয়। বলা হয়ে থাকে স্বর্গের মতোই সুন্দর বালি। এই ছোট্ট দ্বীপটি একই সঙ্গে আপনার চোখ, মন, প্রান জুড়িয়ে দিবে।

সহজে কাশ্মীর ভ্রমণের উপায়

কাশ্মীর, ভ্রমণপ্রিয় সব মানুষের কাছেই এক আকর্ষণ। কাশ্মীরকে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর ভূস্বর্গ।
কাশ্মীর আসলেই পৃথিবীর স্বর্গ। কাশ্মীর নিয়ে নানা রকম গল্প রয়েছে। আজকে আমরা শুধু কত সহজে, কোন কোন উপায়ে কাশ্মীর যাওয়া যায়, সেই গল্প বলব।

আকাশপথে

অনেকেই বিমানে কাশ্মীর যাওয়ার কথা শুনলে বা জানলে খরচের কথা মনে করে। হয়তো ঘাবড়ে যেতে পারেন। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়। আপনি যদি যাওয়ার দিন-তারিখ ঠিক রাখতে পারেন, তবে রেলে বা বাসে চেয়ে সামান্য বেশি খরচে, অল্প সময়ে আর জার্নির যন্ত্রণা ছাড়াই ঘুরে আসতে পারেন ভূস্বর্গ কাশ্মীরে।

কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর যাওয়ার ইকোনমি ক্লাসের প্লেনের টিকেট পাবেন ৬০০০-৭০০০ টাকায়, যদি দুই থেকে তিন মাস আগে টিকেট কেটে রাখেন। যেটা প্রায় ট্রেনের টিকেটের সমতুল্য। এবং ফেরার টিকেট এই একই দামে। এতে করে সময় বাঁচবে, জার্নির ক্লান্তি থাকবে না। আর খরচের ব্যাপারটাও থাকবে সাধ্যের মধ্যে।

আবার ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে দিল্লি থেকে শ্রীনগর যেতে পারেন প্লেনে। সে ক্ষেত্রে ঢাকা-কলকাতা প্লেন ভাড়া ৪০০০-৫০০০ টাকা। কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর আগের ভাড়া। বা ঢাকা থেকে সরাসরি দিল্লি প্লেনে ৮০০০-১০০০০ টাকা। তারপর দিল্লি থেকে ৩৫০০-৫০০০ টাকা শ্রীনগর প্লেন ভাড়া।

ফিরতেও পারেন একইভাবে।

রেলপথে
ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে, দিল্লি বা জম্মু গিয়ে আবার জম্মু থেকে একই পথে ঢাকায় ফিরে আসতে পারেন ট্রেনে করেই। এটাই সবচেয়ে মজার জার্নি বলে আপনার মনে হতে পারে। যদিও সময়টা একটু বেশি লাগে, কিন্তু যদি সময় থাকে আর থাকে একটা ভালো ভ্রমণ গ্রুপ, তবে এটাই কাশ্মীর যাওয়ার বেস্ট উপায়। এই ক্ষেত্রে যে রুট হবে সেটা এমন :

ঢাকা থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেসে কলকাতা, ভাড়া নেবে ১০০০-২৫০০ শ্রেণি অনুযায়ী, ট্র্যাভেল ট্যাক্সসহ। কলকাতা থেকে সরাসরি জম্মু যাওয়ার ট্রেনের টিকেট নিতে পারেন হিমগিরি বা জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেসের। ভাড়া পড়বে ১২০০ থেকে ৫০০০ পর্যন্ত স্লিপার, থ্রি/টু টায়ার আর বাথের। সময় লাগবে ৩২-৩৬ ঘণ্টা। জম্মু নেমে শ্রীনগর যেতে হবে বাস বা রিজার্ভ কারে করে। বাসের ভাড়া পড়বে ৮০০-১৫০০ টাকা। আর গাড়ি ভাড়া পড়বে ৫০০০-৮০০০ পর্যন্ত। গ্রুপের সদস্য সংখ্যার ওপরে নির্ভর করবে কোন গাড়ি নেবেন। জম্মু থেকে শ্রীনগর যেতে সময় লাগবে ৭-১২ ঘণ্টা। নির্ভর করে আবহাওয়া, রাস্তার অবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এসবের ওপরে।

বাস ও রেলের সমন্বয়
এ ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে পারেন বাসে বা ট্রেনে। ভাড়া ১০০০ থেকে ২৫০০-এর মধ্যে। কলকাতা থেকে দিল্লি যেতে পারেন বেশ আয়েশ করে রাজধানী এক্সপ্রেসে। ভাড়া পড়বে ৩০০০-৫৫০০ টাকা শ্রেণিভেদে। তবে সব খাবার এই টিকেট ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। দিল্লিতে সারা দিন ঘুরে রাতের রাজধানী এক্সপ্রেসে যেতে পারেন দিল্লি থেকে জম্মু পর্যন্ত। রাতে ছেড়ে সকালে পৌঁছায়। জম্মু থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত আগের মতো বাস বা গাড়ি রিজার্ভ করে।

কাশ্মীরের হোটেল খরচ
এভাবে আপনার সাধ, সাধ্য আর সময় অনুযায়ী পৌঁছে গেলেন ঢাকা থেকে কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে। এবার কাশ্মীর ঘুরে দেখার পালা আর ভাড়া আর খাওয়া-দাওয়া। ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে বেশ ভালো মানের রুম পাবেন পুরো কাশ্মীরজুড়েই। শ্রীনগর, ডাললেক, হাইজ বোট, গুলমার্গ, সোনমার্গ, পেহেলগাম, সব জায়গাতেই। যেখানে একটি ছোট পরিবার আরামে আর তিনজনের একটি গ্রুপ অনায়াসে থাকতে পারবে।

খাওয়া
কাশ্মীরে ভারতের অন্যান্য ট্যুরিস্ট স্পটের চেয়ে খাবার খরচটা একটু বেশি। কারণ, এখানে তেমন কোনো শস্য বা সবজি হয় না। সব রকম খাবারের জোগান দূরের অন্যান্য প্রদেশ থেকে আসে বলে খাবারের খরচটা একটু বেশি। জনপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ রুপির কমে ভালো খাবার পাওয়া একটু মুশকিল। আর সকালের নাশতায়ও গুনতে হবে অন্তত ১০০ রুপি। একটু আরাম করে খেতে চাইলে।

গাড়ি ভাড়া
শ্রীনগর থেকে অন্যান্য স্পটের যেখানেই যেতে চান, আপনি যদি সময়ের ভাবনা না ভাবেন, তবে লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খুবই কমে নানা জায়গায় যাওয়া-আসা করতে পারবেন। কিন্তু এত সময় তো আমাদের নেই আর ওটা হলো সিঙ্গেল ট্রাভেলারদের জন্য। গ্রুপ করে বা পরিবার নিয়ে গেলে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো। সে ক্ষেত্রে খুব বেশি দামাদামি করার সুযোগ নেই। নানা রকম গাড়ির রেট নির্ধারণ করাই আছে, সারা দিনের জন্য। যেমন—চারজনের জন্য ২৪০০ রুপি, ৬-৮ জনের জন্য ২৮০০ রুপি আর ৯-১৪ জনের জন্য ৩৩০০ রুপির বড় গাড়ি। দেখে শুনে-বুঝে গাড়ি আর ড্রাইভার নির্বাচন করুন। কোনো হোটেল বা দালালের দরকার নেই। ডাল লেকের পাশে দাঁড়ালেই শত শত গাড়ি পেয়ে যাবেন।

কোথায় কোথায় ঘুরবেন
আমার মতে, প্রথম দিন বেশি ঘুরে জার্নির ক্লান্তির সঙ্গে আরো ক্লান্তি যোগ না করে ডাল লেকের পাশে বসে বা হাউস বোটের বারান্দায় বসে বিশ্রাম নিন। আরাম করে, ক্লান্তি দূর করে পরদিন থেকে শুরু করুন।

প্রথম দিন : শ্রীনগরের বিখ্যাত, সুসজ্জিত আর মনকাড়া মোগল গার্ডেনগুলো দেখুন, পরীমহলে বেড়ান, ডাল লেক আর হজরত বাল মসজিদ দেখুন সময় নিয়ে, ধীরে ধীরে।

দ্বিতীয় দিন : শ্রীনগর থেকে গুলমার্গ চলে যান। গণ্ডোলায় চড়তে চাইলে নিজেই টিকেট কাটুন, একটু সময় লাগবে কিন্তু সমস্যা হবে না। শুধু শুধু দালালের হাতে টাকাপয়সা না দেওয়াই ভালো। আর পনি রাইড তো অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। সময় নিয়ে পুরো গুলমার্গ ঘুরে ফিরে আসুন শ্রীনগরে বা চাইলে থাকতে পারেন ওখানেই। মনে রাখবেন, গাড়ির ড্রাইভার তাড়াহুড়ো করে চলে আসতে চাইবে যদি আসতে চান। নানা রকম অজুহাত দেখাবে, দেখাবে আবহাওয়ার ভয়-ভীতি, এসব শুনে ভড়কে যাবেন না।

তৃতীয় দিন : আজকের দিন সোনমার্গের জন্য। যেতে সময় লাগবে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। পথে পড়বে অপরূপ সিন্ধু নদ। আর শেষে সোনায় মোড়ানো সোনমার্গ। এখানে চাইলে থাকতে পারেন এক রাত। সোনমার্গ থেকে যেতে পারেন যোজিলাপাস। গাড়ি ভাড়া নিয়ে হবে আলাদা করে। ভাড়া ৬০০০-৮০০০ টাকা। দরদাম করে নেবেন অবশ্যই।

আর একদিন সময় হাতে থাকলে যেতে পারেন ২০০ কিলোমিটার দূরের কার্গিল। দেখে আসতে পারেন পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র আর এক অন্য রকম কাশ্মীর।

চতুর্থ দিন : শ্রীনগর থেকে চলে যান কাশ্মীরের সত্যিকারের স্বর্গের শহর পেহেলগামে। যেখানে পাবেন অসহ্য সুখের আরু ভ্যালি, বেতাব ভ্যালি, মিনি সুইজারল্যান্ড, পাগল করা লিডার নদী, পাইনের অরণ্য আর হাজারো ঝর্ণা একই সঙ্গে। এখানে একদিন-দুদিন থেকে মন ভরবে না কিছুতেই। তাই সময় থাকলে এখানে দু-একদিন বেশি থাকতে পারেন। পুরো কাশ্মীরের মধ্যে পেহেলগামটা হলো এককথায় পাগল করা বা অপার্থিব!

সাবধানতা : কাশ্মীর যতই যুদ্ধ আর সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা হোক না কেন, ট্যুরিস্টদের জন্য শতভাগ নিরাপদ। কারণ, এটাই ওদের একমাত্র আয়ের উৎস। তাই ট্যুরিস্টদের নিয়ে ওদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে জেনেবুঝে কোনো বেশি সাহসী কাজ না করাই ভালো। যেমন কারো সঙ্গে মনোমালিন্য, দরদাম নিয়ে বেশি ঝামেলা করা, মাথা গরম করে কোনো কিছু করে না ফেলা। তাতে আপনি যতই সঙ্গবদ্ধ আর বড় গ্রুপের হোন না কেন?

আর যাওয়ার আগে অবশ্যই সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে, জেনে আর বুঝে যাবেন। কারণ আগে জীবন, নিজের আর পরিবারের নিরাপত্তা আর তার পরে ভ্রমণ।

মাত্র ৮ হাজার টাকায় ঘুরে আসুন ভুটান!


সড়ক পথে ভুটান যেতে হলে আপনাকে প্রথমেই যা করতে হবে তা হলো ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে ভিসার মেয়াদ কিন্তু দেয় ১৪ দিন। অর্থাৎ আপনি যেদিন যাবেন তার কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ দিন আগে আপনাকে ভারতীয় ভিসা সেন্টার গুলশানে আবেদন করতে হবে। প্রথমেই জানিয়ে রাখি ভিসা জমা দিতে কি কি লাগবে।

১. অনলাইনে ফরম পূরণ করে তার প্রিন্ট কপি। ভিসা ফর্ম পূরণের সময় ভিসা টাইপ ট্রানজিট ও পোর্ট দিবেন বাই রোড চ্যাংরাবান্ধা /জঁয়গাও
২. সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডযুক্ত দুই ইঞ্চি বাই দুই ইঞ্চি ছবি, ফরমের সাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে।
৩. ন্যাশনাল আইডি বা জন্মসনদ এর ফটোকপি
৪. বর্তমান ঠিকানার সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল শেষ ৬ মাসের
৬. চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) ,ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এবং ছাত্রছাত্রীদের আইডি কার্ডের ফটোকপি।
৫. ডলার এন্ড্রোসমেন্ট (২০০ ডলার) এর কপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট (১৫ হাজার টাকা থাকতে হবে) এর কপি।
৬. বর্তমানে ভুটানে হোটেল রিজার্ভেশনের কাগজও দেখতে চায় ভারতীয় এম্বেসি ,তাই ভুটানে যে হোটেল বুকিং দিয়েছেন এর কাগজও জমা দিতে হবে।
৭. পাসপোর্ট ও পাসপোর্টের ফটোকপি (পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বনিম্ন ছয়মাস থাকতে হবে) আগে ইন্ডিয়ান ভিসা থাকলে তারও ফটোকপি লাগবে। পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে সেটা জমা দিতে হবে।
৮. বাসে আসা যাওয়ার কনফার্ম টিকেট সেক্ষেত্রে শ্যামলী বা এসআর পরিবহন বা অন্য যেকোন পরিবহনের বুড়িমারি বর্ডার -শিলিগুড়ি পর্যন্ত আসা যাওয়ার টিকেট। যেহেতু কনফার্ম টিকেট কাটবেন বাসের সেহেতু ভ্রমণ তারিখ ও এম্বেসিতে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের সাথে দশ বারোদিন গ্যাপ রাখবেন কারণ জমা দেবার আট থেক দশদিন পর ভিসা দেওয়া হয় তাই বাসের টিকেটের তারিখ এর পরে হতে হবে। বুঝা গেছেতো ? বাসের টিকেটের ফটোকপিও জমা দিতে হবে অরজিনাল কপির সাথে।

কীভাবে যাবেন:
ট্রানজিট ভিসা নিয়ে সোজা চলে যান বুড়িমারি বর্ডারে। ঢাকা থেকে এস আর, মানিক আর নাবিলসহ কয়েকটি বাস ছাড়া হয়। ভাড়া ৮৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা। রাত ৮ টার মধ্যে এসব বাস ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়। পরদিন সকালে অর্থাৎ ভোরে পৌঁছে যাবেন বুড়িমারি। মনে রাখবেন বাংলাদেশের এপাশের নাম বুড়িমারি আর ভারতের ওপাশের নাম চ্যাংড়াবান্ধা। আর বর্ডার খোলা হয় এখানে সকাল ৯ টায়। এসময়টুকু বসেই থাকতে হবে।

বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে চ্যাংড়াবান্ধা যেতে হবে। সেখানেও রয়েছে বেশকিছু ফর্মালিটি। ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা ছাড়াও আরোও ১০০ টাকা আপনাকে এখানে দিতে হবে। যদিও আমি জানি না এই টাকাটা কি জন্য প্রয়োজন। না দিলে এক ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়। এসব দেখার এখানে কেউই নেই। এবার দেশের বর্ডার পার হয়ে ওপারে যাবেন। সেখানেও দিতে হবে ১০০ টাকা জনপ্রতি। বাংলা ভাষায় ঘুষ। যেখানে দেশে এসব দেখার কেউ নেই অতএব ঐ ভীনদেশেও কাউকে আশা করে লাভ নেই। এবার কাজ শেষ করে যাত্রার পালা।

এখানে অর্থাৎ চ্যাংড়াবান্ধায় আপনাকে ভারতীয় দালালরা জোর করবে টাকা অথবা ডলার ভাঙ্গানোর জন্য। ওদেরকে বুঝতে দিবেন না আপনার কাছে কত টাকা আছে। অল্প কিছু ভাঙ্গিয়ে কোন মতে এখান থেকে কেটে যাবার চিন্তা করবেন। চ্যাংড়াবান্ধা থেকে আপনাকে যেতে হবে জয়গাঁও বর্ডার। ট্যাক্সিতে চলে যেতে পারেন। সময় লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো। ট্যাক্সিতে ৪০০ রুপি মতো খরচ পড়বে জনপ্রতি। ৪ জন রিসার্ভ যেতে চাইলে সেটা হয়ে যাবে দেড় থেকে দুই হাজার রুপির মতো।
চাইলে বাসেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ কমে আসবে অনেকটাই।

* চ্যাংড়াবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে বাসস্ট্যান্ড ভ্যানে যেতে লাগবে ১০ রুপি সময় লাগবে ১০ মিনিট।
* বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়নাগুড়ি বাস ১৫-২০ রুপি, সময় লাগবে ৩০মিনিট।
* ময়নাগুড়ি থেকে সোজা জয়গাঁও বাসে ভাড়া নেব ৫০-৬৫ রুপি, সময় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা
* জয়গাঁও থেকে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পয়েন্ট টেম্পোতে লাগবে ১০ রুপি সময় লাগবে ১৫ মিনিট।

ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে আপনাকে হেঁটেই ঢুকতে হবে ভুটান।
জয়গাঁও এর ওপারেই ফুন্টসোলিং। এখানেই আপনাকে অন অ্যারাইভাল ভিসা দেবে ভুটান।
এবার নিশ্চিন্তে ভুটান ঘোরার পালা। চাইলে সেদিন ফুন্টসোলিং থেকে যেতে পারেন। মোটামুটি কম খরচেই মিলবে ভালো হোটেল। এক রুম ১ থেকে দেড় হাজার টাকায় থাকতে পারবেন দুইজন। সময় বেশি না থাকলে সেদিন ফুন্টসোলিং না থেকে চলে যান পারো অথবা থিম্পুতে।
ঐখানেই বাসস্ট্যান্ড। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেষ বাস। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে পারো কিংবা থিম্পু যেতে পারেন, ভাড়া নিবে ২৫০ রুপী, সময় লাগবে ৬ ঘন্টা। তবে হাতে সময় থাকলে একদিন থেকে ছোট্ট শহর ফুন্টসোলিং ঘুরে দেখতে ভুলবেন না। সুন্দর সাজানো গোছানো শহরের পাশ দিয়ে রয়েছে চলেছে নদী।

কম খরচে পারো অথবা থিম্পু যেতে চাইলে বাসই ভরসা। সেক্ষেত্রে আগের দিন টিকিট করে রাখুন। ট্যাক্সি নিয়েও চলে যেতে পারেন। পারোতে থাকার খুব ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। পারোতে গেলে টাইগার্স নেস্ট ও পারো জং দেখতে ভুলবেন না। পারো এয়ারপোর্টও মুগ্ধ করবে আপনাকে। পারো খুবই শান্ত ও আরামদায়ক একটি শহর।

পারো থেকে থিম্পু যেতে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। বুদ্ধ পয়েন্ট, থিম্পু মনেস্ট্রি, রাজার বাড়িসহ বেশকিছু দৃষ্টিনন্দন জায়গা রয়েছে এখানে। থিম্পু ঘুরে দেখতে একদিনই যথেষ্ট।

ডিসেম্বরের দিকে ভুটান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে চেলালা পাস ও দোচালা পাস ঘুরে আসতে ভুলবেন না। ভাগ্য সহায় থাকলে এখানে পেয়ে যাবেন বরফ। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বরফ পড়ে এখানে।

ফেরার সময় মনে রাখবেন বুড়িমারি থেকে মূলত বাস ছাড়ে সন্ধ্যা ৬টায়। তাই ফুন্টসোলিং থেকে অবশ্যই ১২ টার মধ্যে বের হবার চেষ্টা করবেন। বের হবার সময় ঠিক আগের মতই সব ইমিগ্রেশন পয়েন্ট থেকে আপনার পাসপোর্টে এক্সিট সিল মারতে মারতে আসবেন একদম বুড়িমারি পর্যন্ত।

ভারতীয় ইমিগ্রেশন পয়েন্ট থেকে জয়গাঁও বাসস্ট্যান্ড টেম্পোতে যেতে ১০ রুপি আর সময় লাগবে ১৫ মিনিট।

* জয়গাঁও থেকে ময়নাগুড়ি বাসট্যান্ড বা ৫০-৬৫ রুপি সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা

* ময়নাগুড়ি থেকে চ্যাংড়াবান্ধা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বাসভাড়া পড়বে ১৫-২০ রুপি সময় লাগবে ৩০ মিনিট

*চ্যাংড়াবান্ধা বাসস্ট্যান্ড থেকে চ্যাংড়াবান্ধা জিরো পয়েন্ট ভ্যানে ১০ রুপি এবং সময় লাগবে ১০ মিনিট

যে বিষয় গুলো জেনে রাখবেন:

১. ভুটানের সড়কপথের সৌন্দর্য অসাধারণ। তাই ফুন্টসোলিং থেকে পারো অথবা থিম্পু যেতে চাইলে দিনের আলো থাকতে থাকতেই চলে যান।

২. চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডারে টাকা থেকে রুপি করে নিতে পারবেন। সঙ্গে ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও পাসপোর্টের ফটোকপি রাখবেন।

৩. ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে আসা যাওয়ার সময় ভারতে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। আর এ সুযোগে আপনি চাইলেই জলপাইগুড়ি কিংবা দার্জিলিং হয়ে একদিন কিংবা ২দিন ঘুরে আসতে পারবেন।

৪. হোটেলের জন্য প্রতিদিন বাজেট ১ থেকে দেড় হাজার রুপী।

৫. খাওয়া প্রতি বেলা ১০০ থেকে ২০০ রুপী। যদিও খাওয়া নিয়ে অনেকেরই একটু কষ্ট হতে পারে। ভাত, সবজি, মুরগী আর লাল রুটি ছাড়া সবই ভুটানি খাবার।

৬. ভুটানের টাকার না নুলট্রাম, তবে সেখানে সব যায়গাতেই ভারতীয় রুপি চলে। তবে আসার আগে কোন নুলট্রাম থাকলে চেষ্টা করবেন অবশ্যই তা সেখানেই শেষ করে আসতে। কারণ এই নুলট্রাম আবার ভারতের বর্ডার এলাকা ছাড়া কোথাও চলে না।

৭. ভুটানে কোথাও সিগারেট খেতে পারবেন না। সেইসাথে যত্রতত্র থু থু ফেলা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। রাস্তা পার হতে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করুন।

ঢাকার আশেপাশের রিসোর্টের তথ্য

resort
১) ছুটি: ছুটি রিসোর্টে রয়েছে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা, বিরল প্রজাতির সংরক্ষিত বৃক্ষের বনে রয়েছে টানানো তাঁবু। ছনের ঘর, রেগুলার কটেজ, বার্ড হাউস, মাছ ধরার ব্যবস্থা, হার্বাল গার্ডেন, বিষমুক্ত ফসল, দেশীয় ফল, সবজি, ফুলের বাগান, বিশাল দুটি খেলার মাঠ, আধুনিক রেস্টুরেন্ট, দুটি পিকনিক স্পট, গ্রামীণ পিঠা ঘর, বাচ্চাদের জন্য কিডস জোনসহ সারা দিন পাখির কলরব, সন্ধ্যায় শিয়ালের হাঁক, বিরল প্রজাতির বাঁদুড়, জোনাকি পোকার মিছিল ও আতশবাজি, ঝিঁঝিঁ পোকার হৈচৈ। আর ভরা পূর্ণিমা হলে তো কথাই নেই।

২)ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান গাজীপুর: সরকারি পিকনিক স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম গাজীপুরের এ ভাওয়াল উদ্যান। চত্ত্বর গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর থানা জুড়ে অবস্থিত ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। খেলাধুলার জন্য রয়েছে বড় একটি মাঠ। তাছাড়া রয়েছে এখানে একটি চিড়িয়াখানা। পৃথিবীর অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের আদলে ৬,৪৭৭ হেক্টর জমিতে ১৯৭৩ সালে এ উদ্যান সরকারিভাবে গড়ে তোলা হয়। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল উদ্ভিদ হলো শাল। এছাড়াও নানারকম গাছ-গাছালিতে পরিপূর্ণ এ উদ্যান। জাতীয় উদ্যানের ভেতরে বেশকয়েকটি বনভোজন কেন্দ্র, ১৩টি কটেজ ও ৬টি রেস্ট হাউস রয়েছে। উদ্যানে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৬ টাকা। এছাড়া পিকনিক স্পট ব্যবহার করতে হলে, বন বিভাগের মহাখালী কার্যালয় (০২-৮৮১৪৭০০) থেকে আগাম বুকিং দিয়ে আসতে হবে।

৩) সফিপুর আনসার একাডেমি, গাজীপুর: জেলার কালিয়াকৈর উপজেলায় অবস্থিত আনসার-ভিডিপি একাডেমির বিশাল চত্বর বেড়ানোর জন্য একটি উপযুক্ত যায়গা। অনুমতি সাপেক্ষে বনভোজন করারও ব্যবস্থা আছে এখানে । ফোনঃ০২-৭২১৪৯৫১-৯

৪) পদ্ম রিসোর্ট: ছুটির দিন কিংবা ঈদের বন্ধ ছাড়া বুকিং না করে গেলেও সাধারণত কটেজ খালি পাওয়া যায়। বুকিংয়ের জন্য পদ্মা রিসোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সব তথ্য পাওয়া যাবে। রিসোর্ট যদি শুধু দিনের বেলা ভাড়া করতে চান, তাহলে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত থাকতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে ২৩০০ টাকা। আর যদি দিনসহ রাতও কাটাতে চান, তাহলে ভাড়া লাগবে ৩৪০০ টাকা। মোট ১৬টি কটেজ। এই কটেজগুলোই মূল আকর্ষণের জায়গা। নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা কটেজগুলোতে বেশ আরামদায়ক এবং নিরিবিলি সময় কাটাতে পারবেন।

কটেজগুলোর নামকরণও করা হয়েছে বেশ সুন্দরভাবে। ১২টি কটেজের নাম রাখা হয়েছে বাংলা বছরের ১২টি মাসের নামানুসারে। আর বাকি চারটির নাম নেওয়া হয়েছে চারটি ঋতু থেকে। যদি ভরা বর্ষায় আসেন তাহলে কটেজগুলোর সামনে পানি টলটল করবে। এর ওপর কাঠের তৈরি রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করতে হয়। মনে হয় কটেজগুলো যেন ভেসে আছে পানিতে। ফোনঃ০১৭১২১৭০৩৩০

৫) নক্ষত্রবাড়ী: গাজীপুরে অবস্থিত বেসরকারি রিসোর্টগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত ‘নক্ষত্রবাড়ী’। নক্ষত্রবাড়ী প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও অতি জনপ্রিয় নাম। প্রকৃতিপ্রেমীদের সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ঢাকার খুব কাছে একটি রিসোর্ট বানানোর কথা চিন্তা করে অভিনেতা তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত দম্পতি ১৪ বিঘা জমির ওপর ‘নক্ষত্রবাড়ী’ নির্মাণ করেন। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় নক্ষত্রবাড়ীর ।
ফোনঃ০১১৯২১৫০৫৬৩,০১৯১৯৩১৮০০৯

৬) নুহাশপলস্নী: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের বাগানবাড়ি ও শুটিং স্পট। প্রায় ৯০ বিঘা জায়গা নিয়ে এই নন্দন কাননে আছে একটি ছোট আকারের চিড়িয়াখানা, শান বাঁধানো ঘাটসহ একটি বিশাল পুকুর, দৃষ্টিনন্দন কটেজ, ট্রি হাউস বা গাছবাড়িসহ আরো অনেক আয়োজন। নুহাশ পলস্নীর ভেতরের বিশেষ আকর্ষণ হলো_এর ঔষধি গাছের বাগান। এত সমৃদ্ধ ঔষধি বাগান এদেশে বিরল। সবমিলিয়ে নুহাশপলস্নী একটি ছবির মতো সাজানো-গোছানো এক প্রান্তর, যেখানে গেলে ভালো লাগবে সবার। ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই তিনমাস বনভোজনের অনুমতি মেলে নুহাশপলস্নীতে। যোগাযোগ :০১৭১২০৬০৯৭১

৭)রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট: গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বিপরীত দিকের বড় সড়ক থেকে ডানের গলিপথ ধরে সবুজের অরণ্যে হঠাটি হারিয়ে জাবেন আপনি। ভবানীপুর বাজার পেরিয়ে চিকন রাস্তা ধরে আরও কিছুটা দূর…। পথের দুধারে ঘন শালবন। যতদূর চোখ যায়, শুধুই গাছ আর গাছ। পুকুরপাড়ের গাছটিতে মাছরাঙা পাখি শিকারের আশায় বসে। পুকুরের তীর ঘেঁষে বকের হাঁটাহাঁটি। হরেক রকম পাখি দেখে মনে হতে পারে, হয়তো কোনো গহীন জঙ্গলে এসে পড়েছেন। সত্যিই গহীন অরণ্য। রাস্তার দুধারে দূরের শালবন ছাড়াও খেজুরগাছ, বটগাছ। রাস্তার পাশে আদিবাসীদের কিছু বাড়িঘর।
ফোনঃ ৫৮০৭০৮৪০,০১৯১৯৩১৮০০৯

৮)রাঙ্গামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট রিসোর্ট গাজীপুর: গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত আরেকটি রিসোর্ট ও বনভোজন কেন্দ্র রাঙ্গামাটি। এখানে আছে বনভোজন কেন্দ্র, লেকে মাছ ধরা ও বেড়ানোর ব্যবস্থা এবং কটেজে অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা। ফোনঃ০১৮১১৪১৪০৭৪,০১৯১৯৩১৮০০৯

৯) আফরিন পার্ক রিসোর্ট গাজীপুর: জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর-ময়মনসিংহ সড়কের পাশেই আফরিন পার্ক রিসোর্ট। নানান গাছ-গাছালিতে ঘেরা এ পার্কে আছে বিশাল শান বাঁধানো পুকুর, লেকে নৌকায় বেড়ানোর ব্যবস্থাসহ অবকাশ যাপনের জন্য রিসোর্ট ফোনঃ ০১৮১৯২৫৩৩৩৯

১০) উৎসব পিকনিক স্পট গাজীপুর: ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের হোতাপাড়ার কাছেই এ বনভোজন কেন্দ্রটি। উৎসব পিকনিক স্পটে আছে খোলা চত্বর, কয়েকটি কটেজ ও ট্রি হাউজ। ঢাকার ফুলবাড়িয়া থেকে শ্রাবণ পরিবহনে এসে নামতে হবে হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে। ভাড়া ৩৫ টাকা। সেখান থেকে রিকশায় দশ টাকা ভাড়া উৎসব পিকনিক স্পট পর্যন্ত। যোগাযোগ : ০১৭১৩০৪৪৫৯১, ৮৬২৬৩৭৬

১১) পুষ্পদাম পিকনিক স্পট গাজীপুর: ঢাকা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর জেলার বাঘের বাজারে পুষ্পদাম অবস্থিত। এখানে বিশাল পরিসরে রয়েছে দেশি-বিদেশি বাহারি গাছের সমাহার। প্রবেশপথেই রয়েছে বিশাল দেবদারু গাছের সারি। এ পথ পেরিয়ে একটু ভেতরে ঢুকলেই রয়েছে ফুলে ফুলে ঘেরা কয়েকটি কটেজ। এখানে রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ, কৃত্রিম লেক, ঝরনা ও সুইমিংপুল। পর্যাপ্ত রান্নাঘর, টয়লেট ছাড়াও এখানে আছে একই সাথে এক হাজার লোকের খাবারের জায়গা। যোগাযোগ :০১৮১৯২১৬১৫৭

১২) হ্যাপি ডে ইনন: গাজীপুর: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ঠিক বিপরীত দিকে রয়েছে বেসরকারি এ পিকনিক স্পট। উন্নতমানের হলরুম, আবাসিক রুমসহ দেশীয়, থাই, চায়নিজ খাদ্যের ব্যবস্থা রয়েছে পিকনিকের জন্য। পিকনিকের আয়োজন করে গাজীপুরের এই সবুজ বনে হারিয়ে যেতে কে না চায়। ফোনঃ০১৯৩৯-০৪৭৫৮৬-৮

১৩) অঙ্গনা: গাজীপুর: গাজীপুরের সুর্য্যনারায়নপুর, কাপাসিয়া থানায় অবস্থিত অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হওয়ায় এই রিসোর্টের নামকরণ করা হয়েছে ‘অঙ্গনা’। গ্রামীণ সৌন্দর্যের বেসরকারি রিসোর্টস অঙ্গনার মালিক উপমহাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার ভাই সৈয়দ আলী মুরাদ ২০০৪ সালে ১৮ বিঘা জমির ওপর এটি নির্মাণ করেন। যার অবস্থান গাজীপুরের কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে। নগর জীবনে একাধারে চলতে চলতে ক্লান্তি এসে যায় মনে। আর এই ক্লান্তি দূর করতে রাজধানীর অদূরে কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি এই রিসোর্ট ‘অঙ্গনা’ বাকী জানতে ওয়েবসাইট ভিসিট করুন

১৪) ফ্যান্টাসি কিংডম আশুলিয়া: আশুলিয়ার জামগড়ায় গড়ে উঠেছে বিশ্বের আধুনিক সব রাইড নিয়ে বিনোদনকেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডম। পাশেই হেরিটেজ পার্কে আছে ঐতিহ্যের পরিপূর্ণ ভাণ্ডার। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অনেকগুলোই চোখে পড়বে এখানে। এগুলো মূল স্থাপনার অবিকল আদলেই তৈরি করা হয়েছে হেরিটেজ পার্কে। এ জায়গা দুটিতে বনভোজন করার জন্য রয়েছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
ফোনঃ ৭৭০১৯৪৪-৪৯।

১৫) রিসোর্ট আটলান্টি , আশুলিয়া: ওয়াটার কিংডমের ভিতরে অবিস্থিত রিসোর্ট আটলান্টিস ,মোহাম্মদী গার্ডেন মহিশাষী, ধামরাই এ অবস্থিত। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ধামরাইয়ের মহিষাশী। এখানেই এই গার্ডেন অবস্থিত। নিজে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না এটা একটা স্বপ্নপুরী নাকি স্বর্গভূমি। বিনোদনের জন্য গার্ডেনের ভিতরে রয়েছে পুকুর। সেই পুকুরে ভেসে বেড়াচ্ছে নৌকা, কাঠের রাজহাঁস, মাটির শাপলা। ফোনঃ ০১৭১৭৩৭৪৯০৪, ০১১৯০২৩৭০৬২

১৬) হাসনাহেনা, গাজীপুর: ঢাকার পাশেই গাজীপুর জেলার পুবাইল কলেজগেটে অবস্থিত তেমনি একটি বেসরকারি বিনোদন পর্যটন কেন্দ্র “হাসনাহেনা”। টঙ্গী থেকে এর দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। পরিবারের সবাইকে নিয়ে কিংবা অফিস বা সংগঠনের দিনব্যাপী পিকনিক বা বনভোজনে এখানে আসা যেতে পারে অনায়াসে। যোগাযোগ :হাসনাহেনা, হাড়িবাড়ীর টেক, পুবাইল কলেজগেট, পুবাইল গাজীপুর। ফোনঃ০১১৯৯৮৭৫৫৭৬, ০১৯১১৪৯৫১২৩, ০১৭১৪০০৩১০৩, ০১৭৩৬৬৭২৪০৮।

১৭) সোহাগপল্লী: ১১ একর উঁচু-নিচু জমিতে সবুজে ঘেরা এই রিসোর্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো জলাশয়ের ওপর নির্মিত অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত ঝুলন্ত সাঁকো আর এর পিলার ও বেলকনিতে খোঁদাই করা বিভিন্ন কারুকাজ- যা আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বিশাল এক জলাশয়ের মাঝখানে ঝুলন্ত সাঁকো থাকায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে বেশি। জলাশয়ের পূর্ব পাশে রয়েছে একটি দ্বিতল রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টটির নাম রাখা হয়েছে মেজবান। শুধু তাই নয়, কৃত্রিমভাবে একটি লেক নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে বর্ষা বা শুষ্ক সবসময়ই পানি থাকে। আর এই লেকের পানিতে বিভিন্ন জাতের মাছের বিচরণ দেখা যায়। ফোনঃ ০১৭১২০৪৯৯০৩-০৪,০১৬১২০৪৯৯০

১৮) আনন্দ রিসোর্ট: গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পরিচিত রিসোর্ট হলো ‘আনন্দ’। আনন্দ রিসোর্টটি নামের সঙ্গে বেশ আবেগের মিল রেখেছে। আনন্দদানের সব উপকরণই এখানে জোগাড় করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু চোখে দেখে নয়, বরং বিভিন্ন খেলার রাইডে চড়ে আনন্দের দেখা মিলবে এখানে। বিলঘেঁষা এই আনন্দ রিসোর্টের বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে সরাসরি বিল থেকে মাছ শিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। মাছ শিকারিদের জন্য এই সুযোগ অবশ্যই বাড়তি পাওনা।ছিপ ফেলে মাছের জন্য অপেক্ষায় কাটবে সময়। এ ছাড়া রয়েছে ছোটদের খেলার নানা উপকরণ। একটি সুইমিং রয়েছে। ৪২ বিঘা উঁচু-নিচু টিলা ভূমিতে গড়ে তোলা হয় আনন্দ রিসোর্ট। কালিয়াকৈরের সিনাবহের তালতলি এলাকায় এর অবস্থান। বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ ও ৬টি কটেজ রয়েছে এখানে। ভাড়া : কটেজগুলোর প্রতিকক্ষ ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া পড়বে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা।
যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুরের চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উঠতে হবে। এই মহাসড়ক ধরে সফিপুর বাজার যেতে হবে। সেখান থেকে ২ কিলোমিটার উত্তরে সিনাবহ বাজারের পাশে এই রিসোর্টের অবস্থান। ফোনঃ০২-৯১২৫৭৭৮,০১৯১৯৩১৮০০৯, ০১৬৭০২৭৫৮৬৪

১৯) জল জঙ্গলের কাব্য, পূবাইল: ঢাকার অদূরে পূবাইলে ৯০ বিঘা জমির উপর গড়ে উঠেছে একটুকরো গ্রাম।বাঁশ আর পাটখড়ির বেড়া ,উপরে ছনের ছাউনি, সামনে দিগন্ত বিস্তৃত জলের নাচন। এটা তেমন আধুনিক জায়গা নয় কিন্তু পরিচ্ছন্ন এবং গ্রাম-বাংলার একটা ছোয়া আছে এর আদলে। অবশ্যই ভাল লাগবে ঘুরে আসুন। ফোনঃ০১৯১৯৭৮২২৪৫, ০১৭১৯৫২৩০১৬

২০) আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট: ঢাকা থেকে মাত্র ত্রিশ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরের ভাওয়ালে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হলিডে রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট। ভাওয়ালের গ্রাম ও শালবনের মাঝে অসাধারণ প্রাকৃতিক আবহাওয়ায় আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে সাজানো আরশিনগর।
অফিষ: ২১/১ ইস্কাটন গার্ডেন , ফ্্যাট ৪/এ , রমনা ঢাকা, ফোনঃ ৯৩৪৪৮৮৯ রিসোর্ট অফিস: পাজৃলিয়া, জয়দেবপুর, গাজীপুর,ফোন :০১৭৩২৩৫৪০০৭,০১৯২৩১১৭০৫৬

২১) ড্রিম স্কয়ার: গাজীপুরের মাওনার অজহিরচালা গ্রামে ‘ড্রিম স্কয়ার’ নামে বিশালাকৃতির বেসরকারি রিসোর্ট রয়েছে। ১২০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট। এর প্রধান আকর্ষণ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজের সমারোহ। ড্রিম স্কয়ারের আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে তেলের ঘানি, ডেইরি ফার্ম, মৎস্য হ্যাচারি, কম্পোস্ট সার প্লান্ট, বায়োগ্যাস প্লান্ট। ড্রিম স্কয়ারের আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো রেস্টুরেন্টের খাবারের সবজি এর ভেতরেই চাষাবাদকৃত, যা সম্পূর্ণ সার ও কীটনাশকমুক্ত। রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বিশালাকৃতির কয়েকটি লেক। রয়েছে ১৬টি ছোট-বড় পুকুর। ভেতরে সবুজে বেষ্টিত বাগানের মাঝখানে রয়েছে জাতীয় মাছ ইলিশের দুটি প্রতিকৃতি। আর বিভিন্ন গাছে রয়েছে বানরের প্রতিকৃতি।

এখানে নানান প্রজাতির পাখির অভয়াশ্রম রয়েছে। ড্রিম স্কয়ারে প্রতি বছর শীতের সময় অতিথি পাখির মেলা বসে। আছে একটি রেস্টুরেন্ট, রয়েছে ওয়াই-ফাই সুবিধা। এখানে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা। ফোনঃ৮৮০-০২-৯৩৩৪১৪৯, ৯৩৪২২০৩, ০১৭৫৫৬৩০৩৩১১

২২) গ্রীনটেক রিসোর্ট: ২০১০ সালে গাজীপুর জেলার ভবানীপুরে প্রায় ৬ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত গ্রীনটেক রিসোর্ট। এখানে রয়েছে ৭৩টি রুম, একটি অডিটেরিয়াম, দুটি কনফরেন্স রুম, একটি সুমিং পুল, দুটি ডায়নিং হল, আর দুটি পুকুর। সম্পূর্ণ শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এখানে রয়েছে ইনডোর, আউটডোর গেমের সকল সুবিধা। পুরো রিসোর্টটি রয়েছে ওয়াই ফাই সংযোগ। এখানে সর্বনিম্ন তিন হাজার থেকে সর্বচ্চো দশ হাজার টাকা পর্যন্ত রুম ভাড়া পাওয়া যায় যোগাযোগ:হোটেল রেডিয়াল প্যালেস,রোড-৮, ব্লক-সি,বনানী, ঢাকা।ফোন: ০১৭১৫১০৫৭৭০,০১৯১৯৩১৮০০৯

কুমিল্লার যত দর্শনীয় স্থান

rupsagar
ঢাকার কাছে কিন্তু একটু দূরে বেড়ানোর জায়গা হিসেবে এক সময় সুখ্যাতি ছিল কুমিল্লার। স্কুলের পিকনিক হবে? কোথায়? কুমিল্লায়। পরিবারের সবাই মিলে দিনে ঘুরে আবার দিনেই ফিরতে চান? কোথায় যাবেন? কুমিল্লায়। তবে জনপ্রিয় কুমিল্লার বিশেষ আকর্ষণ ময়নামতিতে বেড়াতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো জায়গা না পেয়ে দ্রুতই এটি লোক সমাগম হারাতে শুরু করে। এখন ব্যাপারটা এমন যে, কুমিল্লা বেড়াতে যাব? গিয়েছি আগেই! আসলে ময়নামতি যাওয়া হয়েছে আপনার। কুমিল্লায় আছে এমন আরও অনেক জায়গা যা আমরা জানিই না যা দেখতে অন্তত ২/৩ দিন সময় নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। অবাক হলেন তো? আসুন জেনে নিই কি কি আছে কুমিল্লায়-
১। ওয়ার সিমেট্রি
সমাধিক্ষেত্র কোনো দেখার জায়গা নয়। তবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের নিমিত্তে যেতে পারেন এখানে। ১৯৪১ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল এই সময়কালের মধ্যে অর্থাৎ ২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিক্ষেত্র এটি। ৭৩৭ জন শহীদের মরদেহ সমাধিস্ত করা হয়েছিল এখানে। জায়গাটির রক্ষণাবেক্ষণ করে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট সেনাবাহিনী। শহীদদের সবার বয়স ছিল মাত্র ২০ থেকে ২২ বছর। তরুণ সাহসী বীর সন্তানেরা জীবনের শুরুতেই যেন ঝরে গেছে, যুদ্ধে উতসর্গ করে গেছে নিজেদের প্রাণ।
অবস্থানঃ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের তিন রাস্তার মোড়ের দক্ষিণে সুপার মার্কেটের বিপরীতে রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলেই দেখতে পাবেন সমাধিস্থলটি। অর্থাৎ সিলেটগামী সড়কে ১০ মিনিটের মতো হাঁটলেই পেয়ে যাবেন জায়গাটি। পথ চিনতে সমস্যা হলে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তবে ওয়ার সিমেট্রি না বলে বলবেন ইংরেজ কবরস্থান। তাহলেই দেখিয়ে দিবে।
আর আপনি যদি কুমিল্লা কান্দির পাড় থেকে আসেন তাহলে লোকাল সিএনজি করে শাসনগাছা আসবেন। এখান থেকে মাইক্রোবাস বা লেগুনায় করে সরাসরি চলে আসবেন ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট।
২। রূপসাগর
সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত একটি পার্ক এটি। সবুজ ছায়া ঘেরা পার্কটি নিমিষেই দূর করে দেয় সকল ক্লান্তি। শিশুদের নিয়ে বেড়ানোর জন্য চমৎকার জায়গা। মাঝে বন্ধ থাকলেও পার্কটি এখন সবার জন্য উন্মুক্ত আছে। দূরে ছোট ছোট পাহাড় পার্কের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে। মাঝে আছে একটি লেক। বড় একটি ক্যাফেটোরিয়া আছে যেখানে পাবেন সুস্বাদু খাবার।
অবস্থানঃ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পশ্চিম দিকের রাস্তা অর্থাৎ যে সড়কটি ঢাকার দিকে এসেছে সেদিকে ১০ মিনিট হাঁটলেই পাবেন নাজিরা বাজার। এখান থেকে সেনাবাহিনী চেকাপ পয়েন্টের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। লেগুনায়ও যাওয়া যাবে। আর আপনার সহায়তায় স্থানীয় লোকজন তো আছেই।
৩। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লার অবদান, কুমিল্লা সেক্টরের নানান কার্যাবলিসহ যুদ্ধের নানান ঐতিহাসিক বিষয়বস্তুকে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। সমৃদ্ধ একটি জাদুঘর।
অবস্থানঃ রূপসাগর পার্কের কাছেই এর অবস্থান।
৪। রাণীর বাংলো পাহাড়
যে রাণী ময়নামতির নামে খ্যাত কুমিল্লা তার বাংলো এটি। লালমাই-ময়নামতি পাহাড়শ্রেণী থেকে বিচ্ছিন্ন জায়গাটি। সমতল থেকে উচ্চতা ১৫.২৪ মিটার। প্রথম নির্মাণ যুগে এটি ক্রুশাকার মন্দির ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এখানে কিছু অলংকৃত ইট ও পোড়ামাটির ফলক উন্মোচিত হয়েছে। এই জায়গাটিকে ময়নামতির প্রাসাদও বলে।
অবস্থানঃ ওয়ার সিমেট্রি দেখে ঐ পথেই সিএনজি বা অটোতে করে যেতে পারবেন রাণীর বাংলো পাহাড়। বলবেন, ময়নামতি পাহাড় যাব। ব্যাস।
৫। রেশম উন্নয়ন কেন্দ্র
রাণীর বাংলো পাহাড়ের কাছেই রেশম উন্নয়ন কেন্দ্র। রেশম পোকা থেকে চমৎকার সুন্দর আর দামী কাপড় তৈরি হয় এটা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু প্রক্রিয়াটা দেখা হয় নি বেশিরভাগ মানুষেরই। এখানে দেখতে পারবেন পুরো প্রক্রিয়াটিই। ভালো লাগবে আশা করি।
৬। ধর্মসাগর
ধর্মসাগর একটি দিঘীর নাম। ত্রিপুরা রাজ্যের অধিপতি মহারাজ ধর্মানিক্য ১৪৫৮ সালে এই দিঘী খনন করেছিলেন। প্রজাদের পানির অভাব মেটাতেই ছিল এই উদ্যোগ। রাজার নামেই তাই হলো দিঘীর নাম। দিঘীর একপাশে সেই সময়ের তাম্রলিপির দেখা পাবেন আপনি। বিশ্রামের জন্য বাঁধানো আছে বেদী যার নাম অবকাশ।
৭। সবুজ অরণ্য পার্ক
দিঘীতে বেড়ানো শেষে ঘুরে আসুন পাশের সবুজ অরণ্য পার্ক। ড. আখতার হামিদ খানের বাংলো আছে এখানে যা রাণীর কুটির নামে পরিচিত। এছাড়াও আশেপাশেই আছে ধীরেন্দ্রণাথ দত্তের বাড়ি, বিপ্লবী অতীন্দ্র মোহন সেনের বাড়ি। কাজী নজরুল ইসলামের কুমিল্লা অবস্থানকালের নানান স্মৃতিময় নিদর্শন দেখতে পাবেন এখানে। সবুজে ঘেরা পার্কটি মন ভালো করে দেবে আপনার।
অবস্থানঃ কুমিল্লার কান্দিরপাড়। ক্যান্টনমেন্ট থেকে প্রথমে লেগুনায় আসুন শাসনগাছা। সেখান থেকে সিএনজি বা রিকশায় কান্দিরপাড়। কান্দিরিপাড় পূবালী চত্বর থেকে বাহার মার্কেটের সামনে দিয়ে যেতে হবে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়। এখান থেকে আরেকটু এগিয়ে গেলে পেয়ে যাবেন ধর্মসাগর। ধর্মসাগরের পাড় ধরে পূর্ব দিকে হাঁটতে থাকলে পাবেন অবকাশ। আরও এগিয়ে গেলে দেখা মিলবে সবুজ অরণ্যের।
পার্কে দেখবেন রাণীর কুটির আর নজরুল এভিনিউ। এখান থেকে পূর্বে হাঁটতে থাকলে পাবেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, এরপরই নজরুল একাডেমি। এখান থেকে যাবেন ভিক্টোরিয়া কলেজ, ক্যাম্পাসে দেখা মিলবে নজরুল স্মৃতি স্থাপক ও শহীদ মিনারের।
৮। বিনোদন কেন্দ্র ফান টাউন
২০১৬ সাল অর্থাৎ গত বছরই নতুন চালু হওয়া বিনোদন কেন্দ্র এটি। নানান রকম রাইড, কৃত্রিম ঝর্ণা, ১৫ডি সিনেমা হল সব মিলিয়ে শিশুদের নিয়ে মজার সময় কাটাতে চাইলে দারুণ একটি জায়গা এটি। টিকিট মূল্য- ৫০ থেকে ১০০ টাকা। প্রতি রাইডের টিকিট মূল্য ৫০ টাকা।
অবস্থানঃ কুমিল্লা টমটম ব্রিজ থেকে অটোরিকশায় আসতে হবে কুমিল্লা এয়ারপোর্ট রোড। ফান টাউন বললেই নামিয়ে দিবে আপনাকে। ধর্মসাগর দেখে সেখান থেকেই আসতে পারবেন টমটম ব্রীজ, তারপর এখানে।
৯। ইকোপার্ক
ফান টাউনে না নেমে আরেকটু এগিয়ে গিয়ে নামতে পারেন ইকোপার্কে। অথবা ফান টাউন দেখেও যেতে পারেন। একই পথে পড়েছে পার্কটি। সবুজ ছায়া ঘেরা পার্কটি ক্লান্ত বিকেল আলসেমি করে কাটিয়ে দেওয়ার জন্য চমৎকার।
এখানেই শেষ নয়। কুমিল্লায় আছে দেখার মতো আরও অনেক কিছু। সেসব জায়গা নিয়ে কথা হবে এই লেখার আগামী পর্বে। শুভ হোক আপনার ভ্রমণ।

১০। বার্ড
নাম বার্ড। মনে হয় যেন অনেক পাখির দেখা মিলবে এখানে। কিন্তু না। এটি একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি। বিভিন্ন পেশার মানুষেরা তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ নিতে আসেন এখানে। তবে জায়গাটি খুব সুন্দর। যেমন ছায়া ঘেরা, তেমন শান্ত সুনিবিড়। বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ড. আখতার হামিদ খান।
অবস্থানঃ কুমিল্লা টমটম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ির সিএনজিতে উঠুন। বার্ডে নামবেন বললেই হবে। তবে যাওয়ার আগে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে যাবেন। জাতীয় দিবসগুলোতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এমনিতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ।

ঐতিহ্যের বাগেরহাট

ষাটগম্বুজ মসজিদ
খুলনায় গিয়েছিলাম কাজে। কাজ শেষে অতিরিক্ত একটা দিন পেয়ে গেলাম। ঠিক করলাম পাশের জেলা বাগেরহাটে ঘুরে যাই। খুলনা থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে বাগেরহাট সদরে সরাসরি বাসে যাওয়া যায়। দুই পাশে গাছের সারি। পিচঢালা রাস্তার আশপাশ উপভোগ করার জন্য নেমে গেলাম নওয়াপাড়া মোড়েই। সেখানে মোটরচালিত ভ্যানে করে ছুটলাম সদরে। গ্রামের দিকে এখন বাতাসে শীতের আমেজ। দর্শনীয় জায়গা বলতে আছে—হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার, ষাট গম্বুজ মসজিদ আর দুটি পার্ক।

হিসাব করে তাই প্রথমে চলে গেলাম খান জাহান আলীর মাজারে। খান জাহান আলী ছিলেন সুফিসাধক ও যোদ্ধা। এই সাধকের মাজারের সামনেই বিশাল এক দিঘি, যেখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি কুমির। যদিও আমরা থাকা অবস্থায় কুমির মহাশয় পানির ওপর মুখ তোলেননি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অনেক লোক আসে এই মাজারে। সেখান থেকে বের হয়ে পরবর্তী গন্তব্য খান জাহান আলীর নির্মাণ করা ষাট গম্বুজ মসজিদ। হাঁটাপথ। তাই হেঁটেই রওনা দিলাম। ১০ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম সেখানে।

খান জাহান আলী বাগেরহাটের পশ্চিম প্রান্তে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ষোলো শতকের দিকে শহরটি খলিফাতাবাদ নামে পরিচিত ছিল। শহরটিতে বেশ কিছু মসজিদ, জলাশয়, ইমারত ও রাস্তা ছিল, যার সিংহভাগই আজ বিলুপ্ত। ষাট গম্বুজ মসজিদ সেই সময়েরই এক নিদর্শন। স্থাপত্যিক নিদর্শন হিসেবে ও বিশ্বজনীন গুরুত্ব থাকায় ১৯৮৫ সালে মসজিদটিকে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পোড়ামাটির তৈরি টালি ইট, চুন সুরকি, পাথর ও টেরাকাটা দিয়ে পনেরো শতকে নির্মিত মসজিদটি তুরস্কের স্থাপত্য দ্বারা প্রভাবিত। নাম ষাট গম্বুজ হলেও এই মসজিদে গম্বুজের সংখ্যা ৮১। মসজিদের ভেতরে খাম্বা আছে ৬০টি ও মেহরাব ১০টি। মসজিদের তিন দিকে খিলান দরজার সংখ্যা ২৫। মসজিদের দুদিকে দাঁড়িয়ে আছে দুটি বটগাছ। বয়সের ভারে তারাও নুয়ে আছে। মসজিদের সামনে বড় দিঘি ও পার্ক। প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো এই মসজিদের কথা ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে সবারই পড়া।

একে সামনাসামনি দেখতে পারার আনন্দ তাই অন্য রকম। মসজিদ এলাকার এক পাশে ছোট একটি জাদুঘরে প্রাচীন কিছু মুদ্রা ও নিদর্শন চোখে পড়ে। খোলামেলা এই এলাকায় বেড়াতে মন্দ লাগবে না।

কীভাবে যাবেন: ঢাকার গুলিস্তান থেকে সরাসরি বাস আছে বাগেরহাটে যাওয়ার। আবার মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে লঞ্চ বা ফেরিতে পদ্মা নদী পার হয়ে কাঁঠালবাড়ি থেকে বাসে সরাসরি বাগেরহাটে যেতে পারেন। এই সড়কটাও চমৎকার। গাবতলী থেকেও বাগেরহাটে যাওয়ার বাস ছাড়ে। যাঁরা সময় নিয়ে যাবেন, তাঁরা বাগেরহাট থেকে মোংলায় গিয়ে সেখান থেকে মোটরচালিত নৌকায় চড়ে সুন্দরবনে ঘুরে আসতে পারেন। বলে রাখা ভালো, বাগেরহাটে থাকার ব্যবস্থা তেমন নেই। দু-একটা হোটেল রয়েছে সাধারণ মানের।